ঢাকা    শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জুলাই বিপ্লব

গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু রিয়া, পাঁচ দিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার দুই সমন্বয়ক

গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু রিয়া, পাঁচ দিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার দুই সমন্বয়ক
গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু রিয়া, পাঁচ দিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার দুই সমন্বয়ক

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ২৪ তারিখও ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে ঘেরা একটি দিন। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন দুই সমন্বয়ককে চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই দিনে টানা তিন দিনের নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটির পর সরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয় এবং কারফিউ শিথিলের সময়ও বাড়ানো হয়। এ সময় আন্দোলন দমনে জাতিসংঘের লোগোসংবলিত যান ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

২০২৪ সালের জুলাইজুড়ে দেশজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। হামলা, মামলা, গুম ও নির্যাতনের নানা ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার মধ্যেও তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখে।

২৪ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শিশু রিয়া গোপসহ আরও অনেকে নিহত হন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর ২৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদারের সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায় এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে চাপ দিয়ে নির্যাতন চালায়।

সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেন, তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঝুলিয়ে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করা হয়।

সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, তৎকালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনের নেতৃত্বকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন দমন করা। তবে আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেকেই নেতৃত্বে চলে আসায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

এদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের দায় ছাত্র-জনতার ওপর আরোপ করেন। তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে শিবির-জামায়াতের কর্মীরা ঢুকে পড়েছে।

অন্যদিকে, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আন্দোলনকারীরা রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফাহাদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে পুলিশের ছোড়া চাইনিজ রাইফেলের গুলিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী নিহত হন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, অত্যাচার-নির্যাতনে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়। এ কারণেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল।

একই দিনে জাতিসংঘের লোগোসংবলিত যান ব্যবহারের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এর জবাবে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হাছান মাহমুদ বলেন, জাতিসংঘের লোগো ভুলবশত মুছে ফেলা হয়নি।

অন্যদিকে, ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, ইন্টারনেট নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে গেছে।’

জুলাইয়ের ওই সময়ে আন্দোলনের সামনের সারির সমন্বয়কদের গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রাজপথে গুলি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৃঢ় অবস্থান আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়।

সূত্র: সময় টিভি
ছবি: সময় টিভি

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু রিয়া, পাঁচ দিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার দুই সমন্বয়ক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ২৪ তারিখও ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে ঘেরা একটি দিন। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন দুই সমন্বয়ককে চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই দিনে টানা তিন দিনের নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটির পর সরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয় এবং কারফিউ শিথিলের সময়ও বাড়ানো হয়। এ সময় আন্দোলন দমনে জাতিসংঘের লোগোসংবলিত যান ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

২০২৪ সালের জুলাইজুড়ে দেশজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। হামলা, মামলা, গুম ও নির্যাতনের নানা ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার মধ্যেও তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখে।

২৪ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শিশু রিয়া গোপসহ আরও অনেকে নিহত হন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর ২৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদারের সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায় এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে চাপ দিয়ে নির্যাতন চালায়।

সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেন, তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঝুলিয়ে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করা হয়।

সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, তৎকালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনের নেতৃত্বকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন দমন করা। তবে আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেকেই নেতৃত্বে চলে আসায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

এদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের দায় ছাত্র-জনতার ওপর আরোপ করেন। তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে শিবির-জামায়াতের কর্মীরা ঢুকে পড়েছে।

অন্যদিকে, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আন্দোলনকারীরা রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফাহাদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে পুলিশের ছোড়া চাইনিজ রাইফেলের গুলিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী নিহত হন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, অত্যাচার-নির্যাতনে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়। এ কারণেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল।

একই দিনে জাতিসংঘের লোগোসংবলিত যান ব্যবহারের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এর জবাবে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হাছান মাহমুদ বলেন, জাতিসংঘের লোগো ভুলবশত মুছে ফেলা হয়নি।

অন্যদিকে, ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, ইন্টারনেট নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে গেছে।’

জুলাইয়ের ওই সময়ে আন্দোলনের সামনের সারির সমন্বয়কদের গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রাজপথে গুলি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৃঢ় অবস্থান আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়।

সূত্র: সময় টিভি
ছবি: সময় টিভি


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু রিয়া, পাঁচ দিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার দুই সমন্বয়ক
0:00 0:00
1.0x