একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ, সুশাসন, গণতন্ত্র এবং সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম ভিত্তি শিক্ষা। যে জাতি শিক্ষা খাতে যত বেশি বিনিয়োগ করে, সেই জাতির উন্নত, সমৃদ্ধ ও উদ্ভাবনী হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও তত বেশি।
তাই সমাজে পরিবর্তন আনতে শুধু শিক্ষার বিস্তার যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানসম্মত, মূল্যবোধনির্ভর, দক্ষতাভিত্তিক এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জ্ঞান, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মানবিকতা বিকশিত হলে আলোকিত, বৈষম্যহীন ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় শিক্ষা সব সময়ই অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। খ্রিষ্টপূর্ব যুগের প্রাচীন দার্শনিকদের কাছে শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি ছিল না; নৈতিক চরিত্র গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ সমাজ নির্মাণের ভিত্তিও ছিল।
সক্রেটিস মনে করতেন, প্রকৃত শিক্ষা মানুষের আত্মজ্ঞান ও নৈতিক উন্নয়ন ঘটায়। তার বিখ্যাত উক্তি—‘নিজেকে জানো’—শিক্ষার উদ্দেশ্যকে আত্মঅনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে।
সক্রেটিসের প্রিয় ছাত্র প্লেটোর মতে, সুশিক্ষা মানুষের চরিত্র, ন্যায়বোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে। তার বিশ্বাস ছিল, একটি রাষ্ট্রের কল্যাণ অনেকাংশে নির্ভর করে তার নাগরিকদের শিক্ষার ওপর।
প্লেটোর ছাত্র অ্যারিস্টটলও মনে করতেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়; বরং উত্তম চরিত্র ও গুণাবলির বিকাশ ঘটানো।
প্রাচীন দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের বিশ্বাস ছিল, মানুষের উন্নতির অন্যতম প্রধান মাধ্যম শিক্ষা ও অধ্যবসায়। তার মতে, জন্মগত প্রতিভার চেয়ে শিক্ষা ও অনুশীলন মানুষের জীবনকে অধিক উন্নত করতে পারে।
চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস মনে করতেন, শিক্ষা মানুষের মধ্যে সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুণ তৈরি করে। তার মতে, শিক্ষিত ও নৈতিক মানুষই শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
অন্যদিকে পিথাগোরাস শিক্ষাকে আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা ও যুক্তিবোধের বিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
মুসলিম দার্শনিকরা জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, নৈতিকতা, বিজ্ঞান, রাষ্ট্রচিন্তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের চিন্তাধারা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; মানবকল্যাণ, সুশাসন, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সভ্যতার অগ্রগতিতেও এর গভীর প্রভাব ছিল।
আল-ফারাবির মতে, নৈতিকতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে শিক্ষার সাহায্যে উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মধ্যযুগের প্রভাবশালী দার্শনিক ইবনে সিনা বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশ ঘটায়। তার কাছে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা ছিল সভ্যতার অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
ইমাম গাজ্জালীর মতে, নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তার দৃষ্টিতে শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম।
ইবনে রুশদ মনে করতেন, মুক্তচিন্তা, গবেষণা ও সমালোচনামূলক চিন্তার মাধ্যমে সমাজে উন্নয়ন সাধিত হয়। তার চিন্তাধারা ইউরোপীয় নবজাগরণেও প্রভাব ফেলেছিল।
সমাজচিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইবনে খালদুন তার ‘মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি দেখিয়েছেন, শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক সংহতি এবং সুশাসন রাষ্ট্রের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
মধ্যযুগের মুসলিম দার্শনিকদের চিন্তায় শিক্ষা, নৈতিকতা, বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, সামাজিক সংহতি ও সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি নির্মাণের ধারণা পাওয়া যায়।
আধুনিক যুগে শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবেও শিক্ষাকে বিবেচনা করা হয়েছে।
আধুনিক দার্শনিক ও শিক্ষা চিন্তাবিদরা বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জন লক শিক্ষাকে মানব চরিত্র গঠনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।
রুশোর মতে, শিক্ষার মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
কান্ট মনে করতেন, শিক্ষা মানুষকে যুক্তিবাদী, নৈতিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা অপরিহার্য।
আধুনিকোত্তর যুগের দার্শনিকরা সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান, ক্ষমতা ও মানবাধিকারের প্রচলিত ধারণাগুলোকে নতুন দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, সমালোচনামূলক চিন্তা, মানবাধিকার, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক প্রপঞ্চের দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, শিক্ষা একটি সমাজের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি তার দেশের অভাবনীয় পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, শিক্ষা, শিক্ষা এবং শিক্ষাই তার দেশের দ্রুত উন্নয়নের মূল কারণ।
শিক্ষা শুধু সাক্ষরতা অর্জনের মাধ্যম নয়; নৈতিক, মানবিক, বৈজ্ঞানিক ও দক্ষ জনসম্পদ তৈরির প্রধান ভিত্তিও এটি। একটি উন্নত, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাই মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
সূত্র: আমার দেশ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ, সুশাসন, গণতন্ত্র এবং সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম ভিত্তি শিক্ষা। যে জাতি শিক্ষা খাতে যত বেশি বিনিয়োগ করে, সেই জাতির উন্নত, সমৃদ্ধ ও উদ্ভাবনী হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও তত বেশি।
তাই সমাজে পরিবর্তন আনতে শুধু শিক্ষার বিস্তার যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানসম্মত, মূল্যবোধনির্ভর, দক্ষতাভিত্তিক এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে জ্ঞান, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মানবিকতা বিকশিত হলে আলোকিত, বৈষম্যহীন ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় শিক্ষা সব সময়ই অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। খ্রিষ্টপূর্ব যুগের প্রাচীন দার্শনিকদের কাছে শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি ছিল না; নৈতিক চরিত্র গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ সমাজ নির্মাণের ভিত্তিও ছিল।
সক্রেটিস মনে করতেন, প্রকৃত শিক্ষা মানুষের আত্মজ্ঞান ও নৈতিক উন্নয়ন ঘটায়। তার বিখ্যাত উক্তি—‘নিজেকে জানো’—শিক্ষার উদ্দেশ্যকে আত্মঅনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে।
সক্রেটিসের প্রিয় ছাত্র প্লেটোর মতে, সুশিক্ষা মানুষের চরিত্র, ন্যায়বোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে। তার বিশ্বাস ছিল, একটি রাষ্ট্রের কল্যাণ অনেকাংশে নির্ভর করে তার নাগরিকদের শিক্ষার ওপর।
প্লেটোর ছাত্র অ্যারিস্টটলও মনে করতেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়; বরং উত্তম চরিত্র ও গুণাবলির বিকাশ ঘটানো।
প্রাচীন দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের বিশ্বাস ছিল, মানুষের উন্নতির অন্যতম প্রধান মাধ্যম শিক্ষা ও অধ্যবসায়। তার মতে, জন্মগত প্রতিভার চেয়ে শিক্ষা ও অনুশীলন মানুষের জীবনকে অধিক উন্নত করতে পারে।
চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস মনে করতেন, শিক্ষা মানুষের মধ্যে সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুণ তৈরি করে। তার মতে, শিক্ষিত ও নৈতিক মানুষই শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
অন্যদিকে পিথাগোরাস শিক্ষাকে আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা ও যুক্তিবোধের বিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
মুসলিম দার্শনিকরা জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, নৈতিকতা, বিজ্ঞান, রাষ্ট্রচিন্তা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের চিন্তাধারা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; মানবকল্যাণ, সুশাসন, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সভ্যতার অগ্রগতিতেও এর গভীর প্রভাব ছিল।
আল-ফারাবির মতে, নৈতিকতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে শিক্ষার সাহায্যে উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মধ্যযুগের প্রভাবশালী দার্শনিক ইবনে সিনা বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশ ঘটায়। তার কাছে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা ছিল সভ্যতার অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
ইমাম গাজ্জালীর মতে, নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তার দৃষ্টিতে শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম।
ইবনে রুশদ মনে করতেন, মুক্তচিন্তা, গবেষণা ও সমালোচনামূলক চিন্তার মাধ্যমে সমাজে উন্নয়ন সাধিত হয়। তার চিন্তাধারা ইউরোপীয় নবজাগরণেও প্রভাব ফেলেছিল।
সমাজচিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইবনে খালদুন তার ‘মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি দেখিয়েছেন, শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক সংহতি এবং সুশাসন রাষ্ট্রের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
মধ্যযুগের মুসলিম দার্শনিকদের চিন্তায় শিক্ষা, নৈতিকতা, বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, সামাজিক সংহতি ও সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি নির্মাণের ধারণা পাওয়া যায়।
আধুনিক যুগে শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবেও শিক্ষাকে বিবেচনা করা হয়েছে।
আধুনিক দার্শনিক ও শিক্ষা চিন্তাবিদরা বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জন লক শিক্ষাকে মানব চরিত্র গঠনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।
রুশোর মতে, শিক্ষার মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
কান্ট মনে করতেন, শিক্ষা মানুষকে যুক্তিবাদী, নৈতিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা অপরিহার্য।
আধুনিকোত্তর যুগের দার্শনিকরা সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান, ক্ষমতা ও মানবাধিকারের প্রচলিত ধারণাগুলোকে নতুন দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, সমালোচনামূলক চিন্তা, মানবাধিকার, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক প্রপঞ্চের দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, শিক্ষা একটি সমাজের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি তার দেশের অভাবনীয় পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, শিক্ষা, শিক্ষা এবং শিক্ষাই তার দেশের দ্রুত উন্নয়নের মূল কারণ।
শিক্ষা শুধু সাক্ষরতা অর্জনের মাধ্যম নয়; নৈতিক, মানবিক, বৈজ্ঞানিক ও দক্ষ জনসম্পদ তৈরির প্রধান ভিত্তিও এটি। একটি উন্নত, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাই মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন