ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জন দুর্ভোগ

সারিয়াকান্দিতে আবারও নদীভাঙনের তাণ্ডব, নদীগর্ভে ফসলি জমি

সারিয়াকান্দিতে আবারও নদীভাঙনের তাণ্ডব, নদীগর্ভে ফসলি জমি
সারিয়াকান্দিতে আবারও নদীভাঙনের তাণ্ডব, নদীগর্ভে ফসলি জমি


বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর মাঝিরা ও ঘোনাপাড়া এলাকায় বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীর পেটে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমির অংশ। এতে বিঘার পর বিঘা ধান ও মরিচের আবাদ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নদীভাঙন একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা ও বন্যার সময় ভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও পানি কমে যাওয়ার পরও ভাঙন থামছে না। ফলে কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা ও এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ভাঙন শুরু হলে বিষয়টি বিভিন্নভাবে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্টরা সম্মিলিতভাবে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

ওই আশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও পরবর্তীতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সময়মতো ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসল নয়, আগামীতে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বিশেষ করে ধান ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ অবস্থায় দক্ষিণ চর মাঝিরা ও ঘোনাপাড়া এলাকার ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে কৃষিজমি ও ফসল রক্ষার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগও কমবে বলে মনে করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


সারিয়াকান্দিতে আবারও নদীভাঙনের তাণ্ডব, নদীগর্ভে ফসলি জমি

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর মাঝিরা ও ঘোনাপাড়া এলাকায় বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীর পেটে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমির অংশ। এতে বিঘার পর বিঘা ধান ও মরিচের আবাদ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নদীভাঙন একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা ও বন্যার সময় ভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও পানি কমে যাওয়ার পরও ভাঙন থামছে না। ফলে কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা ও এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ভাঙন শুরু হলে বিষয়টি বিভিন্নভাবে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্টরা সম্মিলিতভাবে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

ওই আশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও পরবর্তীতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সময়মতো ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসল নয়, আগামীতে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বিশেষ করে ধান ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ অবস্থায় দক্ষিণ চর মাঝিরা ও ঘোনাপাড়া এলাকার ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে কৃষিজমি ও ফসল রক্ষার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগও কমবে বলে মনে করছেন তারা।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সারিয়াকান্দিতে আবারও নদীভাঙনের তাণ্ডব, নদীগর্ভে ফসলি জমি
0:00 0:00
1.0x