ঢাকা    রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে ডিসি-ত্রাণকর্তার অন্তর্কোন্দল, ফেরত গেল ৪১ লাখ টাকা

কুড়িগ্রামে ডিসি-ত্রাণকর্তার অন্তর্কোন্দল, ফেরত গেল ৪১ লাখ টাকা
সংগ্রহীত

দেশের অন্যতম শীতপ্রবণ ও দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রাম। প্রতিবছর শীতের তীব্রতায় এ জেলার চরাঞ্চলসহ হাজারো নিম্নআয়ের পরিবার সরকারি কম্বলের আশায় দিন গোনে। 

কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক ও ত্রাণ কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দুস্থদের কম্বল ক্রয়ের ৪১ লাখ টাকা অব্যবহৃত থাকায় সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে, এ জেলার শীতার্তরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় মতবিরোধের কারণে এই অর্থ ছাড় থেমে যায়।অনুসন্ধানে পাওয়া সরকারি নথি বলছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের অনুকূলে ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা কম্বল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়। পরে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ আরেক আদেশে ওই বরাদ্দ জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে ত্রাণ কর্মকর্তার অনুকূলে দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও সময়মতো ক্রয় কার্যক্রম এগোয়নি।সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা ছিল, কম্বল ক্রয়ে পিপিএ-২০০৬, পিপিআর-২০০৮ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে ই-জিপি পদ্ধতিতে ক্রয় সম্পন্ন করতে হবে। 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন কুড়িগ্রামের মানুষ কনকনে শীতে কষ্টে রাত কাটাচ্ছিল, তখন কেন সময়মতো কম্বল কেনা হলো না? কেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতার দায় বইতে হলো অসহায় মানুষকে?

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কম্বল কেনার অর্থ ব্যয় নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং তৎকালীন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সেই টানাপড়েনের জেরেই সময় গড়াতে থাকে। একপর্যায়ে শীত মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে গেলে বরাদ্দের অর্থ আর খরচ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “কম্বল কেনা নিয়ে ডিসি স্যার আর ত্রাণ কর্মকর্তার মধ্যে অন্তর্কোন্দল চলছিল। ডিসি স্যার তার মতো করে টাকাটা খরচ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে আপত্তি জানান ত্রাণ কর্মকর্তা। দু’জনের মনোমালিন্যের কারণেই শেষ পর্যন্ত কম্বলের টাকাটা ফেরত চলে যায়।”

বর্তমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। কী কারণে কম্বল ক্রয়ের টাকা ফেরত গেছে, তা আমার জানা নেই। 

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

সুশাসন কর্মীরা বলছেন, সরকারি অর্থ ফেরত যাওয়ার ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতারও বড় উদাহরণ। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বলি হয়ে শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হয়েছেন সেই মানুষগুলোইÑ যাদের জন্য রাষ্ট্র এই অর্থ বরাদ্দ করেছিল।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


কুড়িগ্রামে ডিসি-ত্রাণকর্তার অন্তর্কোন্দল, ফেরত গেল ৪১ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের অন্যতম শীতপ্রবণ ও দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রাম। প্রতিবছর শীতের তীব্রতায় এ জেলার চরাঞ্চলসহ হাজারো নিম্নআয়ের পরিবার সরকারি কম্বলের আশায় দিন গোনে। 


কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক ও ত্রাণ কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দুস্থদের কম্বল ক্রয়ের ৪১ লাখ টাকা অব্যবহৃত থাকায় সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে, এ জেলার শীতার্তরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় মতবিরোধের কারণে এই অর্থ ছাড় থেমে যায়।অনুসন্ধানে পাওয়া সরকারি নথি বলছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের অনুকূলে ৪০ লাখ ১৫ হাজার টাকা কম্বল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়। পরে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ আরেক আদেশে ওই বরাদ্দ জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে ত্রাণ কর্মকর্তার অনুকূলে দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও সময়মতো ক্রয় কার্যক্রম এগোয়নি।সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা ছিল, কম্বল ক্রয়ে পিপিএ-২০০৬, পিপিআর-২০০৮ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে ই-জিপি পদ্ধতিতে ক্রয় সম্পন্ন করতে হবে। 


স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন কুড়িগ্রামের মানুষ কনকনে শীতে কষ্টে রাত কাটাচ্ছিল, তখন কেন সময়মতো কম্বল কেনা হলো না? কেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতার দায় বইতে হলো অসহায় মানুষকে?


অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কম্বল কেনার অর্থ ব্যয় নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং তৎকালীন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সেই টানাপড়েনের জেরেই সময় গড়াতে থাকে। একপর্যায়ে শীত মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে গেলে বরাদ্দের অর্থ আর খরচ করা হয়নি।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “কম্বল কেনা নিয়ে ডিসি স্যার আর ত্রাণ কর্মকর্তার মধ্যে অন্তর্কোন্দল চলছিল। ডিসি স্যার তার মতো করে টাকাটা খরচ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে আপত্তি জানান ত্রাণ কর্মকর্তা। দু’জনের মনোমালিন্যের কারণেই শেষ পর্যন্ত কম্বলের টাকাটা ফেরত চলে যায়।”


বর্তমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। কী কারণে কম্বল ক্রয়ের টাকা ফেরত গেছে, তা আমার জানা নেই। 


এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 


সুশাসন কর্মীরা বলছেন, সরকারি অর্থ ফেরত যাওয়ার ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতারও বড় উদাহরণ। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বলি হয়ে শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হয়েছেন সেই মানুষগুলোইÑ যাদের জন্য রাষ্ট্র এই অর্থ বরাদ্দ করেছিল।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কুড়িগ্রামে ডিসি-ত্রাণকর্তার অন্তর্কোন্দল, ফেরত গেল ৪১ লাখ টাকা
0:00 0:00
1.0x