ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

ঢাকার দুই সিটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ভিন্ন কৌশলে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

ঢাকার দুই সিটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ভিন্ন কৌশলে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি
ঢাকার দুই সিটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ভিন্ন কৌশলে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দেশের তিন রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তৎপরতায় নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে।

এনসিপি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সরাসরি দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না দিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় এবার ব্যালটে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকবে না। ফলে দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন নির্বাচনী মাঠে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিএনপির পছন্দে প্রশাসক দুজন

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটিতে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার সময় নাগরিক সেবার পাশাপাশি সম্ভাব্য সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনাও তাদের দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন ঘোষণা না করলেও দুই সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলের ভেতরে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা স্থবির অবস্থায় ছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তিনি।

নির্বাচন ও নাগরিক সেবা—দুই দিক মাথায় রেখেই কাজ করছেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছেন এবং এর মধ্য দিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছেন।

তবে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, আপাতত দুজনের নামই বিবেচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমে জরিপসহ আরও কিছু প্রক্রিয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান।

জামায়াতের পছন্দ উত্তরে সেলিম, দক্ষিণে সাদিক

ঢাকার দুই সিটিতে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী অনেকটাই নির্ধারণ করে রেখেছে জামায়াতে ইসলামীও। দলটি ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত,কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির। অন্যদিকে সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। গত জুলাই পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য।

এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। অন্যদিকে সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক পরিচিতি মূলত ডাকসু ও ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে।

সেলিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। একই সময়ে সাদিক কায়েমও জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সাদিক কায়েম এখনো ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব করায় দলীয় কার্যক্রমে তার প্রকাশ্য অংশগ্রহণ সীমিত রাখা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার বলেন, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সেখান থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। নগরবাসী তাকে বিজয়ী করে তাদের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়ে নেবেন বলে তারা আশাবাদী।

সোমবার ঢাকায় দলীয় একটি কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দল সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং সিটি করপোরেশনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তিনি জানান, ঢাকার দুই সিটিতেও দলীয়ভাবে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।

সরাসরি ভোটের মাঠে আসিফ ও পাটওয়ারী

অন্য দুই দলের তুলনায় ভিন্ন কৌশল নিয়েছে এনসিপি। দলটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটিতেই সরাসরি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

গত রোববার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তরের জন্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।

আসিফ মাহমুদের জন্য এটি সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি সংসদ কিংবা স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি।

অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকাও পরিবর্তন করেছেন। আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। এরপরই তাদের দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

তিন দলের প্রার্থীতে ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিন দলই নিজেদের ভিন্ন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচিতিকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বেছে নিচ্ছে।

বিএনপি সামনে রেখেছে সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন দুই ব্যক্তিকে। জামায়াতে ইসলামীর উত্তর সিটির প্রার্থী নগর সংগঠনের নেতা এবং দক্ষিণের প্রার্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ।

বিএনপির দক্ষিণের সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুস সালামও দীর্ঘদিনের সংগঠক। তিনি মহানগর দক্ষিণে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।

অন্যদিকে উত্তর সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের কাছে তিনি পরাজিত হন।

এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সামনের সারিতে থাকা দুই নেতাকে।

দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই বড় বিষয়

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলটি কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেবে না। তবে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভোটের হিসাবে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি—ভোটারদের কাছে কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়, তার প্রতিফলন দেখা যাবে নির্বাচনের ফলাফলে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকার দুই সিটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ভিন্ন কৌশলে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দেশের তিন রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তৎপরতায় নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে।

এনসিপি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সরাসরি দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না দিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় এবার ব্যালটে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকবে না। ফলে দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন নির্বাচনী মাঠে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিএনপির পছন্দে প্রশাসক দুজন

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটিতে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার সময় নাগরিক সেবার পাশাপাশি সম্ভাব্য সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনাও তাদের দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন ঘোষণা না করলেও দুই সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলের ভেতরে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা স্থবির অবস্থায় ছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তিনি।

নির্বাচন ও নাগরিক সেবা—দুই দিক মাথায় রেখেই কাজ করছেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছেন এবং এর মধ্য দিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছেন।

তবে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, আপাতত দুজনের নামই বিবেচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমে জরিপসহ আরও কিছু প্রক্রিয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান।

জামায়াতের পছন্দ উত্তরে সেলিম, দক্ষিণে সাদিক

ঢাকার দুই সিটিতে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী অনেকটাই নির্ধারণ করে রেখেছে জামায়াতে ইসলামীও। দলটি ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত,কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির। অন্যদিকে সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। গত জুলাই পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য।

এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। অন্যদিকে সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক পরিচিতি মূলত ডাকসু ও ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে।

সেলিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। একই সময়ে সাদিক কায়েমও জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সাদিক কায়েম এখনো ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব করায় দলীয় কার্যক্রমে তার প্রকাশ্য অংশগ্রহণ সীমিত রাখা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার বলেন, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সেখান থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন। নগরবাসী তাকে বিজয়ী করে তাদের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়ে নেবেন বলে তারা আশাবাদী।

সোমবার ঢাকায় দলীয় একটি কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দল সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং সিটি করপোরেশনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তিনি জানান, ঢাকার দুই সিটিতেও দলীয়ভাবে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।

সরাসরি ভোটের মাঠে আসিফ ও পাটওয়ারী

অন্য দুই দলের তুলনায় ভিন্ন কৌশল নিয়েছে এনসিপি। দলটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটিতেই সরাসরি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

গত রোববার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তরের জন্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।

আসিফ মাহমুদের জন্য এটি সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি সংসদ কিংবা স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি।

অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকাও পরিবর্তন করেছেন। আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। এরপরই তাদের দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

তিন দলের প্রার্থীতে ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিন দলই নিজেদের ভিন্ন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিচিতিকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বেছে নিচ্ছে।

বিএনপি সামনে রেখেছে সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন দুই ব্যক্তিকে। জামায়াতে ইসলামীর উত্তর সিটির প্রার্থী নগর সংগঠনের নেতা এবং দক্ষিণের প্রার্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ।

বিএনপির দক্ষিণের সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুস সালামও দীর্ঘদিনের সংগঠক। তিনি মহানগর দক্ষিণে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।

অন্যদিকে উত্তর সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের কাছে তিনি পরাজিত হন।

এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সামনের সারিতে থাকা দুই নেতাকে।

দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই বড় বিষয়

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলটি কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেবে না। তবে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভোটের হিসাবে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি—ভোটারদের কাছে কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়, তার প্রতিফলন দেখা যাবে নির্বাচনের ফলাফলে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ঢাকার দুই সিটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, ভিন্ন কৌশলে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি
0:00 0:00
1.0x