তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব দাবি এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আমি কয়েকটি বিষয়ে শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।’
নবম পে-স্কেল প্রসঙ্গে দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রায় ১১ বছর পার হয়ে গেছে। অথচ এই সময়ের মধ্যে অন্তত আরও দুটি পে-স্কেল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বঞ্চিত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি পে কমিশন গঠন করে। কমিশনের সদস্যরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদেরও আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমরা তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি লিখিতভাবে তুলে ধরেছি।’
দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘পে কমিশন অল্প সময়ের মধ্যে তাদের জন্য বরাদ্দ অর্থের মাত্র ১৯ শতাংশ ব্যয় করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সরকারও ২২ হাজার কোটি টাকা পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে অনেক চেষ্টা ও সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ওই সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর কারণ আমাদের সবার কাছে স্পষ্ট।’
নবম পে-স্কেল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই পে-স্কেল ঘোষণা করবে। কিন্তু এখনো পে-স্কেল নিয়ে একের পর এক বৈঠক হচ্ছে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বেশি প্রতিবেদন হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আর কোনো কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেলের প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘আমাদের বিষয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়া হবে। আমরা কি সেই স্বতন্ত্র পে-স্কেল পেয়েছি? পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কি সেই ১০ শতাংশ দিতে পেরেছেন? পারেননি।’
দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘তিনি এখন আবার নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবের মতো বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। এখন বলা হচ্ছে, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়া হবে। আমরা শিক্ষকদের সম্মান চাই। কিন্তু স্বতন্ত্র পে-স্কেলের নামে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নবম পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত করার কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এবং তাদের প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করার আগে শহীদ মিনারে বাড়িভাড়া আন্দোলনের চিত্রটি একবার নিজেদের চোখের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের একটি শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের সন্তান ও তৌহিদি জনতা জীবন দিয়ে, রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়ে শিক্ষা দিয়েছে—আমরা আর কারও শক্তির কাছে মাথা নত করব না। আমরা কারও কাছে আর মাথা নত করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়িভাড়ার আন্দোলনের মাধ্যমে শিখে গিয়েছি, কীভাবে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করতে হয়।’
দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘সরকার বাড়িভাড়া হিসেবে ৫০০ টাকা দিয়েছিল। মনে আছে আপনাদের? আমরা ৫০০ টাকা মেনে নিইনি। এরপর মন্ত্রণালয় আমাদের ডেকে নেয়। বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছিল, এই টাকা নিয়ে যেতে। একজন উপদেষ্টা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, এখন ৫ শতাংশ না নিলে আর ৫ শতাংশ দেওয়া হবে না। আমরা সেটি প্রত্যাখ্যান করে সেখান থেকে চলে এসেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে বসে আমি কান্না করেছিলাম। সেই কান্না সারা বাংলাদেশের শিক্ষকদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। এরপর শহীদ মিনারের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে বাধ্য করে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া আদায় করেছি।’
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব দাবি এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আমি কয়েকটি বিষয়ে শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।’
নবম পে-স্কেল প্রসঙ্গে দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রায় ১১ বছর পার হয়ে গেছে। অথচ এই সময়ের মধ্যে অন্তত আরও দুটি পে-স্কেল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বঞ্চিত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি পে কমিশন গঠন করে। কমিশনের সদস্যরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদেরও আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমরা তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি লিখিতভাবে তুলে ধরেছি।’
দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘পে কমিশন অল্প সময়ের মধ্যে তাদের জন্য বরাদ্দ অর্থের মাত্র ১৯ শতাংশ ব্যয় করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সরকারও ২২ হাজার কোটি টাকা পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে অনেক চেষ্টা ও সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ওই সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর কারণ আমাদের সবার কাছে স্পষ্ট।’
নবম পে-স্কেল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই পে-স্কেল ঘোষণা করবে। কিন্তু এখনো পে-স্কেল নিয়ে একের পর এক বৈঠক হচ্ছে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বেশি প্রতিবেদন হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আর কোনো কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেলের প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘আমাদের বিষয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়া হবে। আমরা কি সেই স্বতন্ত্র পে-স্কেল পেয়েছি? পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কি সেই ১০ শতাংশ দিতে পেরেছেন? পারেননি।’
দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘তিনি এখন আবার নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবের মতো বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। এখন বলা হচ্ছে, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়া হবে। আমরা শিক্ষকদের সম্মান চাই। কিন্তু স্বতন্ত্র পে-স্কেলের নামে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নবম পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত করার কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এবং তাদের প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করার আগে শহীদ মিনারে বাড়িভাড়া আন্দোলনের চিত্রটি একবার নিজেদের চোখের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের একটি শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের সন্তান ও তৌহিদি জনতা জীবন দিয়ে, রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়ে শিক্ষা দিয়েছে—আমরা আর কারও শক্তির কাছে মাথা নত করব না। আমরা কারও কাছে আর মাথা নত করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়িভাড়ার আন্দোলনের মাধ্যমে শিখে গিয়েছি, কীভাবে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করতে হয়।’
দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘সরকার বাড়িভাড়া হিসেবে ৫০০ টাকা দিয়েছিল। মনে আছে আপনাদের? আমরা ৫০০ টাকা মেনে নিইনি। এরপর মন্ত্রণালয় আমাদের ডেকে নেয়। বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছিল, এই টাকা নিয়ে যেতে। একজন উপদেষ্টা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, এখন ৫ শতাংশ না নিলে আর ৫ শতাংশ দেওয়া হবে না। আমরা সেটি প্রত্যাখ্যান করে সেখান থেকে চলে এসেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে বসে আমি কান্না করেছিলাম। সেই কান্না সারা বাংলাদেশের শিক্ষকদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। এরপর শহীদ মিনারের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে বাধ্য করে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া আদায় করেছি।’
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

আপনার মতামত লিখুন