শুধু ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ২০১৭ সালে আনসার ব্যাটালিয়নে চাকরির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন জুলহাস। চাকরির মাঠ থেকেই তাকে বাদ দেওয়া হয় এবং লিখিত পরীক্ষায়ও বসতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও জুলহাসের জীবনে স্বস্তি আসেনি। বর্তমানে এই ছাত্রদল নেতা ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ভ্যান নিয়ে ঘুরে ডাব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সম্প্রতি জুলহাসের ডাব বিক্রির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারাও এতে আবেগাপ্লুত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলহাসের অতীতের ত্যাগ ও আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে তার বর্তমান দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরছেন নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে রাজনীতিতে ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না—জুলহাসের ঘটনাকে সামনে রেখে এমন দাবিও করছেন তারা।
মো. এনামুল হক জুলহাস পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। একই সঙ্গে তিনি রনগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের কালারানী গ্রামে। তার বাবা মো. বেল্লাল চৌকিদার দশমিনা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের ১ নম্বর সহসভাপতি।
জেলে পরিবারে বেড়ে ওঠা জুলহাসের পরিবারে সদস্য সাতজন। তিনি পরিবারের বড় সন্তান। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে তাকে ঢাকায় চলে আসতে হয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে ডাব বিক্রি করছেন। ডাব বিক্রি করে যে আয় হয়, তা থেকে নিজের সংসারের খরচ মিটিয়ে অবশিষ্ট টাকা গ্রামে থাকা বাবা-মা ও ভাই-বোনদের জন্য পাঠান।
জুলহাস জানান, চাকরির আশায় পটুয়াখালীর অনেক সিনিয়র নেতাকর্মীর কাছে একাধিকবার গেলেও কোনো ফল পাননি।
যুগান্তরকে জুলহাস বলেন, ২০১৬ সালে দশমিনা উপজেলা সদর ইউনিয়নের এসএ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
জুলহাসের দাবি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন আগে তার খোঁজখবর নিতেন। তবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে নিজের বিবেকের তাড়নায় তিনি আর কোনো বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকার উত্তরায় ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। তার ভাষ্য, দলকে ভালোবেসেই তিনি ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। অন্যদের মতো জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি আন্দোলনে অংশ নেননি।
রনগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি ও জুলহাস একসঙ্গে ছিলেন। ঢাকার উত্তরায় তারা একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
জুলহাস যে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটির সদস্য ছিলেন, সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন এইচএম ইকবাল বশির। তিনি বলেন, জুলহাস দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দুর্দিনে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা উচিত। দশমিনা-গলাচিপায় যারা বিএনপির রাজনীতি করেছেন, তাদের অনেকে বর্তমানে অবহেলিত এবং কঠিন সময় পার করছেন।
সূত্র: যুগান্তর

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
শুধু ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ২০১৭ সালে আনসার ব্যাটালিয়নে চাকরির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন জুলহাস। চাকরির মাঠ থেকেই তাকে বাদ দেওয়া হয় এবং লিখিত পরীক্ষায়ও বসতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও জুলহাসের জীবনে স্বস্তি আসেনি। বর্তমানে এই ছাত্রদল নেতা ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ভ্যান নিয়ে ঘুরে ডাব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সম্প্রতি জুলহাসের ডাব বিক্রির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারাও এতে আবেগাপ্লুত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলহাসের অতীতের ত্যাগ ও আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে তার বর্তমান দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরছেন নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে রাজনীতিতে ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না—জুলহাসের ঘটনাকে সামনে রেখে এমন দাবিও করছেন তারা।
মো. এনামুল হক জুলহাস পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। একই সঙ্গে তিনি রনগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের কালারানী গ্রামে। তার বাবা মো. বেল্লাল চৌকিদার দশমিনা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের ১ নম্বর সহসভাপতি।
জেলে পরিবারে বেড়ে ওঠা জুলহাসের পরিবারে সদস্য সাতজন। তিনি পরিবারের বড় সন্তান। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে তাকে ঢাকায় চলে আসতে হয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে ডাব বিক্রি করছেন। ডাব বিক্রি করে যে আয় হয়, তা থেকে নিজের সংসারের খরচ মিটিয়ে অবশিষ্ট টাকা গ্রামে থাকা বাবা-মা ও ভাই-বোনদের জন্য পাঠান।
জুলহাস জানান, চাকরির আশায় পটুয়াখালীর অনেক সিনিয়র নেতাকর্মীর কাছে একাধিকবার গেলেও কোনো ফল পাননি।
যুগান্তরকে জুলহাস বলেন, ২০১৬ সালে দশমিনা উপজেলা সদর ইউনিয়নের এসএ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
জুলহাসের দাবি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন আগে তার খোঁজখবর নিতেন। তবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে নিজের বিবেকের তাড়নায় তিনি আর কোনো বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকার উত্তরায় ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। তার ভাষ্য, দলকে ভালোবেসেই তিনি ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। অন্যদের মতো জুলাই যোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি আন্দোলনে অংশ নেননি।
রনগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি ও জুলহাস একসঙ্গে ছিলেন। ঢাকার উত্তরায় তারা একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
জুলহাস যে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটির সদস্য ছিলেন, সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন এইচএম ইকবাল বশির। তিনি বলেন, জুলহাস দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দুর্দিনে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা উচিত। দশমিনা-গলাচিপায় যারা বিএনপির রাজনীতি করেছেন, তাদের অনেকে বর্তমানে অবহেলিত এবং কঠিন সময় পার করছেন।
সূত্র: যুগান্তর

আপনার মতামত লিখুন