নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সাতটি উপজেলার ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলের পর জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি। এর মধ্যে গোবরচাপা হাট আকতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসা থেকে একজন, জোলাপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। খাদাইল দাখিল মাদরাসা থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।
মান্দা উপজেলার চকদেবীররাম-চকভোলাই আলিম মাদরাসা থেকে ১৫ জন, কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদরাসা থেকে ৯ জন, রামনগর দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, চকরঘুনাথ দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
পোরশা উপজেলার বড় গুন্দইল দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জন, গাঙ্গরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, অনন্তপুর দাখিল মাদরাসা থেকে নয়জন এবং কালিনগর সরাইগাছী মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবাই ফেল করেছে।
নিয়ামতপুর উপজেলার বরিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৫ জন, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নয়জন এবং নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। আত্রাই উপজেলার সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন এবং আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ ফেল করার কারণ হিসেবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও কর্মকর্তারা শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
মান্দার চকদেবীররাম-চকভোলাই আলিম মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এবার তাদের মাদরাসা থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয়টি দেখে শিক্ষার্থীরা ভয় ও মানসিক চাপে পড়ে যায়। এতে তারা ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শিক্ষাবিদদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষক সংকট নিরসন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করা জরুরি। জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপে সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সাতটি উপজেলার ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলের পর জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি। এর মধ্যে গোবরচাপা হাট আকতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসা থেকে একজন, জোলাপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। খাদাইল দাখিল মাদরাসা থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।
মান্দা উপজেলার চকদেবীররাম-চকভোলাই আলিম মাদরাসা থেকে ১৫ জন, কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদরাসা থেকে ৯ জন, রামনগর দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, চকরঘুনাথ দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
পোরশা উপজেলার বড় গুন্দইল দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জন, গাঙ্গরিয়া ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, অনন্তপুর দাখিল মাদরাসা থেকে নয়জন এবং কালিনগর সরাইগাছী মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবাই ফেল করেছে।
নিয়ামতপুর উপজেলার বরিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৫ জন, পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নয়জন এবং নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। আত্রাই উপজেলার সুদরানা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন এবং আটগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ ফেল করার কারণ হিসেবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও কর্মকর্তারা শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
মান্দার চকদেবীররাম-চকভোলাই আলিম মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এবার তাদের মাদরাসা থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয়টি দেখে শিক্ষার্থীরা ভয় ও মানসিক চাপে পড়ে যায়। এতে তারা ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শিক্ষাবিদদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষক সংকট নিরসন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করা জরুরি। জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপে সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আপনার মতামত লিখুন