অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে গেছে এবং তিনি ঘরেই অবস্থান করছেন। তার দাবি, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো দেখাই হয়নি, তাই তাকে দেখা করতে বলার প্রশ্নই আসে না।
আশরাফ উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, নরসিংদীতে কয়েকজন নারী সদস্যকে নিয়ে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র গড়ে তুলেছেন জেলার আলোচিত-সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ রানা বাবুল। তার ভাষ্য, এই চক্র বিএনপি নেতাসহ সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করতে বিভিন্ন সময় নারীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশ করায় এবং পরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে। তিনি আরও বলেন, এই চক্রের অন্যতম সহযোগী রেজোয়ানা শারমীন ইভাও নরসিংদীর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন।
শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে অভিযোগ করেন, আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। বিনিময়ে তাকে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও আশরাফ উদ্দিন আকন্দ গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করেছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। এমন অবস্থায় রাত ১২টার সময় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় ওই নারী তার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তিনি তা দিতে না পারায় এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছেন। তার জানা অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিন এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা নয়। তিনি তাকে ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তিনি ঘরেই রয়েছেন এবং বাইরে বের হতে পারেন না। তাই এমন প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
তিনি আরও বলেন, শিবপুরে এখনো ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়নি। তাই এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে, তা তার বোধগম্য নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগকারী নারী সম্পর্কে তার নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: যুগান্তর।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন আকন্দ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে গেছে এবং তিনি ঘরেই অবস্থান করছেন। তার দাবি, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো দেখাই হয়নি, তাই তাকে দেখা করতে বলার প্রশ্নই আসে না।
আশরাফ উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, নরসিংদীতে কয়েকজন নারী সদস্যকে নিয়ে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র গড়ে তুলেছেন জেলার আলোচিত-সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ রানা বাবুল। তার ভাষ্য, এই চক্র বিএনপি নেতাসহ সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করতে বিভিন্ন সময় নারীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশ করায় এবং পরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে। তিনি আরও বলেন, এই চক্রের অন্যতম সহযোগী রেজোয়ানা শারমীন ইভাও নরসিংদীর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন।
শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে অভিযোগ করেন, আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। বিনিময়ে তাকে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও আশরাফ উদ্দিন আকন্দ গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করেছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। এমন অবস্থায় রাত ১২টার সময় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় ওই নারী তার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তিনি তা দিতে না পারায় এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছেন। তার জানা অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিন এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা নয়। তিনি তাকে ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তিনি ঘরেই রয়েছেন এবং বাইরে বের হতে পারেন না। তাই এমন প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
তিনি আরও বলেন, শিবপুরে এখনো ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়নি। তাই এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে, তা তার বোধগম্য নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগকারী নারী সম্পর্কে তার নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: যুগান্তর।

আপনার মতামত লিখুন