স্বামীর মৃত্যুর পর মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ডা. দীপু মনির সাময়িক প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী গাজী ফয়সল ইসলাম।
তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চলাফেরার জন্য তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন। পারিবারিক জীবনে দীপু মনি ও তৌফিক নেওয়াজের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী গাজী ফয়সল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। স্বামীর জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে তার সাময়িক প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।
কারাগারে থাকা কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে অল্প সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়াকে সাধারণভাবে প্যারোল বলা হয়। ‘প্যারোল’ শব্দটি ফরাসি শব্দ ‘Parole’ থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রতিশ্রুতি। দেশের প্রচলিত আইনে প্যারোলের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট বিধান না থাকলেও বন্দীর জরুরি মানবিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এটি দেওয়া হয়। সাধারণত বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি বা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা কিংবা শেষকৃত্যে অংশ নিতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য এ প্রশাসনিক মুক্তি দেওয়া হয়।
প্যারোল কোনো আদালতের বিচারিক আদেশ নয়; এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা নির্বাহী বিভাগের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। সাধারণভাবে গ্রেপ্তারের পর বিচারিক আদেশে কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পান অথবা কারাগারে পাঠানো হয়। অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় আদালত জামিন দিতে পারে। তবে প্যারোল জামিনের সমতুল্য নয়; এটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাময়িক মুক্তির একটি ব্যবস্থা।
২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রণীত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, ভিআইপি কিংবা সাধারণ বন্দীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। নীতিমালায় বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখা এবং সাধারণত ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্যারোল অনুমোদনের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রবেশন ও প্যারোলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ‘প্রবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ এবং শিশু আইনের অধীনে আদালত বিচারিক আদেশের মাধ্যমে কোনো অপরাধীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময় প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখতে পারে। এটি বিচারিক সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় রাষ্ট্রপতি ও সরকার দণ্ড মওকুফ, স্থগিত, হ্রাস কিংবা সাময়িক বিলম্বন ও বিরাম দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এসব নীতিমালার ভিত্তিতেই বন্দীদের প্যারোলের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
স্বামীর মৃত্যুর পর মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ডা. দীপু মনির সাময়িক প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী গাজী ফয়সল ইসলাম।
তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চলাফেরার জন্য তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন। পারিবারিক জীবনে দীপু মনি ও তৌফিক নেওয়াজের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী গাজী ফয়সল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। স্বামীর জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে তার সাময়িক প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।
কারাগারে থাকা কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে অল্প সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়াকে সাধারণভাবে প্যারোল বলা হয়। ‘প্যারোল’ শব্দটি ফরাসি শব্দ ‘Parole’ থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রতিশ্রুতি। দেশের প্রচলিত আইনে প্যারোলের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট বিধান না থাকলেও বন্দীর জরুরি মানবিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এটি দেওয়া হয়। সাধারণত বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি বা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা কিংবা শেষকৃত্যে অংশ নিতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য এ প্রশাসনিক মুক্তি দেওয়া হয়।
প্যারোল কোনো আদালতের বিচারিক আদেশ নয়; এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা নির্বাহী বিভাগের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। সাধারণভাবে গ্রেপ্তারের পর বিচারিক আদেশে কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পান অথবা কারাগারে পাঠানো হয়। অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় আদালত জামিন দিতে পারে। তবে প্যারোল জামিনের সমতুল্য নয়; এটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সাময়িক মুক্তির একটি ব্যবস্থা।
২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রণীত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, ভিআইপি কিংবা সাধারণ বন্দীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। নীতিমালায় বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখা এবং সাধারণত ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্যারোল অনুমোদনের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রবেশন ও প্যারোলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ‘প্রবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ এবং শিশু আইনের অধীনে আদালত বিচারিক আদেশের মাধ্যমে কোনো অপরাধীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময় প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখতে পারে। এটি বিচারিক সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় রাষ্ট্রপতি ও সরকার দণ্ড মওকুফ, স্থগিত, হ্রাস কিংবা সাময়িক বিলম্বন ও বিরাম দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এসব নীতিমালার ভিত্তিতেই বন্দীদের প্যারোলের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন