ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে

নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে
নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে

ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে পরবর্তী সময়ে ইসরাইল আলোচনা থেকে সরে যায় অথবা নতুন শর্ত সামনে আনে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু ‘বিভিন্ন কারণে’ ইসরাইল সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়।

আল-শারার ভাষ্য, সাবেক সিরীয় সরকারের পতনের পর থেকেই ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তার দাবি, ইসরাইল ক্রমেই সিরিয়ার নতুন নতুন ভূখণ্ড দখল করছে। পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরে অভিযান, গ্রেপ্তার ও বোমা হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়া বলে জানান আল-শারা। তিনি বলেন, সিরিয়া এখনো আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোতে আগ্রহী। তবে সিরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। শুরুতেই দামেস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে ইসরাইলকে ১৯৭৪ সালের চুক্তির পর নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ওই নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হলে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

গোলান মালভূমি নিয়েও সিরিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন আল-শারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড। ফলে এই ভূখণ্ডের মালিকানা নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

ইসরাইলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ যাচাইয়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার মতে, এই কমিটি ইসরাইলের উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর মধ্যে কোনগুলো শুধু ধারণাভিত্তিক এবং কোনগুলো প্রকৃত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ, তা যাচাই করতে পারবে।

গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি রসিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—‘নিউ জার্সি ইসরাইলিদের দিয়ে দেন না কেন?’ তার বক্তব্য ছিল, গোলান মালভূমির মালিকানা ট্রাম্পের নয় যে সেটি ইসরাইলকে দেবেন, তবে নিউ জার্সি তার।

গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন আল-শারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৪৬ সালে সিরিয়ার স্বাধীনতার পর কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই ছিল প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।

সিরিয়ায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়েও বক্তব্য দেন আল-শারা। তার দাবি, দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা প্রায় ১৭০ থেকে কমে বর্তমানে দুটিতে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থানও ‘আইনি কাঠামোর’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্কের প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার দাবি, সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

৯/১১ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন মার্কিন নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করেন। আল-শারা বলেন, ওই সময়ের ঘটনাবলির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে পরবর্তী সময়ে ইসরাইল আলোচনা থেকে সরে যায় অথবা নতুন শর্ত সামনে আনে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু ‘বিভিন্ন কারণে’ ইসরাইল সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়।

আল-শারার ভাষ্য, সাবেক সিরীয় সরকারের পতনের পর থেকেই ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তার দাবি, ইসরাইল ক্রমেই সিরিয়ার নতুন নতুন ভূখণ্ড দখল করছে। পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরে অভিযান, গ্রেপ্তার ও বোমা হামলাও অব্যাহত রয়েছে।

তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়া বলে জানান আল-শারা। তিনি বলেন, সিরিয়া এখনো আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোতে আগ্রহী। তবে সিরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। শুরুতেই দামেস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে ইসরাইলকে ১৯৭৪ সালের চুক্তির পর নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ওই নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হলে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

গোলান মালভূমি নিয়েও সিরিয়ার অবস্থান তুলে ধরেন আল-শারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড। ফলে এই ভূখণ্ডের মালিকানা নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

ইসরাইলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ যাচাইয়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার মতে, এই কমিটি ইসরাইলের উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর মধ্যে কোনগুলো শুধু ধারণাভিত্তিক এবং কোনগুলো প্রকৃত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ, তা যাচাই করতে পারবে।

গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি রসিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—‘নিউ জার্সি ইসরাইলিদের দিয়ে দেন না কেন?’ তার বক্তব্য ছিল, গোলান মালভূমির মালিকানা ট্রাম্পের নয় যে সেটি ইসরাইলকে দেবেন, তবে নিউ জার্সি তার।

গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন আল-শারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৪৬ সালে সিরিয়ার স্বাধীনতার পর কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই ছিল প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।

সিরিয়ায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়েও বক্তব্য দেন আল-শারা। তার দাবি, দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা প্রায় ১৭০ থেকে কমে বর্তমানে দুটিতে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থানও ‘আইনি কাঠামোর’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্কের প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার দাবি, সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

৯/১১ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন মার্কিন নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করেন। আল-শারা বলেন, ওই সময়ের ঘটনাবলির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে
0:00 0:00
1.0x