মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইটনের হিসাব অনুযায়ী ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার মোট সেনা হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। যুক্তরাজ্যের এই হিসাব ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রকাশ করা সংখ্যার সঙ্গেও অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, বড় সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া প্রত্যাশিত মাত্রায় অগ্রসর হতে পারছে না। চলতি বছরে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
নাইটন জানান, যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান, প্রায় ৩ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার।
তবে ইউক্রেনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি।
এপি জানিয়েছে, মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সেনা হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না।
এদিকে শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সড়কের পাশের গ্যাস স্টেশনগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় উকর্নফতার দুটি গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ইউক্রেনের শহরাঞ্চলে থাকা গ্যাস স্টেশনগুলোতে রুশ হামলার ঘটনা বেড়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের সম্মুখসারির কাছাকাছি এলাকাগুলোতে এ ধরনের হামলা বেশি হয়েছে। খাদ্য বিতরণকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
রাশিয়ার আগ্রাসন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করায় ইউক্রেন নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার কানাডা ইউক্রেনকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মধ্য ইউক্রেনের পাভলোহরাদ শহরে শুক্রবার শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এর আগের দিন একটি বিপণিবিতানের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় শহরটির পাঁচ বাসিন্দা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৬৭ জন আহত হন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় রাতভর রুশ ড্রোন হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা।
অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এর ফলে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানায়, তারা সাইবেরিয়ায় ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের হামলার ফলে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে কিয়েভ। জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন বায়ু গবেষণাকেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রপ্তানি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। ঘাটতি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি করছে মস্কো।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬টি রুশ অঞ্চলের পাশাপাশি দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের জলসীমায় মোট ৭৭৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, মস্কোর দক্ষিণে তুলা অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম আস্ত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এর আগেও কিয়েভ ওই শোধনাগারে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি হয়েছিল আগস্টের শুরুতে।
অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওজন’ জানিয়েছে, একই শহরে তাদের একটি পণ্য পরিবহনকেন্দ্রেও ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে ইউক্রেন ওজনের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর পরিচালিত দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার আটটি অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।
সূত্র: আমার দেশ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইটনের হিসাব অনুযায়ী ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার মোট সেনা হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। যুক্তরাজ্যের এই হিসাব ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রকাশ করা সংখ্যার সঙ্গেও অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, বড় সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া প্রত্যাশিত মাত্রায় অগ্রসর হতে পারছে না। চলতি বছরে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
নাইটন জানান, যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান, প্রায় ৩ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার।
তবে ইউক্রেনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি।
এপি জানিয়েছে, মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সেনা হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না।
এদিকে শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সড়কের পাশের গ্যাস স্টেশনগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় উকর্নফতার দুটি গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ইউক্রেনের শহরাঞ্চলে থাকা গ্যাস স্টেশনগুলোতে রুশ হামলার ঘটনা বেড়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের সম্মুখসারির কাছাকাছি এলাকাগুলোতে এ ধরনের হামলা বেশি হয়েছে। খাদ্য বিতরণকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
রাশিয়ার আগ্রাসন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করায় ইউক্রেন নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার কানাডা ইউক্রেনকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মধ্য ইউক্রেনের পাভলোহরাদ শহরে শুক্রবার শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এর আগের দিন একটি বিপণিবিতানের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় শহরটির পাঁচ বাসিন্দা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৬৭ জন আহত হন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় রাতভর রুশ ড্রোন হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা।
অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এর ফলে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানায়, তারা সাইবেরিয়ায় ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের হামলার ফলে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে কিয়েভ। জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন বায়ু গবেষণাকেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রপ্তানি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। ঘাটতি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি করছে মস্কো।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬টি রুশ অঞ্চলের পাশাপাশি দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের জলসীমায় মোট ৭৭৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, মস্কোর দক্ষিণে তুলা অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম আস্ত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এর আগেও কিয়েভ ওই শোধনাগারে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি হয়েছিল আগস্টের শুরুতে।
অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওজন’ জানিয়েছে, একই শহরে তাদের একটি পণ্য পরিবহনকেন্দ্রেও ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে ইউক্রেন ওজনের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর পরিচালিত দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার আটটি অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন