ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ

নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ
নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ

দীর্ঘদিন ধরে সময় পেছানোর পর অবশেষে আগামী নভেম্বর মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রথম ধাপে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হবে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর আগে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব (পিওআরভি)-এর ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হওয়ার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনে যাওয়ার আগে বি-টু ধাপে দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইনের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ স্টিম তৈরি করতে আরও ছয় সপ্তাহ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে সময় লাগবে প্রায় নয় সপ্তাহ বা দুই মাস।

এ হিসাবে আইডিয়াল প্রোগ্রাম অনুসরণ করা গেলে আগামী নভেম্বরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচসহ মূল্য ১০ টাকার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো রাশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি থেকে উৎপন্ন অন্যান্য ভারি বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের বিষয়েও এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যেভাবে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ

রূপপুর প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, বি-ওয়ান ধাপ থেকেই ফুয়েল লোডিংয়ের কাজ শুরু হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটানো হয়। বি-টু ধাপকে অনেকে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

সহজভাবে বলতে গেলে, বি-টু ধাপের অর্থ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং এবং ফিজিক্যাল স্টার্টআপ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটানো হবে। এর মাধ্যমে এনার্জি বা তাপশক্তি উৎপন্ন হবে।

পরবর্তী ধাপে সেই তাপশক্তিকে স্টিমে রূপান্তর করা হবে। ওই স্টিমের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে এবং টারবাইনের ঘূর্ণনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

যে ধাপে আটকে আছে কার্যক্রম

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখনো ফিউশন রিয়্যাকশনের ধাপে যেতে পারেননি। এর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষাটির নাম প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব (পিওআরভি)।

গত দেড় মাস ধরে এই পরীক্ষায় সফলতা পাওয়া যায়নি। দেড় মাস আগে পরীক্ষাটি সফল হলে এতদিনে ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে পিওআরভি পরীক্ষা শেষ করে ফিউশন রিয়্যাকশন শুরু করার পরও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রূপপুরের কাজ শেষ করা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গত ২৬ আগস্ট বলেন, আইডিয়াল প্রোগ্রাম অনুসরণ করা হলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে বলে তারা আশা করছেন। তবে শেষ পর্যায়ে কোনো পরীক্ষায় সমস্যা হলে সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

দুই ডিজিটের নিচে থাকতে পারে বিদ্যুতের দাম

২০১৬ সালে রূপপুর প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা বৈঠক করেছে।

এ বিষয়ে পিডিবি রূপপুর কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। এসব তথ্যের বিষয়ে সমাধান হলে পিডিবির সঙ্গে রূপপুরের বিদ্যুতের দাম চূড়ান্ত করা হবে।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের সঙ্গে অপারেশনাল কস্ট ও ইন্স্যুরেন্সের ব্যয়ও যুক্ত হবে। তবে সব মিলিয়ে বিদ্যুতের দাম দুই ডিজিটে যাবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকার নিচে থাকতে পারে।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

রূপপুরের জন্য রাশিয়া থেকে আনা জ্বালানি ব্যবহারের পর সেটিই স্পেন্ট ফুয়েল হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যবহারের পর এই জ্বালানি ১০ বছর পর্যন্ত রিয়্যাক্টরের ভেতর সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে সরকার-টু-সরকার চুক্তি রয়েছে, সে অনুযায়ী রূপপুরের জন্য বাংলাদেশে আনা ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়া নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে ব্যবস্থাপনা করবে। এ জন্য রাশিয়াকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

যেহেতু ব্যবহৃত জ্বালানি ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়, তাই এ বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বলেন, স্পেন্ট ফুয়েলের তুলনায় এই মুহূর্তে আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারি বর্জ্য তৈরি হবে। এসব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সংরক্ষণাগার তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, এই ভারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে সময় পেছানোর পর অবশেষে আগামী নভেম্বর মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রথম ধাপে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হবে।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর আগে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব (পিওআরভি)-এর ত্রুটি সংশোধনের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হওয়ার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনে যাওয়ার আগে বি-টু ধাপে দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইনের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ স্টিম তৈরি করতে আরও ছয় সপ্তাহ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে সময় লাগবে প্রায় নয় সপ্তাহ বা দুই মাস।

এ হিসাবে আইডিয়াল প্রোগ্রাম অনুসরণ করা গেলে আগামী নভেম্বরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচসহ মূল্য ১০ টাকার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো রাশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি থেকে উৎপন্ন অন্যান্য ভারি বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের বিষয়েও এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যেভাবে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ

রূপপুর প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, বি-ওয়ান ধাপ থেকেই ফুয়েল লোডিংয়ের কাজ শুরু হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটানো হয়। বি-টু ধাপকে অনেকে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

সহজভাবে বলতে গেলে, বি-টু ধাপের অর্থ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং এবং ফিজিক্যাল স্টার্টআপ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটানো হবে। এর মাধ্যমে এনার্জি বা তাপশক্তি উৎপন্ন হবে।

পরবর্তী ধাপে সেই তাপশক্তিকে স্টিমে রূপান্তর করা হবে। ওই স্টিমের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে এবং টারবাইনের ঘূর্ণনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

যে ধাপে আটকে আছে কার্যক্রম

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখনো ফিউশন রিয়্যাকশনের ধাপে যেতে পারেননি। এর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষাটির নাম প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালব (পিওআরভি)।

গত দেড় মাস ধরে এই পরীক্ষায় সফলতা পাওয়া যায়নি। দেড় মাস আগে পরীক্ষাটি সফল হলে এতদিনে ফিউশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে পিওআরভি পরীক্ষা শেষ করে ফিউশন রিয়্যাকশন শুরু করার পরও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রূপপুরের কাজ শেষ করা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গত ২৬ আগস্ট বলেন, আইডিয়াল প্রোগ্রাম অনুসরণ করা হলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে বলে তারা আশা করছেন। তবে শেষ পর্যায়ে কোনো পরীক্ষায় সমস্যা হলে সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

দুই ডিজিটের নিচে থাকতে পারে বিদ্যুতের দাম

২০১৬ সালে রূপপুর প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা বৈঠক করেছে।

এ বিষয়ে পিডিবি রূপপুর কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। এসব তথ্যের বিষয়ে সমাধান হলে পিডিবির সঙ্গে রূপপুরের বিদ্যুতের দাম চূড়ান্ত করা হবে।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের সঙ্গে অপারেশনাল কস্ট ও ইন্স্যুরেন্সের ব্যয়ও যুক্ত হবে। তবে সব মিলিয়ে বিদ্যুতের দাম দুই ডিজিটে যাবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকার নিচে থাকতে পারে।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

রূপপুরের জন্য রাশিয়া থেকে আনা জ্বালানি ব্যবহারের পর সেটিই স্পেন্ট ফুয়েল হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যবহারের পর এই জ্বালানি ১০ বছর পর্যন্ত রিয়্যাক্টরের ভেতর সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে সরকার-টু-সরকার চুক্তি রয়েছে, সে অনুযায়ী রূপপুরের জন্য বাংলাদেশে আনা ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়া নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে ব্যবস্থাপনা করবে। এ জন্য রাশিয়াকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

যেহেতু ব্যবহৃত জ্বালানি ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়, তাই এ বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বলেন, স্পেন্ট ফুয়েলের তুলনায় এই মুহূর্তে আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারি বর্জ্য তৈরি হবে। এসব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সংরক্ষণাগার তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, এই ভারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ
0:00 0:00
1.0x