ঢাকা    সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

‘ইসলামকে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা যারা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়েছে’

‘ইসলামকে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা যারা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়েছে’
‘ইসলামকে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা যারা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়েছে’

মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী। তিনি বলেন, যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী বলে পরিচয় করিয়ে দেয়, প্রকৃতপক্ষে তারাই সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী। আগে বিভিন্নভাবে মুসলমানরা লক্ষ্যবস্তু হলেও বর্তমানে ইসলাম ধর্মকেও সরাসরি লক্ষ্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু ইসলাম এখনো টিকে আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

১৫ আগস্ট দেওবন্দের কাসেমি ময়দান চত্বরে আয়োজিত বিশেষ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে মহান নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি ধ্বংসের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। তার মতে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দারুল উলুম দেওবন্দ, আলেম সমাজ, মাদ্রাসা ও মুসলমানদের আত্মত্যাগ বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে লেখা বা বোঝা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল্য কী, তা তাদের জিজ্ঞেস করা উচিত, যারা এর জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। ১৮৫৭ সালের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পর ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাওলানা মাদানী বলেন, দুঃখজনকভাবে বর্তমানে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত করার পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলোকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অথচ মাদ্রাসা, খানকাহ ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

মাদ্রাসার কাছে দেশপ্রেমের প্রমাণ যারা চান, তাদের নিজেদের অতীতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানান তিনি। ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের অতীত দেখার কথা বলেন মাওলানা মাদানী। তিনি বলেন, কাবুলের অস্থায়ী সরকারে হিন্দু রাজা মহেন্দ্র প্রতাপকে রাষ্ট্রপতি করে তাঁদের পূর্বসূরিরা ভারতের স্বাধীনতার বহু আগেই ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

তার অভিযোগ, বর্তমানে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো ভারতের সংবিধান থেকে ‘সেকুলার’ শব্দটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে মুসলমানদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে এবং মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে।

স্বাধীনতা আন্দোলনে আলেমদের অবদানের কথা তুলে ধরে মাওলানা আরশাদ মাদানী রেশমি রুমাল আন্দোলন ও মাল্টায় আলেমদের কারাবন্দি থাকার ইতিহাস উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী, শায়খুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী এবং তাদের সহযোদ্ধাদের ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করার আন্দোলনের কারণে মাল্টায় বন্দি রাখা হয়েছিল। আলেমরা যখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ করছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করছিলেন, তখন বর্তমানে যারা দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিতরণ করছেন, সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির আদর্শিক পূর্বসূরিরা কোথায় ছিলেন—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে আলেম সমাজ ও মুসলমানদের আত্মত্যাগের অধ্যায় কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিই মুছে ফেলতে পারবে না। মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ইসলাম ও মুসলমান অতীতেও ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সূত্র: দ্য ইনকিলাব, ভারত

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


‘ইসলামকে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা যারা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়েছে’

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী। তিনি বলেন, যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী বলে পরিচয় করিয়ে দেয়, প্রকৃতপক্ষে তারাই সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী। আগে বিভিন্নভাবে মুসলমানরা লক্ষ্যবস্তু হলেও বর্তমানে ইসলাম ধর্মকেও সরাসরি লক্ষ্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু ইসলাম এখনো টিকে আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

১৫ আগস্ট দেওবন্দের কাসেমি ময়দান চত্বরে আয়োজিত বিশেষ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে মহান নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি ধ্বংসের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। তার মতে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দারুল উলুম দেওবন্দ, আলেম সমাজ, মাদ্রাসা ও মুসলমানদের আত্মত্যাগ বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে লেখা বা বোঝা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল্য কী, তা তাদের জিজ্ঞেস করা উচিত, যারা এর জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। ১৮৫৭ সালের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পর ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাওলানা মাদানী বলেন, দুঃখজনকভাবে বর্তমানে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত করার পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলোকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অথচ মাদ্রাসা, খানকাহ ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

মাদ্রাসার কাছে দেশপ্রেমের প্রমাণ যারা চান, তাদের নিজেদের অতীতের দিকে তাকানোর আহ্বান জানান তিনি। ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের অতীত দেখার কথা বলেন মাওলানা মাদানী। তিনি বলেন, কাবুলের অস্থায়ী সরকারে হিন্দু রাজা মহেন্দ্র প্রতাপকে রাষ্ট্রপতি করে তাঁদের পূর্বসূরিরা ভারতের স্বাধীনতার বহু আগেই ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

তার অভিযোগ, বর্তমানে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো ভারতের সংবিধান থেকে ‘সেকুলার’ শব্দটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে মুসলমানদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে এবং মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে।

স্বাধীনতা আন্দোলনে আলেমদের অবদানের কথা তুলে ধরে মাওলানা আরশাদ মাদানী রেশমি রুমাল আন্দোলন ও মাল্টায় আলেমদের কারাবন্দি থাকার ইতিহাস উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী, শায়খুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী এবং তাদের সহযোদ্ধাদের ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করার আন্দোলনের কারণে মাল্টায় বন্দি রাখা হয়েছিল। আলেমরা যখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ করছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করছিলেন, তখন বর্তমানে যারা দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিতরণ করছেন, সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির আদর্শিক পূর্বসূরিরা কোথায় ছিলেন—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে আলেম সমাজ ও মুসলমানদের আত্মত্যাগের অধ্যায় কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিই মুছে ফেলতে পারবে না। মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ইসলাম ও মুসলমান অতীতেও ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সূত্র: দ্য ইনকিলাব, ভারত


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
‘ইসলামকে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা যারা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়েছে’
0:00 0:00
1.0x