প্রায় দুই দশক ধরে স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন গৃহকর্মী সাহিদা। তার স্বামী ও দুই ছেলে এখনো ভারতে রয়েছেন। ছোট ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে, আর বড় ছেলে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে সাহিদা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা এলাকায় একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।
সাহিদার পরিবারের ভাষ্য, গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ের সানপাড়ায় রাতের খাবারের জন্য বাজারে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে চেম্বুরের একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে সাহিদার জন্মনিবন্ধন, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের জমির দলিলসহ বিভিন্ন নথি দেখানো হয়। কিন্তু কয়েক দিন পর পরিবারকে জানানো হয়, সাহিদাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফোনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সাহিদা বলেন, তাকে আসামের সীমান্ত দিয়ে রাতে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর কাদাযুক্ত জমির ভেতর দিয়ে দীর্ঘ সময় হাঁটার পর তিনি একটি সড়কে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজন তাকে খাবার, পোশাক ও আশ্রয় দেন। সাহিদার দাবি, তিনি ভারতের নাগরিক এবং নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান। তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের দেখাশোনা কে করবে—এ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (MASUM) কলকাতা হাইকোর্টে দেওয়া অভিযোগে সাহিদার নাগরিকত্বের পক্ষে থাকা বিভিন্ন নথির কথা উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির অভিযোগে বলা হয়েছে, সাহিদার বাবা আমানউদ্দিন গাজী ও মা মাজিদা বিবির নাম ২০০২ সালের স্বরূপনগর বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, সাহিদার জন্ম ১৯৯৫ সালের ১২ অক্টোবর বিথারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নিবন্ধিত হয়।
MASUM-এর অভিযোগ, এসব নথি থাকা সত্ত্বেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সাহিদাকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, আটকের পর প্রায় ৯০ ঘণ্টা পর্যন্ত সাহিদাকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি। আটকের কারণও তাকে জানানো হয়নি এবং পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া আবেদনে মানবাধিকার সংগঠনটি এ ঘটনায় জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে। একই সঙ্গে সাহিদাকে দ্রুত আদালতে হাজির করা, বেআইনি আটক হয়ে থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়া, ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সুনালি খাতুন ও সুইটি বিবিকে দিল্লিতে আটক করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পরে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ভারতে ফিরে আসেন।
একই বছর মুম্বাইয়ে আটক পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন শ্রমিককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।
সূত্র: মাকতুব ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রায় দুই দশক ধরে স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন গৃহকর্মী সাহিদা। তার স্বামী ও দুই ছেলে এখনো ভারতে রয়েছেন। ছোট ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে, আর বড় ছেলে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে সাহিদা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা এলাকায় একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।
সাহিদার পরিবারের ভাষ্য, গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ের সানপাড়ায় রাতের খাবারের জন্য বাজারে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে চেম্বুরের একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে সাহিদার জন্মনিবন্ধন, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের জমির দলিলসহ বিভিন্ন নথি দেখানো হয়। কিন্তু কয়েক দিন পর পরিবারকে জানানো হয়, সাহিদাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফোনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সাহিদা বলেন, তাকে আসামের সীমান্ত দিয়ে রাতে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর কাদাযুক্ত জমির ভেতর দিয়ে দীর্ঘ সময় হাঁটার পর তিনি একটি সড়কে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজন তাকে খাবার, পোশাক ও আশ্রয় দেন। সাহিদার দাবি, তিনি ভারতের নাগরিক এবং নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান। তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের দেখাশোনা কে করবে—এ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (MASUM) কলকাতা হাইকোর্টে দেওয়া অভিযোগে সাহিদার নাগরিকত্বের পক্ষে থাকা বিভিন্ন নথির কথা উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির অভিযোগে বলা হয়েছে, সাহিদার বাবা আমানউদ্দিন গাজী ও মা মাজিদা বিবির নাম ২০০২ সালের স্বরূপনগর বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে, সাহিদার জন্ম ১৯৯৫ সালের ১২ অক্টোবর বিথারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নিবন্ধিত হয়।
MASUM-এর অভিযোগ, এসব নথি থাকা সত্ত্বেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সাহিদাকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, আটকের পর প্রায় ৯০ ঘণ্টা পর্যন্ত সাহিদাকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি। আটকের কারণও তাকে জানানো হয়নি এবং পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া আবেদনে মানবাধিকার সংগঠনটি এ ঘটনায় জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে। একই সঙ্গে সাহিদাকে দ্রুত আদালতে হাজির করা, বেআইনি আটক হয়ে থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়া, ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সুনালি খাতুন ও সুইটি বিবিকে দিল্লিতে আটক করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পরে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ভারতে ফিরে আসেন।
একই বছর মুম্বাইয়ে আটক পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন শ্রমিককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।
সূত্র: মাকতুব ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আপনার মতামত লিখুন