তিনি বলেন, ছাত্রজীবন নিজেকে প্রস্তুত করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদের আদর্শিকভাবে নিজেদের সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের ঐতিহাসিক শহীদ ওসমান হাদী চত্বরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় বর্তমান ও সাবেক নেতারা বক্তব্য দেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে চরমোনাই পীর বলেন, নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আদর্শনির্ভর ছাত্র সংগঠন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্বসহ নানা অপকর্মের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শকে সামনে রেখে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কেবল একটি ছাত্র সংগঠন নয়, বরং এটি আদর্শিক আন্দোলনের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এখান থেকে এমন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে, যারা সততা, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিজেদের ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত করতে পারলে তাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা উড়বে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, গণভোটের প্রথা প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা পূরণ করতে হবে। এই অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হলে দেশের জনগণ কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে বক্তারা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পথচলা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ছাত্রসমাজের মধ্যে নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ছাত্রসমাজ থেকেই গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও আদর্শিক চেতনায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করিম মারুফ, উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল করিম আকরাম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ বি এম জাকারিয়া এবং ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হানিফ মিয়া।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, হোসাইন ইবনে সরোয়ার, ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম খলীল প্রমুখ।
সূত্র: আমার দেশ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
তিনি বলেন, ছাত্রজীবন নিজেকে প্রস্তুত করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদের আদর্শিকভাবে নিজেদের সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের ঐতিহাসিক শহীদ ওসমান হাদী চত্বরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় বর্তমান ও সাবেক নেতারা বক্তব্য দেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে চরমোনাই পীর বলেন, নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আদর্শনির্ভর ছাত্র সংগঠন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্বসহ নানা অপকর্মের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শকে সামনে রেখে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কেবল একটি ছাত্র সংগঠন নয়, বরং এটি আদর্শিক আন্দোলনের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এখান থেকে এমন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে, যারা সততা, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিজেদের ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত করতে পারলে তাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা উড়বে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, গণভোটের প্রথা প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা পূরণ করতে হবে। এই অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হলে দেশের জনগণ কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে বক্তারা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পথচলা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ছাত্রসমাজের মধ্যে নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ছাত্রসমাজ থেকেই গড়ে ওঠে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও আদর্শিক চেতনায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করিম মারুফ, উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল করিম আকরাম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ বি এম জাকারিয়া এবং ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হানিফ মিয়া।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, হোসাইন ইবনে সরোয়ার, ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম খলীল প্রমুখ।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন