ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

যশোর আইটি পার্কের হোটেল নিয়ে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

 যশোর আইটি পার্কের হোটেল নিয়ে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

 

  

যশোর আইটি পার্কের হোটেল ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত দাবি করেছে খান প্রপার্টিজ গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপনার সময়ের কোনো ঘটনা বা অভিযোগের দায় পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার ওপর চাপিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

খান হসপিটালিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যশোর আইটি পার্কের হোটেল ও ডরমিটরি পরিচালনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড, স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া, গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পর বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সরেজমিনে আইটি পার্ক পরিদর্শন করেছে।

খান প্রপার্টিজের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। অভিযোগগুলোর সময়কাল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ব্যবস্থাপনার দায় নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০২২ সালে তারা যশোর আইটি পার্কের হোটেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়। কয়েক মাস সংস্কার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন, ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ হোটেল কার্যক্রম শুরু করে।

খান প্রপার্টিজের দাবি, তাদের পরিচালনাকালে হোটেলটির মোট গ্রস আয় প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া রাজস্বের পরিমাণও প্রায় ২০ লাখ ৪০

 হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি হয়। এ সময়ে প্রায় ৬৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ভ্যাট দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৭০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যাদের অধিকাংশই স্থানীয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি টেক সিটি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা ভূমিকা শেষ হলে খান প্রপার্টিজের আগের অপারেটিং ব্যবস্থাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির পূর্ববর্তী কার্যক্রম বিবেচনায় সাময়িকভাবে সরাসরি হোটেল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। তবে স্থায়ী কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

খান প্রপার্টিজের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তাদের আনুমানিক ৭ থেকে ১০ দিনের জন্য হোটেল থেকে সরে যেতে বলা হয়। ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত হওয়ার পর পুনরায় কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তারা হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে আর ফিরতে পারেনি। এর পরিবর্তে অন্য একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এতে তাদের বিভিন্ন সরঞ্জাম, নথি, ব্যবসায়িক রেকর্ড, ডিজিটাল উপকরণ, ছবি-ভিডিও, বিপণনসামগ্রীসহ অন্যান্য সম্পদ হোটেল প্রাঙ্গণে রয়ে গেছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব সম্পদ ফেরত, সুরক্ষা ও পাওনা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

খান প্রপার্টিজ আরও দাবি করেছে, তাদের পরিচালনাকালে যশোর আইটি পার্কে কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটি জড়িত ছিল না এবং এমন কর্মকাণ্ডকে তারা প্রশ্রয়ও দেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশ্ন, সরকারি স্থাপনাটি যখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর একটি হসপিটালিটি সম্পদে পরিণত হচ্ছিল, তখন বর্তমানে ওই স্থাপনার আয়, কর্মসংস্থান, সেবার মান ও সম্পদ ব্যবহারের অবস্থা কী?

এ অবস্থায় যশোর আইটি পার্কের বর্তমান ও পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ও দায় নির্ধারণ, বর্তমান অপারেটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং খান প্রপার্টিজের বিনিয়োগ, সরঞ্জাম, ইনভেন্টরি ও অন্যান্য পাওনা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করে যথাযথ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খান প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো পক্ষকে দায়ী করতে নয়, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত চায়।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যশোর আইটি পার্কের হোটেল নিয়ে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


 

  

যশোর আইটি পার্কের হোটেল ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত দাবি করেছে খান প্রপার্টিজ গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপনার সময়ের কোনো ঘটনা বা অভিযোগের দায় পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার ওপর চাপিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

খান হসপিটালিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যশোর আইটি পার্কের হোটেল ও ডরমিটরি পরিচালনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড, স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া, গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পর বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সরেজমিনে আইটি পার্ক পরিদর্শন করেছে।

খান প্রপার্টিজের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। অভিযোগগুলোর সময়কাল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ব্যবস্থাপনার দায় নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ২০২২ সালে তারা যশোর আইটি পার্কের হোটেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়। কয়েক মাস সংস্কার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন, ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ হোটেল কার্যক্রম শুরু করে।

খান প্রপার্টিজের দাবি, তাদের পরিচালনাকালে হোটেলটির মোট গ্রস আয় প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া রাজস্বের পরিমাণও প্রায় ২০ লাখ ৪০


 হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি হয়। এ সময়ে প্রায় ৬৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ভ্যাট দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৭০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যাদের অধিকাংশই স্থানীয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি টেক সিটি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা ভূমিকা শেষ হলে খান প্রপার্টিজের আগের অপারেটিং ব্যবস্থাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির পূর্ববর্তী কার্যক্রম বিবেচনায় সাময়িকভাবে সরাসরি হোটেল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। তবে স্থায়ী কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

খান প্রপার্টিজের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তাদের আনুমানিক ৭ থেকে ১০ দিনের জন্য হোটেল থেকে সরে যেতে বলা হয়। ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত হওয়ার পর পুনরায় কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তারা হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে আর ফিরতে পারেনি। এর পরিবর্তে অন্য একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এতে তাদের বিভিন্ন সরঞ্জাম, নথি, ব্যবসায়িক রেকর্ড, ডিজিটাল উপকরণ, ছবি-ভিডিও, বিপণনসামগ্রীসহ অন্যান্য সম্পদ হোটেল প্রাঙ্গণে রয়ে গেছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব সম্পদ ফেরত, সুরক্ষা ও পাওনা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

খান প্রপার্টিজ আরও দাবি করেছে, তাদের পরিচালনাকালে যশোর আইটি পার্কে কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটি জড়িত ছিল না এবং এমন কর্মকাণ্ডকে তারা প্রশ্রয়ও দেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশ্ন, সরকারি স্থাপনাটি যখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর একটি হসপিটালিটি সম্পদে পরিণত হচ্ছিল, তখন বর্তমানে ওই স্থাপনার আয়, কর্মসংস্থান, সেবার মান ও সম্পদ ব্যবহারের অবস্থা কী?

এ অবস্থায় যশোর আইটি পার্কের বর্তমান ও পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ও দায় নির্ধারণ, বর্তমান অপারেটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং খান প্রপার্টিজের বিনিয়োগ, সরঞ্জাম, ইনভেন্টরি ও অন্যান্য পাওনা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করে যথাযথ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খান প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো পক্ষকে দায়ী করতে নয়, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত চায়।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
যশোর আইটি পার্কের হোটেল নিয়ে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
0:00 0:00
1.0x