ঢাকা    শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দলীয়করণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট চরমে: জামায়াত

অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দলীয়করণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট চরমে: জামায়াত
অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দলীয়করণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট চরমে: জামায়াত

সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতেও।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরম আকার নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতে।

তিনি বলেন, ১২ আগস্ট দেশে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট এতটা তীব্র হয়েছে। এতে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনরোষও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। তার মতে, এ ঘটনা সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট এবং কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকার সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে নাগরিকরা রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ঠিকভাবে করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরোনো অলিগার্কদের নতুন করে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্ভোগ কমাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, শিল্প খাতে গ্যাস চুরি বন্ধ করা, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো এবং এনার্জি কনভার্শনের প্রয়োজনীয় নীতি ও যন্ত্রপাতি আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া তেল পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা করার দাবিও জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, স্থলভাগের রিজার্ভার ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, নতুন এক্সপ্লোরেশন কূপ ও ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে সক্ষম বিদেশি অংশীদার আনা জরুরি।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে যেকোনো পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দলীয়করণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট চরমে: জামায়াত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতেও।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরম আকার নিয়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতে।

তিনি বলেন, ১২ আগস্ট দেশে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট এতটা তীব্র হয়েছে। এতে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনরোষও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। তার মতে, এ ঘটনা সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট এবং কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকার সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে নাগরিকরা রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ঠিকভাবে করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরোনো অলিগার্কদের নতুন করে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্ভোগ কমাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, শিল্প খাতে গ্যাস চুরি বন্ধ করা, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো এবং এনার্জি কনভার্শনের প্রয়োজনীয় নীতি ও যন্ত্রপাতি আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া তেল পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা করার দাবিও জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, স্থলভাগের রিজার্ভার ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, নতুন এক্সপ্লোরেশন কূপ ও ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে সক্ষম বিদেশি অংশীদার আনা জরুরি।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে যেকোনো পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দলীয়করণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট চরমে: জামায়াত
0:00 0:00
1.0x