ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব মো. আশিকুল ইসলামের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া শরিয়তের দলিল ও ফিকহের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ফতোয়া দেয়।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তি কন্যাকে হেবা করলেও যদি সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, ভোগদখল ও আয় নিজের জন্য রেখে দেন এবং মৃত্যুর পর সম্পত্তিটি কন্যার কাছে দেওয়ার শর্ত করেন, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা বৈধ হবে না।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, প্রকৃত হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য সম্পত্তি দাতার মালিকানা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে গ্রহীতার মালিকানায় যেতে হবে। দাতা যদি নিজের জন্য আজীবন সম্পত্তির ভোগদখল বা জীবনস্বত্ব রেখে দেন, তাহলে সেটি হেবার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে কে কতটুকু সম্পত্তির অধিকারী হবেন, তা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে নির্ধারিত। পারিবারিক প্রয়োজন, সামাজিক পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো যুক্তির ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত মিরাসের বিধানে পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই।
মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ইসলামি উত্তরাধিকার বিধান এড়িয়ে যাওয়া কিংবা বণ্টন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কৌশল গ্রহণও শরিয়তসম্মত নয়।
এ বিষয়ে জামে তিরমিজির ২১১৭ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন। অতএব কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত নেই।’
তবে সম্পত্তির মালিকের মৃত্যুর পর সব প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশ যদি নিজেদের ইচ্ছা ও সম্মতির ভিত্তিতে কোনো বিষয়ে একমত হন, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ সে ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার বিধান পরিবর্তনের প্রশ্ন থাকে না; বরং ওয়ারিশরা নিজেদের সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।
কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শরিয়তসম্মত উপায় রয়েছে। একজন ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের সম্পত্তি থেকে কন্যাকে হেবা বা দান করতে পারেন। তবে এই হেবা শর্তহীন হতে হবে এবং হেবা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির মালিকানা ও প্রকৃত দখলও গ্রহীতার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
হেবা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই দাতা মারা গেলে সেই হেবা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তখন সম্পত্তিটি দাতার সাধারণ উত্তরাধিকার সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।
অর্থাৎ জীবদ্দশায় সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে কন্যাকে সম্পত্তি দেওয়া বৈধ হলেও মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে হেবাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত নয়।
পুত্রসন্তান না থাকলে কন্যাসন্তান ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং দূরবর্তী আত্মীয়দের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে সমাজে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে এসব সামাজিক বাস্তবতা কিংবা মানুষের পছন্দ-অপছন্দ ইসলামি উত্তরাধিকার বিধান পরিবর্তনের কারণ হতে পারে না।
প্রয়োজনের ক্ষেত্রে জীবদ্দশায় শর্তহীন ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং অনুমোদিত অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সূত্র: যুগান্তর

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব মো. আশিকুল ইসলামের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া শরিয়তের দলিল ও ফিকহের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ফতোয়া দেয়।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তি কন্যাকে হেবা করলেও যদি সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, ভোগদখল ও আয় নিজের জন্য রেখে দেন এবং মৃত্যুর পর সম্পত্তিটি কন্যার কাছে দেওয়ার শর্ত করেন, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা বৈধ হবে না।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, প্রকৃত হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য সম্পত্তি দাতার মালিকানা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে গ্রহীতার মালিকানায় যেতে হবে। দাতা যদি নিজের জন্য আজীবন সম্পত্তির ভোগদখল বা জীবনস্বত্ব রেখে দেন, তাহলে সেটি হেবার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে কে কতটুকু সম্পত্তির অধিকারী হবেন, তা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে নির্ধারিত। পারিবারিক প্রয়োজন, সামাজিক পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো যুক্তির ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত মিরাসের বিধানে পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই।
মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ইসলামি উত্তরাধিকার বিধান এড়িয়ে যাওয়া কিংবা বণ্টন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কৌশল গ্রহণও শরিয়তসম্মত নয়।
এ বিষয়ে জামে তিরমিজির ২১১৭ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন। অতএব কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত নেই।’
তবে সম্পত্তির মালিকের মৃত্যুর পর সব প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশ যদি নিজেদের ইচ্ছা ও সম্মতির ভিত্তিতে কোনো বিষয়ে একমত হন, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ সে ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার বিধান পরিবর্তনের প্রশ্ন থাকে না; বরং ওয়ারিশরা নিজেদের সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।
কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শরিয়তসম্মত উপায় রয়েছে। একজন ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের সম্পত্তি থেকে কন্যাকে হেবা বা দান করতে পারেন। তবে এই হেবা শর্তহীন হতে হবে এবং হেবা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির মালিকানা ও প্রকৃত দখলও গ্রহীতার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
হেবা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই দাতা মারা গেলে সেই হেবা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তখন সম্পত্তিটি দাতার সাধারণ উত্তরাধিকার সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।
অর্থাৎ জীবদ্দশায় সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে কন্যাকে সম্পত্তি দেওয়া বৈধ হলেও মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে হেবাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত নয়।
পুত্রসন্তান না থাকলে কন্যাসন্তান ও স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং দূরবর্তী আত্মীয়দের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে সমাজে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে এসব সামাজিক বাস্তবতা কিংবা মানুষের পছন্দ-অপছন্দ ইসলামি উত্তরাধিকার বিধান পরিবর্তনের কারণ হতে পারে না।
প্রয়োজনের ক্ষেত্রে জীবদ্দশায় শর্তহীন ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং অনুমোদিত অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সূত্র: যুগান্তর

আপনার মতামত লিখুন