শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী এবং এলএনজি টার্মিনালে আগুনের কারণে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—সরকারের এমন ব্যাখ্যা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তার দাবি, এই সংকটের প্রধান কারণ সরকারের পরিকল্পনাহীনতা, জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা এবং ভুল অগ্রাধিকার নির্ধারণ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রে সরকার সঠিক জায়গায় সিদ্ধান্ত নেয়নি। কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও আমদানি করা বিদ্যুতের বিল পরিশোধে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এসব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে আগুনের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা বা ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ থাকা প্রয়োজন ছিল। তার অভিযোগ, একই সময়ে ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ, আদানি থেকে বিদ্যুৎ এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমে গেছে।
বিদ্যুৎ সংকটের বিভিন্ন পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। গ্রামাঞ্চলের মানুষ দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার মতে, এ খাতে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান থাকা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত বলেন, ‘টুকু সাহেব লোডশেডিংয়ের চেয়েও বড় ব্লান্ডার করেছেন।’
ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ করিডোরের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, ৭৬৫ কেভি কাটিহার–পার্বতীপুর–বরনগর সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানিতে আপত্তি নেই। তবে দেশের নদী ও পানির ভবিষ্যৎ বন্ধক রেখে বিদ্যুৎ করিডোর বাস্তবায়ন করা উচিত নয়।
শেষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এনসিপির দেওয়া সমাধান প্রস্তাবনা অনুসরণ করার পাশাপাশি ভারতের বিদ্যুৎ করিডোরের উদ্যোগে ‘না’ বলার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী এবং এলএনজি টার্মিনালে আগুনের কারণে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—সরকারের এমন ব্যাখ্যা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তার দাবি, এই সংকটের প্রধান কারণ সরকারের পরিকল্পনাহীনতা, জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা এবং ভুল অগ্রাধিকার নির্ধারণ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রে সরকার সঠিক জায়গায় সিদ্ধান্ত নেয়নি। কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও আমদানি করা বিদ্যুতের বিল পরিশোধে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এসব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে আগুনের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা বা ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ থাকা প্রয়োজন ছিল। তার অভিযোগ, একই সময়ে ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ, আদানি থেকে বিদ্যুৎ এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমে গেছে।
বিদ্যুৎ সংকটের বিভিন্ন পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। গ্রামাঞ্চলের মানুষ দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার মতে, এ খাতে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান থাকা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত বলেন, ‘টুকু সাহেব লোডশেডিংয়ের চেয়েও বড় ব্লান্ডার করেছেন।’
ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ করিডোরের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, ৭৬৫ কেভি কাটিহার–পার্বতীপুর–বরনগর সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানিতে আপত্তি নেই। তবে দেশের নদী ও পানির ভবিষ্যৎ বন্ধক রেখে বিদ্যুৎ করিডোর বাস্তবায়ন করা উচিত নয়।
শেষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এনসিপির দেওয়া সমাধান প্রস্তাবনা অনুসরণ করার পাশাপাশি ভারতের বিদ্যুৎ করিডোরের উদ্যোগে ‘না’ বলার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন