গত ১৭ জুন সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে আবারও হামলা শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ওই সমঝোতার শর্ত মেনে চলবে না। শনিবার ইরানও জানায়, তারা চুক্তি থেকে সরে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা কার্যকারিতা নেই।
এদিকে, ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও দুই থেকে তিন দিন হামলা অব্যাহত রাখলে তেহরান সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করবে। একই সঙ্গে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে ইরান চুক্তির আওতায় দেওয়া সব অঙ্গীকার স্থগিত করেছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার এবং নৌ-স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ইরানের দাবি, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও সেতুর মতো বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার শিকার হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার সংঘাতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
খুজেস্তান প্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১০ দিনে ১২টি শহরের ৯৫টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হরমোজগান প্রদেশে পৃথক হামলায় ৩ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। সেখানে ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, কুয়েতের একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ফলে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া বাহরাইনে শেখ ইসা বিমানঘাঁটি, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও একটি সেতু লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে ইরান। জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকেও আঘাত হানার দাবি করেছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস পর শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবেও হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের কাছে আল-খারজের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং ইয়ানবু এলাকায় সতর্কসংকেত বাজে। আল-খারজ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সেন্টকম জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর প্রথমে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে একটি বিমান দুর্ঘটনায় আরও একজন পাইলটের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ জর্ডানে দুই সেনা নিহত হওয়ার পর মোট নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিন মাসের মধ্যে প্রথমবার সৌদি আরব এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক আরব পারস্পেকটিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি বলেন, সংঘাতের বর্তমান ধারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, যুদ্ধ ধীরে ধীরে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর প্রয়োগের অভাব এবং যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকাকে তিনি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
গত ১৭ জুন সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে আবারও হামলা শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ওই সমঝোতার শর্ত মেনে চলবে না। শনিবার ইরানও জানায়, তারা চুক্তি থেকে সরে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা কার্যকারিতা নেই।
এদিকে, ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও দুই থেকে তিন দিন হামলা অব্যাহত রাখলে তেহরান সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করবে। একই সঙ্গে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে ইরান চুক্তির আওতায় দেওয়া সব অঙ্গীকার স্থগিত করেছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার এবং নৌ-স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ইরানের দাবি, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও সেতুর মতো বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার শিকার হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার সংঘাতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
খুজেস্তান প্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১০ দিনে ১২টি শহরের ৯৫টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হরমোজগান প্রদেশে পৃথক হামলায় ৩ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। সেখানে ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, কুয়েতের একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ফলে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া বাহরাইনে শেখ ইসা বিমানঘাঁটি, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও একটি সেতু লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে ইরান। জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকেও আঘাত হানার দাবি করেছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস পর শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবেও হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের কাছে আল-খারজের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং ইয়ানবু এলাকায় সতর্কসংকেত বাজে। আল-খারজ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সেন্টকম জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর প্রথমে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে একটি বিমান দুর্ঘটনায় আরও একজন পাইলটের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ জর্ডানে দুই সেনা নিহত হওয়ার পর মোট নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিন মাসের মধ্যে প্রথমবার সৌদি আরব এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক আরব পারস্পেকটিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি বলেন, সংঘাতের বর্তমান ধারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, যুদ্ধ ধীরে ধীরে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর প্রয়োগের অভাব এবং যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকাকে তিনি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন