যুক্তরাজ্যের দৌড়বিদ তাশা থম্পসনও একসময় নিজের উরু নিয়ে অস্বস্তি বোধ করতেন। তার মনে হতো, উরু যদি আরও সরু হতো! কিছু সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে সরু পাকে সৌন্দর্যের মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়েছে। থম্পসন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন, সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে অনেকের মধ্যে ব্যর্থতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণার ফল কিছুটা ভিন্ন। উরুর আকারের সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে নিয়ে করা একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, উরুর পরিধি প্রতি ৫ সেন্টিমিটার বাড়লে যেকোনো কারণে মৃত্যুঝুঁকি ১৮ শতাংশ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। মেটা-অ্যানালাইসিস হলো একই বিষয়ে পরিচালিত একাধিক গবেষণার ফল একত্র করে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পদ্ধতি।
তবে এর অর্থ উরুর আকার বাড়ানোর জন্য আলাদাভাবে ব্যায়াম করা প্রয়োজন—এমন নয়। গবেষকদের মতে, এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উরুর পেশির শক্তি।
গবেষকদের ধারণা, ২০২০ সালের ওই মেটা-অ্যানালাইসিসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দীর্ঘায়ুর সঙ্গে পায়ের তুলনামূলক বেশি পেশির সম্পর্ক থাকতে পারে। পেশির পরিমাণ বেশি হলে উরু দেখতে পূর্ণ হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের বার্ধক্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক অধ্যাপক ক্লেয়ার স্টিভস বলেন, উরুর তিন ধরনের টিস্যুর মধ্যে পেশির সঙ্গে স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর খুব শক্তিশালী সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে।
বেশি পেশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
২০০৯ সালে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই চিকন উরুর সঙ্গে হৃদরোগ ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
শক্তিশালী উরু বয়স্কদের শারীরিক দুর্বলতা প্রতিরোধেও সহায়ক হতে পারে। এর ফলে তাদের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।
ক্লেয়ার স্টিভস লন্ডনের গাইজ অ্যান্ড সেইন্ট থমাস হাসপাতালের পরামর্শক জেরিয়াট্রিশিয়ানও। তিনি বলেন, বয়স বাড়ার পর শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে উরুর সামনের দিকের কোয়াড্রিসেপস পেশি গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ার থেকে ওঠা ও হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও এসব পেশি বড় ভূমিকা রাখে।
শুধু চলাফেরার সক্ষমতার সঙ্গেই নয়, পায়ের শক্তির সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থ বার্ধক্যেরও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
৩০০-এর বেশি যমজ নারীর পায়ের শক্তি পরিমাপ করে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, শুরুতে যাদের পায়ের শক্তি বেশি ছিল, ১০ বছর পর তাদের চিন্তা ও বোঝার ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের গঠন তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, সক্রিয় পেশি এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করে, যা প্রদাহ কমাতে পারে। একই সঙ্গে এসব রাসায়নিক মস্তিষ্কের বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে সুরক্ষা দিতে পারে। এ কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখতে পেশির ভূমিকা থাকতে পারে।
স্টিভস বলেন, শারীরিক কার্যকলাপ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও শক্তিশালী প্রভাব ফেলে।
কিংস কলেজ লন্ডনের আরেকটি গবেষণায় অত্যন্ত সক্রিয় বয়স্ক সাইক্লিস্টদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, তাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা তরুণদের মতোই সক্রিয় ছিল। কিছু ক্ষেত্রে তা ২০-এর কোঠায় থাকা মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গেও মিল পাওয়া যায়।
ফিটনেস কোচ এলিজাবেথ ডেভিসের মতে, দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে উরুর নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে পেশির শক্তির দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
‘ট্রেইনিং ফর ইয়োর ওল্ড লেডি বডি’ বইয়ের লেখক ডেভিস বলেন, বছরের পর বছর কেউ যদি মনে করেন তার উরু আরও সরু, বড় বা অন্যরকম হওয়া উচিত ছিল, তাহলে সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উরু কী করতে সক্ষম, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তার মতে, চিকন কিংবা মোটা—যেকোনো উরুই শক্তিশালী হতে পারে।
গবেষণাতেও উরুর আকারের চেয়ে শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। ২০০৬ সালে সত্তরের কোঠায় থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, ছোট পেশির তুলনায় দুর্বল পায়ের পেশি মৃত্যুর শক্তিশালী পূর্বাভাস দিয়েছে।
ডেভিসের মতে, উরুর শক্তি বাড়াতে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি। ওজন নিয়ে ব্যায়ামের আরেকটি সুবিধা হলো, এটি হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। অস্টিওপোরোসিস হলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
তার পরামর্শ, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পায়ের ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। নিজের বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন নিয়ে ব্যায়াম অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে না হলেও ডেভিস এটিকে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন। দাঁতের ফ্লস ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, পছন্দ না হলেও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যেমন ফ্লস ব্যবহার করা হয়, তেমনি শারীরিক শক্তি ধরে রাখতে শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও করা যায়।
তার মতে, শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের বাস্তব সুফল অনুভব করতে পারলে আগ্রহ বাড়তে পারে। যেমন নাতি-নাতনিকে কোলে নিয়ে সহজে হাঁটা কিংবা ভারী কোনো জিনিস অনায়াসে গাড়িতে তুলে দেওয়া—এসবই শক্তিশালী পেশির বাস্তব সুবিধা।
উরুতে থাকা চর্বিও আলাদাভাবে গবেষকদের বিবেচনায় এসেছে। স্টিভসের মতে, শরীরের অন্যান্য অংশের চর্বির তুলনায় উরুর চর্বি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। বিশেষ করে পেটের চারপাশের চর্বির তুলনায় এটি কম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে জমে থাকা চর্বিকে ভিসেরাল ফ্যাট বলা হয়। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং বিপাকীয় অকার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত এমএএসএইচের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব সমস্যার কারণে যকৃত বিকল হওয়া ও ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে শরীরের নিচের অংশের চর্বি কিছু ক্ষেত্রে সুরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঞ্চলের চর্বি কোষ ক্ষতিকর ফ্যাটি অ্যাসিড আটকে রাখতে সক্ষম।
এর ফলে শরীরের নিচের অংশের চর্বি এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমানো এবং এইচডিএল বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
চর্বি শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির মজুত হিসেবেও কাজ করে। অসুস্থতার সময়, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য, এই শক্তি উপকারী হতে পারে।
উরুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু হলো হাড়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সারকোপেনিয়া নামের একটি অবস্থার কারণে পেশির ভর ও শক্তি কমে যেতে পারে। সারকোপেনিয়া অস্টিওপোরোসিসকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এতে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
এ কারণে শক্তিশালী হাড় বার্ধক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্টিভস। রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে হাড়ের শক্তি বাড়ানো সম্ভব।
উরু কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই দৃষ্টিভঙ্গি তাশা থম্পসনের চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন এনেছে।
ব্ল্যাক গার্ল ডু রান ইউকে’ কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা থম্পসন জানান, কন্যাসন্তান হওয়ার পর উরু নিয়ে ব্যবহৃত ভাষাতেও তিনি পরিবর্তন এনেছেন। এখন তিনি উরুকে ‘মোটা’ বা ‘বড়’ না বলে ‘শক্তিশালী’ বলতে পছন্দ করেন।
আল্ট্রাম্যারাথনে দৌড়ানো ও ট্রায়াথলনে অংশ নেওয়া থম্পসনের মতে, মানুষ ভিন্ন ভিন্ন গড়ন ও আকার নিয়ে জন্মায়। তাই শরীর দেখতে কেমন তার চেয়ে শরীর কী করতে পারে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাজ্যের দৌড়বিদ তাশা থম্পসনও একসময় নিজের উরু নিয়ে অস্বস্তি বোধ করতেন। তার মনে হতো, উরু যদি আরও সরু হতো! কিছু সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে সরু পাকে সৌন্দর্যের মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়েছে। থম্পসন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন, সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে অনেকের মধ্যে ব্যর্থতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণার ফল কিছুটা ভিন্ন। উরুর আকারের সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে নিয়ে করা একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, উরুর পরিধি প্রতি ৫ সেন্টিমিটার বাড়লে যেকোনো কারণে মৃত্যুঝুঁকি ১৮ শতাংশ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। মেটা-অ্যানালাইসিস হলো একই বিষয়ে পরিচালিত একাধিক গবেষণার ফল একত্র করে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পদ্ধতি।
তবে এর অর্থ উরুর আকার বাড়ানোর জন্য আলাদাভাবে ব্যায়াম করা প্রয়োজন—এমন নয়। গবেষকদের মতে, এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উরুর পেশির শক্তি।
গবেষকদের ধারণা, ২০২০ সালের ওই মেটা-অ্যানালাইসিসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দীর্ঘায়ুর সঙ্গে পায়ের তুলনামূলক বেশি পেশির সম্পর্ক থাকতে পারে। পেশির পরিমাণ বেশি হলে উরু দেখতে পূর্ণ হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের বার্ধক্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক অধ্যাপক ক্লেয়ার স্টিভস বলেন, উরুর তিন ধরনের টিস্যুর মধ্যে পেশির সঙ্গে স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর খুব শক্তিশালী সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে।
বেশি পেশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
২০০৯ সালে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই চিকন উরুর সঙ্গে হৃদরোগ ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
শক্তিশালী উরু বয়স্কদের শারীরিক দুর্বলতা প্রতিরোধেও সহায়ক হতে পারে। এর ফলে তাদের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।
ক্লেয়ার স্টিভস লন্ডনের গাইজ অ্যান্ড সেইন্ট থমাস হাসপাতালের পরামর্শক জেরিয়াট্রিশিয়ানও। তিনি বলেন, বয়স বাড়ার পর শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে উরুর সামনের দিকের কোয়াড্রিসেপস পেশি গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ার থেকে ওঠা ও হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও এসব পেশি বড় ভূমিকা রাখে।
শুধু চলাফেরার সক্ষমতার সঙ্গেই নয়, পায়ের শক্তির সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থ বার্ধক্যেরও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
৩০০-এর বেশি যমজ নারীর পায়ের শক্তি পরিমাপ করে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, শুরুতে যাদের পায়ের শক্তি বেশি ছিল, ১০ বছর পর তাদের চিন্তা ও বোঝার ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের গঠন তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, সক্রিয় পেশি এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করে, যা প্রদাহ কমাতে পারে। একই সঙ্গে এসব রাসায়নিক মস্তিষ্কের বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে সুরক্ষা দিতে পারে। এ কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখতে পেশির ভূমিকা থাকতে পারে।
স্টিভস বলেন, শারীরিক কার্যকলাপ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও শক্তিশালী প্রভাব ফেলে।
কিংস কলেজ লন্ডনের আরেকটি গবেষণায় অত্যন্ত সক্রিয় বয়স্ক সাইক্লিস্টদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এতে দেখা যায়, তাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা তরুণদের মতোই সক্রিয় ছিল। কিছু ক্ষেত্রে তা ২০-এর কোঠায় থাকা মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গেও মিল পাওয়া যায়।
ফিটনেস কোচ এলিজাবেথ ডেভিসের মতে, দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে উরুর নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে পেশির শক্তির দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
‘ট্রেইনিং ফর ইয়োর ওল্ড লেডি বডি’ বইয়ের লেখক ডেভিস বলেন, বছরের পর বছর কেউ যদি মনে করেন তার উরু আরও সরু, বড় বা অন্যরকম হওয়া উচিত ছিল, তাহলে সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উরু কী করতে সক্ষম, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
তার মতে, চিকন কিংবা মোটা—যেকোনো উরুই শক্তিশালী হতে পারে।
গবেষণাতেও উরুর আকারের চেয়ে শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। ২০০৬ সালে সত্তরের কোঠায় থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, ছোট পেশির তুলনায় দুর্বল পায়ের পেশি মৃত্যুর শক্তিশালী পূর্বাভাস দিয়েছে।
ডেভিসের মতে, উরুর শক্তি বাড়াতে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি। ওজন নিয়ে ব্যায়ামের আরেকটি সুবিধা হলো, এটি হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। অস্টিওপোরোসিস হলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
তার পরামর্শ, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পায়ের ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। নিজের বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন নিয়ে ব্যায়াম অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে না হলেও ডেভিস এটিকে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন। দাঁতের ফ্লস ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, পছন্দ না হলেও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যেমন ফ্লস ব্যবহার করা হয়, তেমনি শারীরিক শক্তি ধরে রাখতে শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও করা যায়।
তার মতে, শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের বাস্তব সুফল অনুভব করতে পারলে আগ্রহ বাড়তে পারে। যেমন নাতি-নাতনিকে কোলে নিয়ে সহজে হাঁটা কিংবা ভারী কোনো জিনিস অনায়াসে গাড়িতে তুলে দেওয়া—এসবই শক্তিশালী পেশির বাস্তব সুবিধা।
উরুতে থাকা চর্বিও আলাদাভাবে গবেষকদের বিবেচনায় এসেছে। স্টিভসের মতে, শরীরের অন্যান্য অংশের চর্বির তুলনায় উরুর চর্বি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। বিশেষ করে পেটের চারপাশের চর্বির তুলনায় এটি কম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে জমে থাকা চর্বিকে ভিসেরাল ফ্যাট বলা হয়। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং বিপাকীয় অকার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত এমএএসএইচের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব সমস্যার কারণে যকৃত বিকল হওয়া ও ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে শরীরের নিচের অংশের চর্বি কিছু ক্ষেত্রে সুরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঞ্চলের চর্বি কোষ ক্ষতিকর ফ্যাটি অ্যাসিড আটকে রাখতে সক্ষম।
এর ফলে শরীরের নিচের অংশের চর্বি এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমানো এবং এইচডিএল বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
চর্বি শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির মজুত হিসেবেও কাজ করে। অসুস্থতার সময়, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য, এই শক্তি উপকারী হতে পারে।
উরুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু হলো হাড়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সারকোপেনিয়া নামের একটি অবস্থার কারণে পেশির ভর ও শক্তি কমে যেতে পারে। সারকোপেনিয়া অস্টিওপোরোসিসকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এতে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
এ কারণে শক্তিশালী হাড় বার্ধক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্টিভস। রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে হাড়ের শক্তি বাড়ানো সম্ভব।
উরু কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই দৃষ্টিভঙ্গি তাশা থম্পসনের চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন এনেছে।
ব্ল্যাক গার্ল ডু রান ইউকে’ কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা থম্পসন জানান, কন্যাসন্তান হওয়ার পর উরু নিয়ে ব্যবহৃত ভাষাতেও তিনি পরিবর্তন এনেছেন। এখন তিনি উরুকে ‘মোটা’ বা ‘বড়’ না বলে ‘শক্তিশালী’ বলতে পছন্দ করেন।
আল্ট্রাম্যারাথনে দৌড়ানো ও ট্রায়াথলনে অংশ নেওয়া থম্পসনের মতে, মানুষ ভিন্ন ভিন্ন গড়ন ও আকার নিয়ে জন্মায়। তাই শরীর দেখতে কেমন তার চেয়ে শরীর কী করতে পারে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

আপনার মতামত লিখুন