হিরোশিমায় 'Little Boy' নামের ইউরেনিয়ামভিত্তিক বোমাটি এবং নাগাসাকিতে 'Fat Man' নামের প্লুটোনিয়ামভিত্তিক বোমাটি ব্যবহার করা হয়। হিরোশিমার হামলাটি চালানো হয় Enola Gay এবং নাগাসাকির হামলাটি Bockscar নামের বি-২৯ বোমারু বিমান থেকে।
এই দুই হামলায় মোট আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হিরোশিমায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার এবং নাগাসাকিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। বহু মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, বিকলাঙ্গতা ও জেনেটিক জটিলতার শিকার হন। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জাপানে হিবাকুশা (Hibakusha) নামে পরিচিত।
বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৯টি রাষ্ট্রের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরাইল (যদিও ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি স্বীকার করে না)।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১২ হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন, হাইপারসনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমর্থিত সামরিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে রয়েছে। পাশাপাশি চীন তার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (TPNW) বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণের একটি উদ্যোগ হলেও প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এখনো এতে যোগ দেয়নি।
পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস, দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব, পরিবেশ দূষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিজ্ঞানীদের মতে, বড় পরিসরের পারমাণবিক যুদ্ধ হলে বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়া ও ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ে 'পারমাণবিক শীত' (Nuclear Winter) সৃষ্টি হতে পারে, যা বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরস্ত্রীকরণ ও বৈশ্বিক শান্তির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে। হিরোশিমা দিবস তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণ নয়, বরং যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ এবং মানবকল্যাণের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি উপলক্ষ।

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
হিরোশিমায় 'Little Boy' নামের ইউরেনিয়ামভিত্তিক বোমাটি এবং নাগাসাকিতে 'Fat Man' নামের প্লুটোনিয়ামভিত্তিক বোমাটি ব্যবহার করা হয়। হিরোশিমার হামলাটি চালানো হয় Enola Gay এবং নাগাসাকির হামলাটি Bockscar নামের বি-২৯ বোমারু বিমান থেকে।
এই দুই হামলায় মোট আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হিরোশিমায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার এবং নাগাসাকিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। বহু মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, বিকলাঙ্গতা ও জেনেটিক জটিলতার শিকার হন। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জাপানে হিবাকুশা (Hibakusha) নামে পরিচিত।
বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৯টি রাষ্ট্রের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরাইল (যদিও ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি স্বীকার করে না)।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১২ হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন, হাইপারসনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমর্থিত সামরিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে রয়েছে। পাশাপাশি চীন তার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাও আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (TPNW) বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণের একটি উদ্যোগ হলেও প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এখনো এতে যোগ দেয়নি।
পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস, দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব, পরিবেশ দূষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিজ্ঞানীদের মতে, বড় পরিসরের পারমাণবিক যুদ্ধ হলে বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়া ও ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ে 'পারমাণবিক শীত' (Nuclear Winter) সৃষ্টি হতে পারে, যা বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরস্ত্রীকরণ ও বৈশ্বিক শান্তির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে। হিরোশিমা দিবস তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণ নয়, বরং যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ এবং মানবকল্যাণের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি উপলক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন