ওয়েইসি বলেন, মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়। তাঁর মতে, সমতা মানে সবার ওপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া নয়। ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে নির্দিষ্ট পোশাকবিধি চাপিয়ে দিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে এরই মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে বিচার চলছে। শবরীমালা মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রথা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে উচ্চ আদালতের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
হিজাব পরার কারণে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ওয়েইসি। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে বিদ্যালয়ে মুসলিম মেয়েদের ভর্তির হার দেশের মধ্যে অন্যতম কম। এমন পরিস্থিতিতে পোশাক নিয়ে কঠোরতা শিক্ষার সুযোগকে আরও সংকুচিত করতে পারে।
ওয়েইসি বলেন, ধর্ম আমাদের। ধর্মীয় বিষয়ে কী প্রয়োজন, সে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশ ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
তাঁর মতে, সংবিধানে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতার অধিকারও এ নির্দেশের মাধ্যমে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করেন। ওই ছাত্রী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরে পড়াশোনা করেছে। তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে আপত্তি জানায়নি। তবে একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর হিজাব পরা নিয়ে আপত্তি দেখা দেয়। এরপর ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয় ওই ছাত্রী।
আদালত আবেদনটি খারিজ করে জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে সেই পোশাকবিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। আদালত আরও বলেছে, বিদ্যালয়ে হিজাব পরা ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা—এমন কোনো প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদ্যালয় নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধির আওতায় পরিচালিত হয়। সেখানে ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আলাদা পোশাকের অনুমতি দাবি করা যায় কি না, সেটিই ছিল মামলার মূল বিষয়। আদালত এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকবিধির পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সমতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। ওয়েইসির মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ওয়েইসি বলেন, মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়। তাঁর মতে, সমতা মানে সবার ওপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া নয়। ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে নির্দিষ্ট পোশাকবিধি চাপিয়ে দিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে এরই মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে বিচার চলছে। শবরীমালা মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রথা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে উচ্চ আদালতের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
হিজাব পরার কারণে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ওয়েইসি। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে বিদ্যালয়ে মুসলিম মেয়েদের ভর্তির হার দেশের মধ্যে অন্যতম কম। এমন পরিস্থিতিতে পোশাক নিয়ে কঠোরতা শিক্ষার সুযোগকে আরও সংকুচিত করতে পারে।
ওয়েইসি বলেন, ধর্ম আমাদের। ধর্মীয় বিষয়ে কী প্রয়োজন, সে সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশ ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
তাঁর মতে, সংবিধানে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতার অধিকারও এ নির্দেশের মাধ্যমে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করেন। ওই ছাত্রী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরে পড়াশোনা করেছে। তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে আপত্তি জানায়নি। তবে একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর হিজাব পরা নিয়ে আপত্তি দেখা দেয়। এরপর ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয় ওই ছাত্রী।
আদালত আবেদনটি খারিজ করে জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে সেই পোশাকবিধি পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। আদালত আরও বলেছে, বিদ্যালয়ে হিজাব পরা ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা—এমন কোনো প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদ্যালয় নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধির আওতায় পরিচালিত হয়। সেখানে ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আলাদা পোশাকের অনুমতি দাবি করা যায় কি না, সেটিই ছিল মামলার মূল বিষয়। আদালত এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকবিধির পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সমতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। ওয়েইসির মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর

আপনার মতামত লিখুন