ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

মনপুরায় সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘চাকরিচ্যুতির’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, চাকরি ফিরে পেতে এমএলএসএস সেলিমের আকুতি

মনপুরায় সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘চাকরিচ্যুতির’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, চাকরি ফিরে পেতে এমএলএসএস সেলিমের আকুতি

ভোলার মনপুরায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের এমএলএসএস পদ থেকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলে চাকরি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন মো. সেলিম (৪০) নামে এক ব্যক্তি। মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সেলিম উপজেলার দাসের হাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাসেমের ছেলে। তিনি দাবি করেন, ০১/০৮/২০০২ ইং সালে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে এমএলএসএস পদে চাকরিতে যোগদান করেন, যার স্মারক নং- ম.ম.ক/২০০২(৯)। যার ধারাবাহিকতায় ০১/১১/২০০৪ সালে সেলিমের প্রথম এমপিও আদেশ জারি হয়, যার ইনডেক্স নং:- 3009045।  এরপর থেকে সেলিম তিনটি টাইমস্কেল( উচ্চতর গ্রেড) পান।  প্রতিটি রেজুলেশন ও ০১/০৮/২০২২ ইং এমপিও তে সেলিমের এমএলএসএস পদ দেখানো হয়।

১২/১২/২০২২ ইং সালে সেলিম কে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে চিঠি দেন অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন। ঐ চিঠিতে তিনি সেলিম কে নৈশ প্রহরী হিসেবে উল্লেখ করেন। সেলিমকে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করা হয় ১০/০৭/২০২৩ ইং সালে।

সাময়িক বরখাস্তের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি খোরপোষ পাবেন। সাময়িক বরখাস্ত থেকে চুড়ান্ত বরখাস্তের মাঝখানের ৭ মাস সময়ে সেলিম কে কোন ধরণের খোরপোষ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সেলিম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম অভিযোগ করে বলেন, কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বিভিন্ন সময়ে তাকে কলেজের স্টাফদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতে বলতেন। সর্বশেষ উক্ত কলেজের ইংরেজি প্রভাষক এম এ বাশার কে হেনস্তা করে কলেজ থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন, কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং সেলিমের সাথে বিভিন্ন কারনে খারাপ করতে থাকেন
এই সংক্রান্ত  একটি পুলিশ প্রতিবেদনও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে কলেজে গেলে অফিস সহকারী আবু বকর সিদ্দিক তাকে বলেন, ‘অধ্যক্ষ স্যার তোমাকে হাজিরা খাতায়  স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেছেন। পরে অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন কলেজে এলে তার কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান সেলিম। এ সময় অধ্যক্ষ তাকে কলেজে আসতে বাড়ন করেন বলেন বলে দাবি করেন সেলিম।

সেলিমের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহজাহান মিয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সে সময় শাহজাহান মিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। চাকরিচ্যুত করার পর তার পদে শাহজাহান মিয়ার এক ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন সেলিম।

সেলিম বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আমি কোথাও বিচার পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে আসছি।’
চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে বর্তমান ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম তার চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও একটি পুলিশ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

সেলিমের করা এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, " সেলিম নাইটগার্ড হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেছিলো, সে তার দায়িত্ব পালন করেনি। নিয়ম মেনেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে"। আমি এমএলএসএস সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেইনি, নাইটগার্ড সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ঐ পদে নিয়োগ প্রদান করেছি।

মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছেলেটাকে ( মোঃ সেলিম, চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারি) চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে।
ঐ পদে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ পদ খালি নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরায় উল্লেখিত পদে ফিরে আসার কোন উপায় আছে কিনা তা ভুক্তভোগী ব্যক্তিই বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে সাবেক কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম শাহজাহান মিয়াকে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মনপুরায় সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘চাকরিচ্যুতির’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, চাকরি ফিরে পেতে এমএলএসএস সেলিমের আকুতি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভোলার মনপুরায় মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের এমএলএসএস পদ থেকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলে চাকরি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন মো. সেলিম (৪০) নামে এক ব্যক্তি। মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সেলিম উপজেলার দাসের হাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাসেমের ছেলে। তিনি দাবি করেন, ০১/০৮/২০০২ ইং সালে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে এমএলএসএস পদে চাকরিতে যোগদান করেন, যার স্মারক নং- ম.ম.ক/২০০২(৯)। যার ধারাবাহিকতায় ০১/১১/২০০৪ সালে সেলিমের প্রথম এমপিও আদেশ জারি হয়, যার ইনডেক্স নং:- 3009045।  এরপর থেকে সেলিম তিনটি টাইমস্কেল( উচ্চতর গ্রেড) পান।  প্রতিটি রেজুলেশন ও ০১/০৮/২০২২ ইং এমপিও তে সেলিমের এমএলএসএস পদ দেখানো হয়।

১২/১২/২০২২ ইং সালে সেলিম কে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে চিঠি দেন অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন। ঐ চিঠিতে তিনি সেলিম কে নৈশ প্রহরী হিসেবে উল্লেখ করেন। সেলিমকে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করা হয় ১০/০৭/২০২৩ ইং সালে।

সাময়িক বরখাস্তের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি খোরপোষ পাবেন। সাময়িক বরখাস্ত থেকে চুড়ান্ত বরখাস্তের মাঝখানের ৭ মাস সময়ে সেলিম কে কোন ধরণের খোরপোষ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সেলিম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম অভিযোগ করে বলেন, কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বিভিন্ন সময়ে তাকে কলেজের স্টাফদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতে বলতেন। সর্বশেষ উক্ত কলেজের ইংরেজি প্রভাষক এম এ বাশার কে হেনস্তা করে কলেজ থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন, কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষ তার ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং সেলিমের সাথে বিভিন্ন কারনে খারাপ করতে থাকেন
এই সংক্রান্ত  একটি পুলিশ প্রতিবেদনও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে কলেজে গেলে অফিস সহকারী আবু বকর সিদ্দিক তাকে বলেন, ‘অধ্যক্ষ স্যার তোমাকে হাজিরা খাতায়  স্বাক্ষর করতে নিষেধ করেছেন। পরে অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন কলেজে এলে তার কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান সেলিম। এ সময় অধ্যক্ষ তাকে কলেজে আসতে বাড়ন করেন বলেন বলে দাবি করেন সেলিম।

সেলিমের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহজাহান মিয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সে সময় শাহজাহান মিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। চাকরিচ্যুত করার পর তার পদে শাহজাহান মিয়ার এক ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন সেলিম।

সেলিম বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আমি কোথাও বিচার পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে আসছি।’
চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে বর্তমান ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম তার চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও একটি পুলিশ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

সেলিমের করা এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, " সেলিম নাইটগার্ড হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেছিলো, সে তার দায়িত্ব পালন করেনি। নিয়ম মেনেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে"। আমি এমএলএসএস সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেইনি, নাইটগার্ড সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ঐ পদে নিয়োগ প্রদান করেছি।

মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছেলেটাকে ( মোঃ সেলিম, চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারি) চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে।
ঐ পদে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ পদ খালি নেই। আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরায় উল্লেখিত পদে ফিরে আসার কোন উপায় আছে কিনা তা ভুক্তভোগী ব্যক্তিই বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে সাবেক কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এ কে এম শাহজাহান মিয়াকে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও পাওয়া যায়নি।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মনপুরায় সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘চাকরিচ্যুতির’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, চাকরি ফিরে পেতে এমএলএসএস সেলিমের আকুতি
0:00 0:00
1.0x