শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বই অন্ধকার দূর করার ক্ষেত্রে বাতি কিংবা বড় প্রদীপের মতো ভূমিকা রাখে। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের বিকল্প নেই। বর্তমানে আমরা মাইক্রোফোনে কথা বলছি, টেলিভিশন ক্যামেরায় ছবি ধারণ করা হচ্ছে, অডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা বক্তব্য লিখে রাখছেন—এসবই বিজ্ঞানের অবদান।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব ও থিওরি তৈরি করে লিখেছেন, সেগুলো বই আকারে প্রকাশিত হওয়ার কারণে পরবর্তী প্রজন্ম তা পড়েছে, চর্চা করেছে এবং সেখান থেকে প্রতিবছর ও প্রতিটি শতাব্দীতে নতুন নতুন আবিষ্কার হয়েছে। এ কারণে বইয়ের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি।
বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিজভী বলেন, বই না পড়লে, জ্ঞান অর্জন না করলে এবং ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে মানুষের মনের জগত ও বিশ্বজগত—দুটিই অন্ধকারে থেকে যাবে। তাঁর মতে, বই হলো মনের জগতের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলে মনের জগতের পাশাপাশি বাইরের জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।
সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার ও তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু গত পাঁচ মাসে সরকার কী কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় জাতি জানে এবং দেখেছে। তবে সব তথ্য এক জায়গায় এনে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা হলে বইটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং সামনে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি বাংলাদেশের মাঠে-মাঠে, হাটে-ঘাটে ও বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিন-রাত কাজ করার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তিনি নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন।
রিজভী বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের ব্যক্তি, বুরোক্রেসির লোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—গাফিলতির বিরুদ্ধে তিনি শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন, তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও প্রধানমন্ত্রীত্বে বিএনপি বা জোট সরকার জনকল্যাণ, জনস্বার্থ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বিস্তৃত করার জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, সেসবের মোটামুটি বিস্তৃত বিবরণ বইটিতে পাওয়া যাবে।
সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বইটি ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রতি তাঁর নিবেদনের তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানসহ কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হলে তা সবার হাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, তখন মানুষ বুঝতে পারবে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যাভিত্তিক বক্তব্য দিচ্ছে, তারা মূলত সরকারের ভালো কাজগুলো বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বই অন্ধকার দূর করার ক্ষেত্রে বাতি কিংবা বড় প্রদীপের মতো ভূমিকা রাখে। মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে বইয়ের বিকল্প নেই। বর্তমানে আমরা মাইক্রোফোনে কথা বলছি, টেলিভিশন ক্যামেরায় ছবি ধারণ করা হচ্ছে, অডিও রেকর্ড হচ্ছে এবং সাংবাদিকেরা বক্তব্য লিখে রাখছেন—এসবই বিজ্ঞানের অবদান।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব ও থিওরি তৈরি করে লিখেছেন, সেগুলো বই আকারে প্রকাশিত হওয়ার কারণে পরবর্তী প্রজন্ম তা পড়েছে, চর্চা করেছে এবং সেখান থেকে প্রতিবছর ও প্রতিটি শতাব্দীতে নতুন নতুন আবিষ্কার হয়েছে। এ কারণে বইয়ের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি।
বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিজভী বলেন, বই না পড়লে, জ্ঞান অর্জন না করলে এবং ন্যূনতম শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে মানুষের মনের জগত ও বিশ্বজগত—দুটিই অন্ধকারে থেকে যাবে। তাঁর মতে, বই হলো মনের জগতের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলে মনের জগতের পাশাপাশি বাইরের জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।
সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, নির্বাচিত সরকার ও তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু গত পাঁচ মাসে সরকার কী কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনা বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় জাতি জানে এবং দেখেছে। তবে সব তথ্য এক জায়গায় এনে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা হলে বইটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং সামনে হেলথ কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তারও সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি বাংলাদেশের মাঠে-মাঠে, হাটে-ঘাটে ও বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিন-রাত কাজ করার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তিনি নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন।
রিজভী বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কোনো গাফিলতি করছেন না। কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের ব্যক্তি, বুরোক্রেসির লোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—গাফিলতির বিরুদ্ধে তিনি শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যারা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন, তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করছেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও প্রধানমন্ত্রীত্বে বিএনপি বা জোট সরকার জনকল্যাণ, জনস্বার্থ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও বিস্তৃত করার জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, সেসবের মোটামুটি বিস্তৃত বিবরণ বইটিতে পাওয়া যাবে।
সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বইটি ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড এবং জনগণের প্রতি তাঁর নিবেদনের তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানসহ কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হলে তা সবার হাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, তখন মানুষ বুঝতে পারবে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যাভিত্তিক বক্তব্য দিচ্ছে, তারা মূলত সরকারের ভালো কাজগুলো বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়াল প্রমুখ।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন