ঢাকা    রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অর্থনীতি

বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক
বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

খেলাপি ঋণ আদায়ের অংশ হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের পাওনা রয়েছে ১৯০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার এ নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি জানানো হয়।

রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে ব্যাংকটির সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী সুদ ধরা হয়নি। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য ব্যয় এবং আদালতের সুদসহ অর্থ আদায়ের জন্য তফসিলে উল্লেখ করা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বর্তমান অবস্থায় নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ঋণগ্রহীতা হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো লিমিটেড)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আগের নাম ছিল বেক্সটেক্স লিমিটেড। পরবর্তী সময়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস ও বেক্সিমকো নিটিং একীভূত হয়।

এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের নিলামের বিষয়ে তিনি জানেন না। তবে কোম্পানি বন্ধ থাকলে ঋণ পরিশোধের অর্থ কীভাবে আসবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাদের কোম্পানি কোনো ঋণখেলাপি ছিল না। এরপর ড. ইউনূস সরকার কোম্পানিটি বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকলে সেই অর্থ কীভাবে আয় হবে। কোম্পানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে কোম্পানিগুলোতে শুধু লোহালক্কড় পড়ে আছে। এমন অবস্থায় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কঠিন বলে জানান তিনি।

নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক তফসিলে জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কোথাও জমির পরিমাণ একরে এবং কোথাও শতাংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজীপুরের একটি তফসিলে ২.১৯ একর, অন্য একটি তফসিলে ৪৮ শতাংশ এবং আরেকটিতে ৩.৬৬ একর জমির তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি তফসিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসেবে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজার সরাবো, থানা ও জেলা গাজীপুর এলাকায় ৮.৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে ওই জমির মোট পরিমাণ ৮.৫৫ একর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজায় বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমিও নিলামের তালিকায় রাখা হয়েছে। তারাবো মৌজার দুটি অংশে মোট ৮.৩৯ একর জমি রয়েছে। এর একটি অংশে ৪.৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩.৮৭ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

এ ছাড়া যাত্রামুড়া মৌজার আরেকটি তফসিলে ৯.২ একর জমির উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭.৪১ একর। গাজীপুরের ৮.৫৫ একরসহ সব তফসিল মিলিয়ে মোট ২৫.৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

জানা গেছে, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওই দিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।

নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবিত দরের ভিত্তিতে নির্ধারিত হারে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে ২০ শতাংশ, ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫ শতাংশ এবং ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত দিতে হবে। তবে সম্পত্তির প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।

বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের অংশ ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা হলো এই নিলাম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাওনা।

সামগ্রিকভাবে বেক্সিমকোর ঋণ আদায়ে রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম উদ্যোগকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করাই সবচেয়ে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

খেলাপি ঋণ আদায়ের অংশ হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের পাওনা রয়েছে ১৯০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার এ নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি জানানো হয়।

রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে ব্যাংকটির সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী সুদ ধরা হয়নি। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য ব্যয় এবং আদালতের সুদসহ অর্থ আদায়ের জন্য তফসিলে উল্লেখ করা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বর্তমান অবস্থায় নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ঋণগ্রহীতা হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো লিমিটেড)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আগের নাম ছিল বেক্সটেক্স লিমিটেড। পরবর্তী সময়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস ও বেক্সিমকো নিটিং একীভূত হয়।

এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের নিলামের বিষয়ে তিনি জানেন না। তবে কোম্পানি বন্ধ থাকলে ঋণ পরিশোধের অর্থ কীভাবে আসবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাদের কোম্পানি কোনো ঋণখেলাপি ছিল না। এরপর ড. ইউনূস সরকার কোম্পানিটি বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকলে সেই অর্থ কীভাবে আয় হবে। কোম্পানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে কোম্পানিগুলোতে শুধু লোহালক্কড় পড়ে আছে। এমন অবস্থায় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কঠিন বলে জানান তিনি।

নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক তফসিলে জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কোথাও জমির পরিমাণ একরে এবং কোথাও শতাংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজীপুরের একটি তফসিলে ২.১৯ একর, অন্য একটি তফসিলে ৪৮ শতাংশ এবং আরেকটিতে ৩.৬৬ একর জমির তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি তফসিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসেবে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজার সরাবো, থানা ও জেলা গাজীপুর এলাকায় ৮.৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে ওই জমির মোট পরিমাণ ৮.৫৫ একর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজায় বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমিও নিলামের তালিকায় রাখা হয়েছে। তারাবো মৌজার দুটি অংশে মোট ৮.৩৯ একর জমি রয়েছে। এর একটি অংশে ৪.৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩.৮৭ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

এ ছাড়া যাত্রামুড়া মৌজার আরেকটি তফসিলে ৯.২ একর জমির উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭.৪১ একর। গাজীপুরের ৮.৫৫ একরসহ সব তফসিল মিলিয়ে মোট ২৫.৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

জানা গেছে, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওই দিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।

নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবিত দরের ভিত্তিতে নির্ধারিত হারে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে ২০ শতাংশ, ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫ শতাংশ এবং ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত দিতে হবে। তবে সম্পত্তির প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।

বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের অংশ ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা হলো এই নিলাম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাওনা।

সামগ্রিকভাবে বেক্সিমকোর ঋণ আদায়ে রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম উদ্যোগকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করাই সবচেয়ে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক
0:00 0:00
1.0x