শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র শর্নশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়।
অন্যদিকে, রাত আড়াইটার দিকে নামাজে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয় দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ।
স্থানীয় সাংবাদিক ও পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া থেকে যাওয়া দেবাশীষের সতীর্থ সাংবাদিকরা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়।
এর আগে সন্ধ্যার আগ থেকেই ওই বাড়ি ও আশপাশের সড়কে হাজারো মানুষ জড়ো হন। মরদেহবাহী গাড়ি পৌঁছানোর পর স্বজনদের শেষবারের মতো দেখতে সেখানে মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়।
এ সময় সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো বাড়ির কাছের তরুণ সংঘ ক্লাব মাঠে রাখা হয়। সেখানেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
রাত পৌনে ১টার দিকে ভিড় কিছুটা কমলে মরদেহগুলো আবার দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হয়। তখন পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের নিথর মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের পাশাপাশি সতীর্থ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ শহরের কুঠিপাড়ার মডেল মসজিদে নেওয়া হয়।
রাত পৌনে ২টার দিকে স্থানীয় মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার সাড়ে তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্তকে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়। এ সময় তাদের স্বজন, সহকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দর্শনা-গেদে চেকপোস্ট দিয়ে কলকাতায় যান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী, শিশুপুত্র ও শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে উড়োজাহাজে তামিলনাড়ু রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে যান তিনি। সেখানে নারায়ানান হাসপাতালে স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার সকালে উড়োজাহাজে কলকাতায় ফেরেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু কেনাকাটা করে পরদিন সকালে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। রাতযাপনের জন্য কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন তারা।
দিনভর স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য কেনাকাটা করেন দেবাশীষ। পরে রাত আড়াইটার দিকে ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান।
সূত্র: ইত্তেফাক

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র শর্নশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়।
অন্যদিকে, রাত আড়াইটার দিকে নামাজে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয় দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ।
স্থানীয় সাংবাদিক ও পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া থেকে যাওয়া দেবাশীষের সতীর্থ সাংবাদিকরা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়।
এর আগে সন্ধ্যার আগ থেকেই ওই বাড়ি ও আশপাশের সড়কে হাজারো মানুষ জড়ো হন। মরদেহবাহী গাড়ি পৌঁছানোর পর স্বজনদের শেষবারের মতো দেখতে সেখানে মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়।
এ সময় সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো বাড়ির কাছের তরুণ সংঘ ক্লাব মাঠে রাখা হয়। সেখানেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
রাত পৌনে ১টার দিকে ভিড় কিছুটা কমলে মরদেহগুলো আবার দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হয়। তখন পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের নিথর মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের পাশাপাশি সতীর্থ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ শহরের কুঠিপাড়ার মডেল মসজিদে নেওয়া হয়।
রাত পৌনে ২টার দিকে স্থানীয় মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার সাড়ে তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্তকে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়। এ সময় তাদের স্বজন, সহকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দর্শনা-গেদে চেকপোস্ট দিয়ে কলকাতায় যান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী, শিশুপুত্র ও শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে উড়োজাহাজে তামিলনাড়ু রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে যান তিনি। সেখানে নারায়ানান হাসপাতালে স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার সকালে উড়োজাহাজে কলকাতায় ফেরেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু কেনাকাটা করে পরদিন সকালে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। রাতযাপনের জন্য কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন তারা।
দিনভর স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য কেনাকাটা করেন দেবাশীষ। পরে রাত আড়াইটার দিকে ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান।
সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন