বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলন করেননি। পরিস্থিতির কারণে তাদের ক্ষমতায় যেতে হয়েছে। তবে বিএনপি সংস্কার না করেই নির্বাচনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের, কিন্তু কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের এই প্রচারণা টিকবে না। কারা এসব করছে, সেটিও তাদের জানা রয়েছে। তিনি বলেন, তারা ধৈর্য ধারণ করছেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও একইভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে যদি দেশের কোথাও আঘাত করা হয় বা কটূক্তির শিকার হতে হয়, তাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো দল বা কোনো গণমাধ্যমকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশের ১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আন্দোলন করা হয়েছে। শুরু থেকেই তারা বলে আসছেন, নতুন সংবিধানের মাধ্যমেই এই ১ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। তার দাবি, বাহাত্তরের সংবিধানেই ফ্যাসিবাদের বীজ রোপণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ওই সংবিধানকে বহাল রাখার চেষ্টা করছে। যদিও তারা সংশোধন কমিটি গঠন করেছে এবং একসময় সংস্কারের অবস্থানে এসেছিল, এখন সেই অবস্থান থেকেও সরে এসেছে। সংস্কারের বিষয়টি বাদ দেওয়া হলে তারা নতুন সংবিধানের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন, তাহলে বিমানবন্দর থেকেই তাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণ, ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবার, তিন লাখ আহত ব্যক্তি এবং লাখো ছাত্র-জনতা সেদিন ঢাকার রাজপথে অবস্থান করবে। তাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তার অধিকাংশই এখনো পূরণ হয়নি। তার ভাষ্য, অনেক আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্য এখনো ন্যায়বিচার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই সেই রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। পাশাপাশি আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের কোনো বিতর্কিত তালিকা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও সফরের সময় আহত যোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সিভিল সার্জন ও ডিসিকে বলে আহত না হওয়া দলীয় লোকদের নাম আহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, বিএনপি তাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করতে ব্যস্ত ছিল। তবে তিনি বলেন, তাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই, কারণ তারা স্বীকার করেন যে বিএনপি সেখানে ছিল।
আলোচনা সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য এবং এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: মানবজমিন

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলন করেননি। পরিস্থিতির কারণে তাদের ক্ষমতায় যেতে হয়েছে। তবে বিএনপি সংস্কার না করেই নির্বাচনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের, কিন্তু কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের এই প্রচারণা টিকবে না। কারা এসব করছে, সেটিও তাদের জানা রয়েছে। তিনি বলেন, তারা ধৈর্য ধারণ করছেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও একইভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে যদি দেশের কোথাও আঘাত করা হয় বা কটূক্তির শিকার হতে হয়, তাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো দল বা কোনো গণমাধ্যমকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশের ১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আন্দোলন করা হয়েছে। শুরু থেকেই তারা বলে আসছেন, নতুন সংবিধানের মাধ্যমেই এই ১ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। তার দাবি, বাহাত্তরের সংবিধানেই ফ্যাসিবাদের বীজ রোপণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ওই সংবিধানকে বহাল রাখার চেষ্টা করছে। যদিও তারা সংশোধন কমিটি গঠন করেছে এবং একসময় সংস্কারের অবস্থানে এসেছিল, এখন সেই অবস্থান থেকেও সরে এসেছে। সংস্কারের বিষয়টি বাদ দেওয়া হলে তারা নতুন সংবিধানের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামবেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন, তাহলে বিমানবন্দর থেকেই তাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণ, ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবার, তিন লাখ আহত ব্যক্তি এবং লাখো ছাত্র-জনতা সেদিন ঢাকার রাজপথে অবস্থান করবে। তাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তার অধিকাংশই এখনো পূরণ হয়নি। তার ভাষ্য, অনেক আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্য এখনো ন্যায়বিচার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই সেই রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। পাশাপাশি আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের কোনো বিতর্কিত তালিকা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও সফরের সময় আহত যোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সিভিল সার্জন ও ডিসিকে বলে আহত না হওয়া দলীয় লোকদের নাম আহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্য, বিএনপি তাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করতে ব্যস্ত ছিল। তবে তিনি বলেন, তাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই, কারণ তারা স্বীকার করেন যে বিএনপি সেখানে ছিল।
আলোচনা সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য এবং এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: মানবজমিন

আপনার মতামত লিখুন