ঢাকা    বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, রিজভী হতে পারেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, রিজভী হতে পারেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, রিজভী হতে পারেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই চূড়ান্ত হওয়ার পথে। একই সঙ্গে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলীয় মনোনয়ন আজ বুধবার অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটি যাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে, তিনিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন—এমনটাই নিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দিয়েছে। একইভাবে দলের গণতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিব নিয়োগের সর্বোচ্চ ক্ষমতাও চেয়ারম্যানের হাতে রয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কার্যালয়ে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক তারপর।’ এ সময় তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করার পর তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় ছিল। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুল মঈন খানের নামও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচিত হয়।

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, এক দশকের বেশি সময় বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিক হিসেবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিন রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন সংকটে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও তিনি দল পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। সজ্জন রাজনীতিক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকে আগেই জানিয়েছি যে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতি উৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এই দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরাও সতর্কভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁরা দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের বক্তব্য জানতে চাইলে সরাসরি কেউ কিছু বলতে চাননি। তবে দুজন মন্ত্রী ও পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ‘বেস্ট চয়েস’।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তিনি দলের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত। আমরা সবাই চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল।’

মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হচ্ছেন রুহুল কবীর রিজভী

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রুহুল কবীর রিজভীর প্রতি তাঁদের আস্থার বড় জায়গা তাঁর সাংগঠনিক যোগাযোগ। দেশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। দলের সংকটময় সময়েও তিনি অভিভাবকের মতো ভূমিকা পালন করেছেন। তাই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কিংবা মহাসচিব—দুই দায়িত্বের জন্যই তাঁকে যোগ্য মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের মধ্যে রুহুল কবীর রিজভীর অবদান সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের ও দেশের প্রতি তাঁর ত্যাগ ও নিবেদনকে তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। বিএনপির পক্ষে কথা বলতে যখন অনেকে দ্বিধায় ছিলেন, তখন রিজভীর কণ্ঠ সোচ্চার ছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁর নেতৃত্ব দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।

বিএনপির অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে দলের প্রথম যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হয়েছে। দলের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

বর্তমান মহাসচিব রাষ্ট্রপতি হলে শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০-২১ আগস্টের মধ্যে সব চূড়ান্ত হয়ে যাবে। দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। এখানে কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় নেই।’ দলের হাইকমান্ডের ওপর সবাই আস্থাশীল বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট প্রকাশ্য

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু হয়। প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে সংসদ অধিবেশনকক্ষে ভোট হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জানিয়েছেন, ব্যালট পেপারে যে প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হবে, তাঁর নামের নিচে ভোটারকে স্বাক্ষর করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন সংসদ অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ শূন্য হবে

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। এমনটি করলে তাঁদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেটকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ওই বছরের ৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে মনোনয়ন দেয়। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। সে সময় জামায়াতের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সমর্থন থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলে দেখা যায়, বিএনপির বাইরের ভোট পেয়েও আবদুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন।

এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোটভুক্ত দলগুলোর ভোটার প্রায় ২৫০ জন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ভোটার ৯০ জন। বাকি ভোটার স্বতন্ত্র ও একটি দলের।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য

‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। এতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন তাঁদের ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চায় না। এ কারণেই কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, রিজভী হতে পারেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই চূড়ান্ত হওয়ার পথে। একই সঙ্গে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলীয় মনোনয়ন আজ বুধবার অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি হওয়ায় দলটি যাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে, তিনিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন—এমনটাই নিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দিয়েছে। একইভাবে দলের গণতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিব নিয়োগের সর্বোচ্চ ক্ষমতাও চেয়ারম্যানের হাতে রয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কার্যালয়ে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আগে হোক তারপর।’ এ সময় তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ে অফিস করার পর তিনি বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে যান। সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় ছিল। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুল মঈন খানের নামও দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচিত হয়।

গত ১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, এক দশকের বেশি সময় বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিক হিসেবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দীর্ঘদিন রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন সংকটে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও তিনি দল পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। সজ্জন রাজনীতিক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে এই মুহূর্তে কিছুই বলার নেই। ১৩ আগস্টের পর দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। লুকোচুরির বিষয় নেই। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকে আগেই জানিয়েছি যে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর বা সম্মতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম তুলতে হলে স্বাক্ষর বা সম্মতির কিছু নেই। স্বাক্ষরের বিষয় আছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখানে গণমাধ্যম অতি উৎসাহী হয়ে অনেক কিছুই লিখেছে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের মধ্যে পড়ে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা চেয়ারম্যানের ওপর এই দায়িত্ব দিয়েছি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের তিনজনের নাম বেশ আলোচনায় আসছিল। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম বেশি আলোচনায় আছে। এখন দেখা যাক, চেয়ারম্যান কী সিদ্ধান্ত নেন।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরাও সতর্কভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁরা দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের বক্তব্য জানতে চাইলে সরাসরি কেউ কিছু বলতে চাননি। তবে দুজন মন্ত্রী ও পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ‘বেস্ট চয়েস’।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তিনি দলের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত। আমরা সবাই চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল।’

মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হচ্ছেন রুহুল কবীর রিজভী

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম। দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, রুহুল কবীর রিজভীর প্রতি তাঁদের আস্থার বড় জায়গা তাঁর সাংগঠনিক যোগাযোগ। দেশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। দলের সংকটময় সময়েও তিনি অভিভাবকের মতো ভূমিকা পালন করেছেন। তাই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কিংবা মহাসচিব—দুই দায়িত্বের জন্যই তাঁকে যোগ্য মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের মধ্যে রুহুল কবীর রিজভীর অবদান সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের ও দেশের প্রতি তাঁর ত্যাগ ও নিবেদনকে তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। বিএনপির পক্ষে কথা বলতে যখন অনেকে দ্বিধায় ছিলেন, তখন রিজভীর কণ্ঠ সোচ্চার ছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁর নেতৃত্ব দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।

বিএনপির অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে দলের প্রথম যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হয়েছে। দলের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

বর্তমান মহাসচিব রাষ্ট্রপতি হলে শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০-২১ আগস্টের মধ্যে সব চূড়ান্ত হয়ে যাবে। দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। এখানে কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় নেই।’ দলের হাইকমান্ডের ওপর সবাই আস্থাশীল বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট প্রকাশ্য

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু হয়। প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে সংসদ অধিবেশনকক্ষে ভোট হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের বিধান থাকায় কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন থাকে না। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জানিয়েছেন, ব্যালট পেপারে যে প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হবে, তাঁর নামের নিচে ভোটারকে স্বাক্ষর করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন সংসদ অধিবেশনকক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ শূন্য হবে

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। এমনটি করলে তাঁদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেটকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর ওই বছরের ৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে মনোনয়ন দেয়। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। সে সময় জামায়াতের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সমর্থন থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলে দেখা যায়, বিএনপির বাইরের ভোট পেয়েও আবদুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন।

এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোটভুক্ত দলগুলোর ভোটার প্রায় ২৫০ জন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ভোটার ৯০ জন। বাকি ভোটার স্বতন্ত্র ও একটি দলের।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য

‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। এতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন তাঁদের ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চায় না। এ কারণেই কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, রিজভী হতে পারেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
0:00 0:00
1.0x