স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি আবারও জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নাগরিকদের সমতা ও বৈষম্যহীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে।
বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াসহ মোট নয় দফা লিখিত দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, রহস্যজনক কারণে নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানে নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করা সমতা ও বৈষম্যহীনতার অধিকারের পরিপন্থী।
জামায়াতের নেতারা বলেন, একজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, রাজনীতি করতে পারেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা যুক্তিসংগত হতে পারে না। তাই এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সিইসির কাছে নির্দিষ্ট নয়টি দাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু দাবি আগে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি। সেসব দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি হবে। তারা সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন এবং ভোট দিতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন।
তবে তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হিসেবে সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে আগেও জামায়াতে ইসলামী আপত্তি জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী আশা করছে তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না এবং নির্বাচন দলীয় পক্ষপাতিত্বের মধ্যে পড়ে যাবে।
তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও নির্বাচন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাচন কমিটির সদস্য আব্দুর রব এবং ইয়াসির আরাফাত।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি আবারও জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নাগরিকদের সমতা ও বৈষম্যহীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে।
বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াসহ মোট নয় দফা লিখিত দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, রহস্যজনক কারণে নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানে নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করা সমতা ও বৈষম্যহীনতার অধিকারের পরিপন্থী।
জামায়াতের নেতারা বলেন, একজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, রাজনীতি করতে পারেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা যুক্তিসংগত হতে পারে না। তাই এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সিইসির কাছে নির্দিষ্ট নয়টি দাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু দাবি আগে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি। সেসব দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চিন্তাভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি হবে। তারা সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন এবং ভোট দিতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন।
তবে তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হিসেবে সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে আগেও জামায়াতে ইসলামী আপত্তি জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী আশা করছে তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না এবং নির্বাচন দলীয় পক্ষপাতিত্বের মধ্যে পড়ে যাবে।
তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও নির্বাচন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাচন কমিটির সদস্য আব্দুর রব এবং ইয়াসির আরাফাত।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

আপনার মতামত লিখুন