ঢাকা    শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি চক্র কৌশলে এ দুটি খাতকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। তবে সরকার দেশ ও জনগণকে এই সংকট থেকে বের করে আনতে কাজ শুরু করেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্য থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনও বসে নেই। আগের দিনের অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এসব সমস্যা সংশোধন করে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে।

চিকিৎসকদের সমাবেশে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতির মূল কথা ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’—অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এসব স্বাস্থ্যকর্মী নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন।

চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেহেতু সবকিছুকে প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা কিংবা সংগঠিত হওয়া অযৌক্তিক নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।

সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এগুলো বিবেচনা করবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ বছর করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবিগুলো অযৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব দাবি সরকারের বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসকের সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে বিদেশে যেতে হবে না।

চিকিৎসক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি চক্র কৌশলে এ দুটি খাতকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। তবে সরকার দেশ ও জনগণকে এই সংকট থেকে বের করে আনতে কাজ শুরু করেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্য থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনও বসে নেই। আগের দিনের অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এসব সমস্যা সংশোধন করে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে।

চিকিৎসকদের সমাবেশে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতির মূল কথা ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’—অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এসব স্বাস্থ্যকর্মী নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন।

চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেহেতু সবকিছুকে প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা কিংবা সংগঠিত হওয়া অযৌক্তিক নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।

সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এগুলো বিবেচনা করবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ বছর করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবিগুলো অযৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব দাবি সরকারের বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসকের সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে বিদেশে যেতে হবে না।

চিকিৎসক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী
0:00 0:00
1.0x