মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের ফুডভ্যালি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল বাতেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনের বিহারি ক্যাম্পের কয়েকজন নেতা তাঁকে জানান, সেখানে কেউ মারা গেলে মৃতদেহ গোসল করানো নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাঁদের পরামর্শে ক্যাম্পের ময়লা ফেলার একটি স্থান পরিষ্কার করে সেখানে মৃতদের গোসলখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেখানে দেয়াল নির্মাণের কাজও শুরু করা হয়েছিল।
তবে বিহারিদের মধ্যে সরকারি দল-সমর্থক কয়েকজন ওই স্থানে পানির পাম্প স্থাপনের দাবি জানান। কিন্তু কাছাকাছি আগে থেকেই পানির পাম্প থাকায় নতুন করে পাম্পের প্রয়োজন নেই বলে স্থানীয়রা মত দেন এবং গোসলখানা নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নেন।
আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট সরকারি দলের কিছু লোক বাইরে থেকে সেখানে উসকানি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তিনটি মোটরসাইকেলে করে বিএনপির লোকজন সেখানে এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দারা অবস্থান নিলে বিএনপির অস্ত্রধারীরাও সেখানে জড়ো হন। এরপর সাধারণ বিহারিদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জামায়াতের এই এমপি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আহত বিহারিরা থানায় গেলেও তাদের মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
তাঁর দাবি, উল্টো পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের দুটি মামলায় বিহারি নেতাকে আটক করা হয়েছে এবং আহত সাধারণ বিহারি ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নামও মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসন ও সরকারি দল বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
আব্দুল বাতেন বলেন, জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁদের পাশে থাকা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু শুরু থেকেই সরকারি বা অন্য কোনো অনুদানের অর্থে উন্নয়নকাজ করতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছ থেকেও যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই আসনের পরাজিত প্রার্থী একজন প্রতিমন্ত্রী। তিনি তাঁর পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না এবং বিভিন্নভাবে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে রূপনগরে একটি মসজিদে অবস্থানকালে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন আব্দুল বাতেন। এছাড়া সবাইকে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হলেও ঢাকা-১৬ আসনের জন্য তাঁকে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি আরও নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চারটি দাবি তুলে ধরেন তিনি।
দাবিগুলো হলো—বাংলাদেশী বিহারি পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া; নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা; সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অস্ত্রধারী ও অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের ও সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ রাজনসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের ফুডভ্যালি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল বাতেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনের বিহারি ক্যাম্পের কয়েকজন নেতা তাঁকে জানান, সেখানে কেউ মারা গেলে মৃতদেহ গোসল করানো নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাঁদের পরামর্শে ক্যাম্পের ময়লা ফেলার একটি স্থান পরিষ্কার করে সেখানে মৃতদের গোসলখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেখানে দেয়াল নির্মাণের কাজও শুরু করা হয়েছিল।
তবে বিহারিদের মধ্যে সরকারি দল-সমর্থক কয়েকজন ওই স্থানে পানির পাম্প স্থাপনের দাবি জানান। কিন্তু কাছাকাছি আগে থেকেই পানির পাম্প থাকায় নতুন করে পাম্পের প্রয়োজন নেই বলে স্থানীয়রা মত দেন এবং গোসলখানা নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নেন।
আব্দুল বাতেনের অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট সরকারি দলের কিছু লোক বাইরে থেকে সেখানে উসকানি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তিনটি মোটরসাইকেলে করে বিএনপির লোকজন সেখানে এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দারা অবস্থান নিলে বিএনপির অস্ত্রধারীরাও সেখানে জড়ো হন। এরপর সাধারণ বিহারিদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জামায়াতের এই এমপি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আহত বিহারিরা থানায় গেলেও তাদের মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
তাঁর দাবি, উল্টো পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের দুটি মামলায় বিহারি নেতাকে আটক করা হয়েছে এবং আহত সাধারণ বিহারি ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নামও মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসন ও সরকারি দল বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
আব্দুল বাতেন বলেন, জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁদের পাশে থাকা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু শুরু থেকেই সরকারি বা অন্য কোনো অনুদানের অর্থে উন্নয়নকাজ করতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছ থেকেও যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই আসনের পরাজিত প্রার্থী একজন প্রতিমন্ত্রী। তিনি তাঁর পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না এবং বিভিন্নভাবে তাঁকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে রূপনগরে একটি মসজিদে অবস্থানকালে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন আব্দুল বাতেন। এছাড়া সবাইকে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হলেও ঢাকা-১৬ আসনের জন্য তাঁকে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি আরও নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চারটি দাবি তুলে ধরেন তিনি।
দাবিগুলো হলো—বাংলাদেশী বিহারি পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া; নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা; সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অস্ত্রধারী ও অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের ও সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ রাজনসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন