এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত বুধবার রাতে কুলসুম বেগম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং কুলসুম বেগম নাম নেন। পরে দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে গালিগালাজ করে কুলসুমের ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে তারা। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।
পরে রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেন। এরপর কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যন্ত্রণায় কুলসুম চিৎকার করলে তাকে রক্ষা করতে তার স্বামী এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হামলাকারীরা ঘরে থাকা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুট করে। তারা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদামও নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
কুলসুম বেগম বলেন, তাকে ধরে মারধর করা হয়েছে। ২০ বছর ধরে তিনি একা ছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ের দিন আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন। ওই দিন বর্তমান স্বামীর পরিবারের লোকজন এসে তার ওপর নির্যাতন চালায়। তার বড় বউ তাকে ধরে এবং সবাই মিলে তার চুল কেটে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন কুলসুম।
কুলসুমের স্বামী দারগালী বলেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর যারা নির্যাতন করেছেন, তাদের মধ্যে তার মামাতো ভাই, প্রথম স্ত্রী ও ছেলে রয়েছেন। কেন বিয়ে করেছেন—এ নিয়ে জেদের কারণেই তারা এমন নির্যাতন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, এখনো প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেননি, তবে সেখান থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছেন।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ইত্তেফাক

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত বুধবার রাতে কুলসুম বেগম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং কুলসুম বেগম নাম নেন। পরে দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে গালিগালাজ করে কুলসুমের ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে তারা। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।
পরে রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেন। এরপর কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যন্ত্রণায় কুলসুম চিৎকার করলে তাকে রক্ষা করতে তার স্বামী এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হামলাকারীরা ঘরে থাকা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুট করে। তারা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদামও নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
কুলসুম বেগম বলেন, তাকে ধরে মারধর করা হয়েছে। ২০ বছর ধরে তিনি একা ছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ের দিন আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন। ওই দিন বর্তমান স্বামীর পরিবারের লোকজন এসে তার ওপর নির্যাতন চালায়। তার বড় বউ তাকে ধরে এবং সবাই মিলে তার চুল কেটে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন কুলসুম।
কুলসুমের স্বামী দারগালী বলেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর যারা নির্যাতন করেছেন, তাদের মধ্যে তার মামাতো ভাই, প্রথম স্ত্রী ও ছেলে রয়েছেন। কেন বিয়ে করেছেন—এ নিয়ে জেদের কারণেই তারা এমন নির্যাতন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, এখনো প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেননি, তবে সেখান থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছেন।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন