ঢাকা    বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অপরাধ

ফেসবুক পোস্টের পর পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 ফেসবুক পোস্টের পর পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ফেসবুক পোস্টের পর পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় মো. সাইদুল ইসলাম (১৯) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের বাবা মো. ছাদেক (৫৭)।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী ও শাশুড়ির অপমান-অপদস্থের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে সাইদুল ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

গত সোমবার রাতে ডেমরা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে মামলার আসামিদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

সাইদুল ইসলামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামে। তিনি পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ‘সি’ কোম্পানিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার বাদী ছাদেক জানান, তিনি ভ্যানগাড়িতে বেকারির পণ্য বিক্রি করে সংসার চালান। অনেক কষ্ট করে আয় ও ঋণের অর্থ দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ছেলে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তার আয়ে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরবে—এমন আশা ছিল তাদের।

ছাদেকের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ মে রুবাইয়ার সঙ্গে সাইদুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২২ মে পরীক্ষায় অংশ নিতে রুবাইয়া সাইদুলের বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যান। সেদিনই তিনি মাদ্রাসা থেকে বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরে ২৫ মে রুবাইয়া শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এসে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে আবার বাবার বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ করেন সাইদুলের বাবা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা সাইদুলকে গালাগাল করেন এবং তাকে গরিব ও ছোটলোক বলে অপমান করেন। এসব অপমান সহ্য করতে না পেরে ১৬ জুলাই রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাইদুল আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করেন তার বাবা।

ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা জানান, রাজাখালী সাকিন এলাকার পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ২০ তলা ভবনের নবম তলার ৯০৯ নম্বর কক্ষে সাইদুল ইসলাম সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ইনচার্জ (ডিসি) কাজী নুসরাত লুনা জানান, কয়েকদিন ধরে সাইদুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এছাড়া ফেসবুক পোস্টে সাইদুল আবেগঘন কিছু বিষয় তুলে ধরেছিলেন।

এর আগে এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


ফেসবুক পোস্টের পর পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় মো. সাইদুল ইসলাম (১৯) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের বাবা মো. ছাদেক (৫৭)।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী ও শাশুড়ির অপমান-অপদস্থের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে সাইদুল ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

গত সোমবার রাতে ডেমরা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে মামলার আসামিদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

সাইদুল ইসলামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামে। তিনি পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ‘সি’ কোম্পানিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার বাদী ছাদেক জানান, তিনি ভ্যানগাড়িতে বেকারির পণ্য বিক্রি করে সংসার চালান। অনেক কষ্ট করে আয় ও ঋণের অর্থ দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ছেলে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তার আয়ে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরবে—এমন আশা ছিল তাদের।

ছাদেকের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ মে রুবাইয়ার সঙ্গে সাইদুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২২ মে পরীক্ষায় অংশ নিতে রুবাইয়া সাইদুলের বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যান। সেদিনই তিনি মাদ্রাসা থেকে বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরে ২৫ মে রুবাইয়া শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এসে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে আবার বাবার বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ করেন সাইদুলের বাবা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা সাইদুলকে গালাগাল করেন এবং তাকে গরিব ও ছোটলোক বলে অপমান করেন। এসব অপমান সহ্য করতে না পেরে ১৬ জুলাই রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাইদুল আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করেন তার বাবা।

ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা জানান, রাজাখালী সাকিন এলাকার পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ২০ তলা ভবনের নবম তলার ৯০৯ নম্বর কক্ষে সাইদুল ইসলাম সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ইনচার্জ (ডিসি) কাজী নুসরাত লুনা জানান, কয়েকদিন ধরে সাইদুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এছাড়া ফেসবুক পোস্টে সাইদুল আবেগঘন কিছু বিষয় তুলে ধরেছিলেন।

এর আগে এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ফেসবুক পোস্টের পর পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
0:00 0:00
1.0x