জীবনের নির্মম বাস্তবতার সাথে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনুকরণীয় ও হৃদয়বিদারক নজির স্থাপন করেছেন বাগেরহাটের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। যার কাঁধে একদিকে পিতৃহারা হওয়ার গভীর শোক, অন্যদিকে পরিবারের দায়িত্ব আর ভবিষ্যৎ গড়ার কঠিন লড়াই।
বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়া ও রাবেয়া দম্পতির ছোট ছেলে ইকন। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার পরিবারে নেমে আসা দুর্ভাগ্যের চিত্রটি এককথায় মর্মান্তিক।
ইকনদের পরিবারে মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। তার বড় ভাই ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে পরিবারের একমাত্র ভরসা ও দায়িত্ব এসে বর্তায় ছোট ছেলে ইকন কাঁধে।
বাবার আকস্মিক মৃত্যু হয় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জোহরের নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন করে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে মায়ের কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
পরম আশ্রয়েরস্থল বাবাকে হারিয়ে বুকফাটা কান্না আর গভীর শোক নিয়েই ইকনকে রাতেই ফিরতে হয় কর্মস্থলে। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ জোগাতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করে মঙ্গলবার রাতেও তাকে নির্দিষ্ট সময়ে বুথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সকালে এইচএসসি পরীক্ষা রাতের পুরো সময়টা এটিএম বুথে পাহারা দিয়ে ও বই হাতে পড়ালেখা করে, পরদিন সকালেই তাকে অংশ নিতে হয় এইচএসসি পরীক্ষার হলে।
পড়াশোনা, জীবিকা এবং পরিবারের টানাপোড়েনের মাঝে ইকনের এই আপসহীন লড়াই প্রমাণ করে ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও জয় করা সম্ভব। তার এই দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তি স্থানীয় এলাকাবাসীসহ পুরো দেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
জীবনের নির্মম বাস্তবতার সাথে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনুকরণীয় ও হৃদয়বিদারক নজির স্থাপন করেছেন বাগেরহাটের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। যার কাঁধে একদিকে পিতৃহারা হওয়ার গভীর শোক, অন্যদিকে পরিবারের দায়িত্ব আর ভবিষ্যৎ গড়ার কঠিন লড়াই।
বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়া ও রাবেয়া দম্পতির ছোট ছেলে ইকন। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার পরিবারে নেমে আসা দুর্ভাগ্যের চিত্রটি এককথায় মর্মান্তিক।
ইকনদের পরিবারে মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। তার বড় ভাই ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে পরিবারের একমাত্র ভরসা ও দায়িত্ব এসে বর্তায় ছোট ছেলে ইকন কাঁধে।
বাবার আকস্মিক মৃত্যু হয় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জোহরের নামাজ শেষে জানাজা সম্পন্ন করে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে মায়ের কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
পরম আশ্রয়েরস্থল বাবাকে হারিয়ে বুকফাটা কান্না আর গভীর শোক নিয়েই ইকনকে রাতেই ফিরতে হয় কর্মস্থলে। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ জোগাতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করে মঙ্গলবার রাতেও তাকে নির্দিষ্ট সময়ে বুথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সকালে এইচএসসি পরীক্ষা রাতের পুরো সময়টা এটিএম বুথে পাহারা দিয়ে ও বই হাতে পড়ালেখা করে, পরদিন সকালেই তাকে অংশ নিতে হয় এইচএসসি পরীক্ষার হলে।
পড়াশোনা, জীবিকা এবং পরিবারের টানাপোড়েনের মাঝে ইকনের এই আপসহীন লড়াই প্রমাণ করে ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও জয় করা সম্ভব। তার এই দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তি স্থানীয় এলাকাবাসীসহ পুরো দেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন