ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

১৩ শিক্ষক, ১২ শিক্ষার্থী, পাস মাত্র ১ জন: ধসের মুখে বিদ্যালয়ের শিক্ষা

১৩ শিক্ষক, ১২ শিক্ষার্থী, পাস মাত্র  ১ জন: ধসের মুখে বিদ্যালয়ের শিক্ষা
সংগ্রহীত

১৩ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী মাত্র ১২ জন। অথচ চলতি বছরের এসএসি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র ১ জন। এমনই বেহাল দশা ঝালকাঠির একটি বিদ্যালয়ের। কাগজ-কলমে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত ক্লাসে আসে ৫-৬ জন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালীন সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে ফুটবল খেলছে। শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা। কয়েকজন বসে গল্প করছে। ছাত্রীদের অধিকাংশেরই বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নেই। শিক্ষার পরিবেশের বদলে সর্বত্রই অবহেলার ছাপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একসময় ফলাফল ভালো হলেও এখন শিক্ষক সংখ্যা বাড়লেও মান বাড়েনি। শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি এবং নিয়মিত পাঠদান না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ফলাফলের চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের এসএসসিতে ৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩ জন পাস করলেও ২০২৬ সালে ১২ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ জন।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শিক্ষার্থী সংকটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠাতে চান না। শ্রেণিকক্ষেও আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত না আসায় ফলাফল খারাপ হচ্ছে।’

তবে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলা এবং আগেভাগে ছুটির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। উপজেলা পর্যায়ে খেলা চলছে দাবি করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, ‘কেন শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব। আমি এখন ঢাকায় আছি, পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট জনবল ১৮ জন। শিক্ষক ১৩ জন আর শিক্ষার্থী ১২ জন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


১৩ শিক্ষক, ১২ শিক্ষার্থী, পাস মাত্র ১ জন: ধসের মুখে বিদ্যালয়ের শিক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image


১৩ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী মাত্র ১২ জন। অথচ চলতি বছরের এসএসি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র ১ জন। এমনই বেহাল দশা ঝালকাঠির একটি বিদ্যালয়ের। কাগজ-কলমে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত ক্লাসে আসে ৫-৬ জন।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালীন সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে ফুটবল খেলছে। শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা। কয়েকজন বসে গল্প করছে। ছাত্রীদের অধিকাংশেরই বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নেই। শিক্ষার পরিবেশের বদলে সর্বত্রই অবহেলার ছাপ।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একসময় ফলাফল ভালো হলেও এখন শিক্ষক সংখ্যা বাড়লেও মান বাড়েনি। শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি এবং নিয়মিত পাঠদান না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


ফলাফলের চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের এসএসসিতে ৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩ জন পাস করলেও ২০২৬ সালে ১২ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ জন।


বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শিক্ষার্থী সংকটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠাতে চান না। শ্রেণিকক্ষেও আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত না আসায় ফলাফল খারাপ হচ্ছে।’


তবে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলা এবং আগেভাগে ছুটির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। উপজেলা পর্যায়ে খেলা চলছে দাবি করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।


এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, ‘কেন শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব। আমি এখন ঢাকায় আছি, পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’


বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট জনবল ১৮ জন। শিক্ষক ১৩ জন আর শিক্ষার্থী ১২ জন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১৩ শিক্ষক, ১২ শিক্ষার্থী, পাস মাত্র ১ জন: ধসের মুখে বিদ্যালয়ের শিক্ষা
0:00 0:00
1.0x