শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটের ফ্লেমিংকো কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা থেকে প্রায় তিন শতাধিক যুব প্রতিনিধি অংশ নেন।
সাইফুল হক বলেন, অসহনীয় বেকারত্ব দ্রুত কমানো না গেলে দেশে সামাজিক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশের বিপুল যুবশক্তির সম্ভাবনা আর নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়। মানুষের জীবন, জানমাল ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মানুষ হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দুর্বৃত্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সাইফুল হক সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ না করার ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, শুধু ভারতের সঙ্গে নয়, সব পরাশক্তির সঙ্গে জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে। ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চায়, তাহলে বাংলাদেশবিরোধী সব অপপ্রচার ও অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
জ্বালানি খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাত কোনোভাবেই বিদেশ-নির্ভর রাখা উচিত নয়। জাতীয় স্বাবলম্বিতার নীতিতে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সমুদ্র ও ভূখণ্ডে থাকা দেশের জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সাইফুল হক বলেন, নির্বাচিত সরকারকে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগের মতো আর কোনো পক্ষ যেন জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবী যুবসমাজকে সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে যুব সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ ও ’৭০-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন ও সংগ্রামে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব জাস্টিসসহ বিভিন্ন প্রতারণা ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যুবক বিপদের মুখে পড়েছেন, বেকারত্বের শিকার হয়েছেন এবং জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এই হতাশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের পরিবর্তন ও মানুষের মুক্তির সংগ্রামে শক্তিশালী বিপ্লবী শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
যুব নেতা তুহিন রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতির সদস্যসচিব মীর রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আওয়াল মাহমুদ এবং ঢাকা উত্তরের যুব সংগঠক ইব্রাহিম হোসেন রনি।
সভায় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, যুবসমাজের সংকট, কর্মসংস্থান, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং বিপ্লবী যুব সংহতির অকালপ্রয়াত সংগঠক শিবু মোহান্ত ও নেপালে পার্বত্য সুনামিতে নিহতদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
সূত্র: আমার দেশ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটের ফ্লেমিংকো কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা থেকে প্রায় তিন শতাধিক যুব প্রতিনিধি অংশ নেন।
সাইফুল হক বলেন, অসহনীয় বেকারত্ব দ্রুত কমানো না গেলে দেশে সামাজিক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশের বিপুল যুবশক্তির সম্ভাবনা আর নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়। মানুষের জীবন, জানমাল ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মানুষ হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দুর্বৃত্ত ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সাইফুল হক সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ না করার ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, শুধু ভারতের সঙ্গে নয়, সব পরাশক্তির সঙ্গে জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে। ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চায়, তাহলে বাংলাদেশবিরোধী সব অপপ্রচার ও অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
জ্বালানি খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাত কোনোভাবেই বিদেশ-নির্ভর রাখা উচিত নয়। জাতীয় স্বাবলম্বিতার নীতিতে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সমুদ্র ও ভূখণ্ডে থাকা দেশের জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সাইফুল হক বলেন, নির্বাচিত সরকারকে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগের মতো আর কোনো পক্ষ যেন জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবী যুবসমাজকে সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে যুব সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ ও ’৭০-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন ও সংগ্রামে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব জাস্টিসসহ বিভিন্ন প্রতারণা ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যুবক বিপদের মুখে পড়েছেন, বেকারত্বের শিকার হয়েছেন এবং জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এই হতাশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের পরিবর্তন ও মানুষের মুক্তির সংগ্রামে শক্তিশালী বিপ্লবী শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
যুব নেতা তুহিন রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতির সদস্যসচিব মীর রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আওয়াল মাহমুদ এবং ঢাকা উত্তরের যুব সংগঠক ইব্রাহিম হোসেন রনি।
সভায় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, যুবসমাজের সংকট, কর্মসংস্থান, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ এবং বিপ্লবী যুব সংহতির অকালপ্রয়াত সংগঠক শিবু মোহান্ত ও নেপালে পার্বত্য সুনামিতে নিহতদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন