শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও গবেষক আলতাফ পারভেজ। এ সময় প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক নিভীন রেজা এবং সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সংগঠনটির কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসাসেবায় অবহেলার শিকার কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা ভুক্তভোগীরাও যাতে ন্যায়বিচারের সুযোগ পান, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান আইনি কাঠামো পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসক, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর আইনগত কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনা সভায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিযোগ কোথায় এবং কীভাবে করতে হবে, কী ধরনের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং কোথা থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে—এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীদের তথ্য, পরামর্শ ও ফলোআপ সহায়তা দেওয়া হবে।
আয়োজকরা আরও জানান, প্ল্যাটফর্মটির কাজ কেবল অভিযোগ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পথ দেখানো এবং একটি ঘটনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
একই সঙ্গে রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা—দুই বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এই নাগরিক উদ্যোগ কাজ করবে বলে জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নানা ধরনের চাপ থাকলেও চিকিৎসাসেবায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের শিকার মানুষের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে করা অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজন জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে, কী ধরনের প্রমাণ বা নথি সংরক্ষণ করতে হবে এবং অভিযোগের অগ্রগতি কীভাবে অনুসরণ করা যায়। এসব তথ্য ও সহায়তার ঘাটতি দূর করাই ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’-এর অন্যতম লক্ষ্য।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তা ও নাগরিক আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেও অধিকাংশ মানুষকে দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
সূত্র: আমার দেশ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও গবেষক আলতাফ পারভেজ। এ সময় প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক নিভীন রেজা এবং সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সংগঠনটির কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসাসেবায় অবহেলার শিকার কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা ভুক্তভোগীরাও যাতে ন্যায়বিচারের সুযোগ পান, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান আইনি কাঠামো পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসক, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর আইনগত কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনা সভায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিযোগ কোথায় এবং কীভাবে করতে হবে, কী ধরনের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং কোথা থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে—এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীদের তথ্য, পরামর্শ ও ফলোআপ সহায়তা দেওয়া হবে।
আয়োজকরা আরও জানান, প্ল্যাটফর্মটির কাজ কেবল অভিযোগ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পথ দেখানো এবং একটি ঘটনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
একই সঙ্গে রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা—দুই বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এই নাগরিক উদ্যোগ কাজ করবে বলে জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নানা ধরনের চাপ থাকলেও চিকিৎসাসেবায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের শিকার মানুষের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে করা অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজন জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে, কী ধরনের প্রমাণ বা নথি সংরক্ষণ করতে হবে এবং অভিযোগের অগ্রগতি কীভাবে অনুসরণ করা যায়। এসব তথ্য ও সহায়তার ঘাটতি দূর করাই ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন’-এর অন্যতম লক্ষ্য।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তা ও নাগরিক আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেও অধিকাংশ মানুষকে দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন