ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

লাইফ স্টাইল

চর রাজিবপুরের নয়াচর বাজারে নদীর পাড়ে জমজমাট বাঁশের হাট

চর রাজিবপুরের নয়াচর বাজারে নদীর পাড়ে জমজমাট বাঁশের হাট

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজারে এখনও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে নদীর পাড়ের বাঁশের হাট। সপ্তাহে দুই দিন শনিবার ও মঙ্গলবার বসে এই হাট। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে নয়াচর হাটের বাঁশের বাজার।

স্থানীয়দের দাবি, আশির দশকের আগ থেকেই নয়ারচর বাজারে এই বাঁশের হাটের প্রচলন রয়েছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও নদীর পাড়ে বসা এই বাঁশের হাট এখনও তার পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

রাজিবপুর উপজেলার বড় একটি অংশ চরাঞ্চল। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, ভাঙন ও বন্যার কারণে এসব চরে স্থায়ীভাবে বাঁশঝাড় তৈরি করা বেশ কঠিন। ফলে চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনীয় বাঁশ সংগ্রহ করতে নির্ভর করতে হয় বাইরের বাজারের ওপর।

এই বাস্তবতায় নয়ারচর বাজারের বাঁশের হাট চরাঞ্চলের মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যকেন্দ্র। আশপাশের বিভিন্ন চর থেকে নৌকায় করে ক্রেতারা এসে এখান থেকে বাঁশ কিনে নিয়ে যান।

শিকারপুর, কাদেরের চর, বড়বের, ভেলামারীসহ আশপাশের বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে মানুষ আসে এই হাটে। কেউ ঘর নির্মাণের জন্য, কেউ বেড়া, মাচা কিংবা কৃষিকাজের বিভিন্ন প্রয়োজনে বাঁশ কিনে থাকেন।

হাটের দিন নদীর পাড়জুড়ে দেখা যায় বাঁশের সারি। নৌকা ও স্থলপথে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি বাঁশের বাজার নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের প্রতিকূলতার মধ্যেও বছরের পর বছর ধরে নয়ারচর বাজারের এই বাঁশের হাট টিকে আছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি ভবিষ্যতেও তার স্বকীয়তা ধরে রাখবে এবং চরাঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


চর রাজিবপুরের নয়াচর বাজারে নদীর পাড়ে জমজমাট বাঁশের হাট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজারে এখনও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে নদীর পাড়ের বাঁশের হাট। সপ্তাহে দুই দিন শনিবার ও মঙ্গলবার বসে এই হাট। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে নয়াচর হাটের বাঁশের বাজার।

স্থানীয়দের দাবি, আশির দশকের আগ থেকেই নয়ারচর বাজারে এই বাঁশের হাটের প্রচলন রয়েছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও নদীর পাড়ে বসা এই বাঁশের হাট এখনও তার পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

রাজিবপুর উপজেলার বড় একটি অংশ চরাঞ্চল। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, ভাঙন ও বন্যার কারণে এসব চরে স্থায়ীভাবে বাঁশঝাড় তৈরি করা বেশ কঠিন। ফলে চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনীয় বাঁশ সংগ্রহ করতে নির্ভর করতে হয় বাইরের বাজারের ওপর।

এই বাস্তবতায় নয়ারচর বাজারের বাঁশের হাট চরাঞ্চলের মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যকেন্দ্র। আশপাশের বিভিন্ন চর থেকে নৌকায় করে ক্রেতারা এসে এখান থেকে বাঁশ কিনে নিয়ে যান।

শিকারপুর, কাদেরের চর, বড়বের, ভেলামারীসহ আশপাশের বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে মানুষ আসে এই হাটে। কেউ ঘর নির্মাণের জন্য, কেউ বেড়া, মাচা কিংবা কৃষিকাজের বিভিন্ন প্রয়োজনে বাঁশ কিনে থাকেন।

হাটের দিন নদীর পাড়জুড়ে দেখা যায় বাঁশের সারি। নৌকা ও স্থলপথে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি বাঁশের বাজার নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের প্রতিকূলতার মধ্যেও বছরের পর বছর ধরে নয়ারচর বাজারের এই বাঁশের হাট টিকে আছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি ভবিষ্যতেও তার স্বকীয়তা ধরে রাখবে এবং চরাঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
চর রাজিবপুরের নয়াচর বাজারে নদীর পাড়ে জমজমাট বাঁশের হাট
0:00 0:00
1.0x