ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

হিমালয়ে দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চান নেপালের প্রধানমন্ত্রী

হিমালয়ে দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চান নেপালের প্রধানমন্ত্রী
হিমালয়ে দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চান নেপালের প্রধানমন্ত্রী

হিমালয় অঞ্চলে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বন্যার ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এই দুর্যোগ ঘটেছে বলে মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে অন্তত ৯৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের পর পুনর্গঠন কাজে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, রাসুয়া এলাকায় ভোতেকোশি নদীর বন্যাকে সাধারণ বন্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, এটি ওই অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

হিমবাহ ধসের প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের বরফও আগের তুলনায় দ্রুত গলছে।

শাহ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করছে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে মানুষের সামনে থাকা ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালের অধিকাংশ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য নেপালের কার্বন নিঃসরণের অবদান খুবই কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের বড় অংশই দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের বিষয়টি আরও শক্তভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপার যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানানোর এখনই উপযুক্ত সময় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানির উৎস দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও যুক্ত।

২০২৩ সালে নেপার সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’।

বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, এই ঘটনা পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার একটি ভয়াবহ স্মারক।

এদিকে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের নিজস্ব সম্পদ সীমিত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি এরই মধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হিমালয়ে দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চান নেপালের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হিমালয় অঞ্চলে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বন্যার ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এই দুর্যোগ ঘটেছে বলে মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে অন্তত ৯৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের পর পুনর্গঠন কাজে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, রাসুয়া এলাকায় ভোতেকোশি নদীর বন্যাকে সাধারণ বন্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, এটি ওই অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

হিমবাহ ধসের প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের বরফও আগের তুলনায় দ্রুত গলছে।

শাহ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করছে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে মানুষের সামনে থাকা ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালের অধিকাংশ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য নেপালের কার্বন নিঃসরণের অবদান খুবই কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের বড় অংশই দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের বিষয়টি আরও শক্তভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপার যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানানোর এখনই উপযুক্ত সময় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানির উৎস দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও যুক্ত।

২০২৩ সালে নেপার সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’।

বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, এই ঘটনা পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার একটি ভয়াবহ স্মারক।

এদিকে এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের নিজস্ব সম্পদ সীমিত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি এরই মধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হিমালয়ে দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চান নেপালের প্রধানমন্ত্রী
0:00 0:00
1.0x