ঢাকা    শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অপরাধ

বাবাকে কোপানোর প্রতিশোধে রাব্বি হত্যার দাবি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বাবাকে কোপানোর প্রতিশোধে রাব্বি হত্যার দাবি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
বাবাকে কোপানোর প্রতিশোধে রাব্বি হত্যার দাবি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সড়কে দোকানের ভেতরে ঢুকে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। চাঁদাবাজি ও পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের দাবি, ঘটনার প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খালেককে আটক করা সম্ভব হয়।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান।

র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার কারণে পরিকল্পনা করে রাব্বিকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে একটি বড় দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল জড়িত থাকতে পারে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। তবে সেটি চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে কর্মরত ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি রাব্বির ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

র‌্যাব আরও জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও অভিযোগ করেন খালেক। এসব ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন।

তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‌্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবদুল খালেক। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার বাবাকে কোপানোর ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই রাব্বিকে হত্যা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাব্বির পক্ষের লোকজন দোকানপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলতেন এবং চাঁদা না দিলে মারধর করতেন। নিজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

নিজের বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাটের প্রসঙ্গে খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনায় কেউ তাদের রক্ষা করেনি। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‌্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশও অভিযান চালাচ্ছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


বাবাকে কোপানোর প্রতিশোধে রাব্বি হত্যার দাবি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সড়কে দোকানের ভেতরে ঢুকে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। চাঁদাবাজি ও পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের দাবি, ঘটনার প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খালেককে আটক করা সম্ভব হয়।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান।

র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার কারণে পরিকল্পনা করে রাব্বিকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে একটি বড় দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল জড়িত থাকতে পারে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। তবে সেটি চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে কর্মরত ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি রাব্বির ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও আহত করা হয়। পরে রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

র‌্যাব আরও জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও অভিযোগ করেন খালেক। এসব ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন।

তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র‌্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবদুল খালেক। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার বাবাকে কোপানোর ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই রাব্বিকে হত্যা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাব্বির পক্ষের লোকজন দোকানপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলতেন এবং চাঁদা না দিলে মারধর করতেন। নিজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

নিজের বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাটের প্রসঙ্গে খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনায় কেউ তাদের রক্ষা করেনি। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র‌্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশও অভিযান চালাচ্ছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বাবাকে কোপানোর প্রতিশোধে রাব্বি হত্যার দাবি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x