ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

দুইশর বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

দুইশর বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
দুইশর বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এ দাবি করেন ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি। খবর প্রেস টিভির।

তিনি বলেন, ইরান তার সামরিক চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও মোতায়েন করেছে। এসব ব্যবস্থার কয়েকটির বিদেশে কোনো পরিচিত সমতুল্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এলহামির ভাষ্য, যুদ্ধ চলাকালে অনেক সময় শত্রুপক্ষ বুঝতেই পারেনি ইরানের কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেশীয় প্রযুক্তি ও আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি জায়গায় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আকাশে উড়ন্ত যেকোনো বস্তু শনাক্ত করা, সেটির পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে প্রতিহত বা ধ্বংস করা।

কোনো লক্ষ্য শনাক্ত হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তা মোকাবিলা করা হয়।

ইরানের মরুভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, দ্বীপ ও পাহাড়ি এলাকার মতো দুর্গম স্থানগুলোতেও বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আবারও স্পষ্ট করেছে।

সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারিও বিমান প্রতিরক্ষাকে ইরানের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রস্তুতি বজায় রাখে।

ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সাম্প্রতিক যুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি এবং নিজেদের তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই তারা ইরানের আকাশসীমা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ হামলা শুরু করে। এসব হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

সূত্র: প্রেস টিভি

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুইশর বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এ দাবি করেন ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি। খবর প্রেস টিভির।

তিনি বলেন, ইরান তার সামরিক চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও মোতায়েন করেছে। এসব ব্যবস্থার কয়েকটির বিদেশে কোনো পরিচিত সমতুল্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এলহামির ভাষ্য, যুদ্ধ চলাকালে অনেক সময় শত্রুপক্ষ বুঝতেই পারেনি ইরানের কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেশীয় প্রযুক্তি ও আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি জায়গায় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আকাশে উড়ন্ত যেকোনো বস্তু শনাক্ত করা, সেটির পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে প্রতিহত বা ধ্বংস করা।

কোনো লক্ষ্য শনাক্ত হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তা মোকাবিলা করা হয়।

ইরানের মরুভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, দ্বীপ ও পাহাড়ি এলাকার মতো দুর্গম স্থানগুলোতেও বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আবারও স্পষ্ট করেছে।

সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারিও বিমান প্রতিরক্ষাকে ইরানের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রস্তুতি বজায় রাখে।

ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সাম্প্রতিক যুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি এবং নিজেদের তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই তারা ইরানের আকাশসীমা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ হামলা শুরু করে। এসব হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

সূত্র: প্রেস টিভি


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দুইশর বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
0:00 0:00
1.0x