৪০ বছর বয়সী আমরান হোসেন লেবার পার্টির সাবেক প্রার্থী ছিলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদে চাকরি পেতেও তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে আদালত ও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে নর্থ ইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসন থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন আমরান। বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন।
২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এনএইচএস ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে তিনি মোট ২ হাজার ৭১টি চাকরির আবেদন করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্কবেক ইউনিভার্সিটির ভুয়া মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ এবং নিজের নিয়ন্ত্রিত ভুয়া ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তৈরি করা রেফারেন্সের মাধ্যমে তিনি ১৩টি জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পান। এসবের মধ্যে বছরে ৭৮ হাজার পাউন্ডের বেশি বেতনের পদও ছিল।
উচ্চ বেতনের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি কৌশল পরিবর্তন করতেন। পোস্ট-কোভিড জটিলতা, ক্লান্তি, মাইগ্রেন ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার অজুহাতে দীর্ঘ সময় অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকতেন। তার মোট ১ হাজার ৯০২ দিনের চাকরিজীবনের মধ্যে ১ হাজার ৩৩২ দিনই তিনি অসুস্থতার ছুটিতে কাটান। অর্থাৎ চাকরির প্রায় ৭০ শতাংশ সময় কোনো দায়িত্ব পালন না করেই সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার পাউন্ড গ্রহণ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাইরে কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিল, নটিংহাম সিটি কেয়ার পার্টনারশিপ এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সিতেও তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি পুলিশি জামিনে থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালে ওয়েস্টারহাম টাউন কাউন্সিলের স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবেও নির্বাচিত হন।
২০২১ সালে ডেভন পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে ৯০ হাজার পাউন্ড বেতনের ডেপুটি চিফ অপারেটিং অফিসার পদে আবেদন করার সময় তার প্রতারণা ধরা পড়ে। নিয়োগের প্রাক-যাচাইয়ে এনএইচএস ইলেকট্রনিক স্টাফ রেকর্ড (ইএসআর) সিস্টেমে দেওয়া কর্ম-অভিজ্ঞতার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কখনোই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা বার্কবেক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন না।
২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর কেন্টের ওয়েস্টারহামে লর্ড অ্যাস্টরের এস্টেটের একটি ভাড়া কটেজ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিচার চলাকালে নিজেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য দাবি করলেও আদালতে সেই দাবিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরে প্রতারণার তিনটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির অপারেশন্স প্রধান বেন হ্যারিসন বলেন, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে আমরান হোসেন এনএইচএসের উচ্চপদগুলোতে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জনআস্থাও নষ্ট করেছে।
কারাদণ্ড ঘোষণার পর তার আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধারে ‘প্রসিডস অব ক্রাইম অ্যাক্ট’-এর আওতায় আইনি বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এনএইচএস এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম সনদ যাচাই এবং আরও কঠোর প্রাক-নিয়োগ যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
৪০ বছর বয়সী আমরান হোসেন লেবার পার্টির সাবেক প্রার্থী ছিলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদে চাকরি পেতেও তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে আদালত ও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে নর্থ ইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসন থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন আমরান। বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন।
২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এনএইচএস ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে তিনি মোট ২ হাজার ৭১টি চাকরির আবেদন করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্কবেক ইউনিভার্সিটির ভুয়া মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ এবং নিজের নিয়ন্ত্রিত ভুয়া ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তৈরি করা রেফারেন্সের মাধ্যমে তিনি ১৩টি জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পান। এসবের মধ্যে বছরে ৭৮ হাজার পাউন্ডের বেশি বেতনের পদও ছিল।
উচ্চ বেতনের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি কৌশল পরিবর্তন করতেন। পোস্ট-কোভিড জটিলতা, ক্লান্তি, মাইগ্রেন ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার অজুহাতে দীর্ঘ সময় অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকতেন। তার মোট ১ হাজার ৯০২ দিনের চাকরিজীবনের মধ্যে ১ হাজার ৩৩২ দিনই তিনি অসুস্থতার ছুটিতে কাটান। অর্থাৎ চাকরির প্রায় ৭০ শতাংশ সময় কোনো দায়িত্ব পালন না করেই সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার পাউন্ড গ্রহণ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাইরে কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিল, নটিংহাম সিটি কেয়ার পার্টনারশিপ এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সিতেও তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি পুলিশি জামিনে থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালে ওয়েস্টারহাম টাউন কাউন্সিলের স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবেও নির্বাচিত হন।
২০২১ সালে ডেভন পার্টনারশিপ এনএইচএস ট্রাস্টে ৯০ হাজার পাউন্ড বেতনের ডেপুটি চিফ অপারেটিং অফিসার পদে আবেদন করার সময় তার প্রতারণা ধরা পড়ে। নিয়োগের প্রাক-যাচাইয়ে এনএইচএস ইলেকট্রনিক স্টাফ রেকর্ড (ইএসআর) সিস্টেমে দেওয়া কর্ম-অভিজ্ঞতার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কখনোই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা বার্কবেক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন না।
২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর কেন্টের ওয়েস্টারহামে লর্ড অ্যাস্টরের এস্টেটের একটি ভাড়া কটেজ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিচার চলাকালে নিজেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য দাবি করলেও আদালতে সেই দাবিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরে প্রতারণার তিনটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির অপারেশন্স প্রধান বেন হ্যারিসন বলেন, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে আমরান হোসেন এনএইচএসের উচ্চপদগুলোতে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জনআস্থাও নষ্ট করেছে।
কারাদণ্ড ঘোষণার পর তার আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধারে ‘প্রসিডস অব ক্রাইম অ্যাক্ট’-এর আওতায় আইনি বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এনএইচএস এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম সনদ যাচাই এবং আরও কঠোর প্রাক-নিয়োগ যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

আপনার মতামত লিখুন