নিজের জনপ্রিয় গান সামরিক হামলার ভিডিওর আবহ সংগীত হিসেবে ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে তাঁর বিশ্বখ্যাত ‘ফায়ারওয়ার্ক’ গানটি ব্যবহার করা হয়, যা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে গানটির অননুমোদিত ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেটি পেরি বলেন, তাঁর সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যকে এতে বিকৃত করা হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের একটি ভিডিওতে ২০১০ সালে প্রকাশিত কেটি পেরির জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ যুক্ত করে টিকটকে পোস্ট দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে’। ভিডিওতে বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্যের সঙ্গে গানটির ‘বুম, বুম, বুম’ অংশের সময় মিলিয়ে উপস্থাপন করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় কেটি পেরি লিখেছেন, হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে সামরিক হামলার ভিডিওর পেছনের সংগীত হিসেবে ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার দেখে তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, এ ব্যবহারের জন্য তাঁর অনুমতি নেওয়া হয়নি, তাঁকে এ বিষয়ে জানানোও হয়নি এবং তিনি কোনোভাবেই এ ব্যবহারের সমর্থন করেন না।
তিনি আরও বলেন, জীবনের কঠিন সময় পার করা মানুষকে আশা, নিরাময় এবং ভেতরের শক্তি জোগানোর উদ্দেশ্যেই তিনি গানটি লিখেছিলেন। কিন্তু আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণার বার্তাবাহী সেই গানকে ধ্বংস ও সহিংসতার পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা এর মূল ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর ভাষায়, তাঁর সঙ্গীত মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য, যুদ্ধকে উদযাপন করার জন্য নয়।
অন্যান্য শিল্পীদেরও প্রতিবাদ
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন প্রচারণামূলক ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহারের ঘটনায় কেটি পেরিই প্রথম প্রতিবাদ জানাননি। এর এক মাস আগে মার্কিন অভিবাসন বিভাগের গ্রেপ্তার অভিযানসংক্রান্ত একটি ভিডিওতে নিজের ‘বাই’ গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্দে। ভিডিওটির মন্তব্যে তিনি একে ‘বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য বাজে কথা’ বলে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরব হন পাঁচবারের গ্র্যামিজয়ী শিল্পী সিজা এবং গায়িকা সাবরিনা কার্পেন্টার।
সিজা অভিযোগ করেন, শিল্পীদের উসকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনা খরচে প্রচারণা পাওয়ার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে, নিজের ‘জুনো’ গানটি অভিযানের ভিডিওতে ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে সাবরিনা কার্পেন্টার একে ‘অমানবিক এজেন্ডা’ বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র: মানবজমিন

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
নিজের জনপ্রিয় গান সামরিক হামলার ভিডিওর আবহ সংগীত হিসেবে ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে তাঁর বিশ্বখ্যাত ‘ফায়ারওয়ার্ক’ গানটি ব্যবহার করা হয়, যা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে গানটির অননুমোদিত ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেটি পেরি বলেন, তাঁর সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যকে এতে বিকৃত করা হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের একটি ভিডিওতে ২০১০ সালে প্রকাশিত কেটি পেরির জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ যুক্ত করে টিকটকে পোস্ট দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে’। ভিডিওতে বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্যের সঙ্গে গানটির ‘বুম, বুম, বুম’ অংশের সময় মিলিয়ে উপস্থাপন করা হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় কেটি পেরি লিখেছেন, হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে সামরিক হামলার ভিডিওর পেছনের সংগীত হিসেবে ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার দেখে তিনি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, এ ব্যবহারের জন্য তাঁর অনুমতি নেওয়া হয়নি, তাঁকে এ বিষয়ে জানানোও হয়নি এবং তিনি কোনোভাবেই এ ব্যবহারের সমর্থন করেন না।
তিনি আরও বলেন, জীবনের কঠিন সময় পার করা মানুষকে আশা, নিরাময় এবং ভেতরের শক্তি জোগানোর উদ্দেশ্যেই তিনি গানটি লিখেছিলেন। কিন্তু আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণার বার্তাবাহী সেই গানকে ধ্বংস ও সহিংসতার পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা এর মূল ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর ভাষায়, তাঁর সঙ্গীত মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য, যুদ্ধকে উদযাপন করার জন্য নয়।
অন্যান্য শিল্পীদেরও প্রতিবাদ
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন প্রচারণামূলক ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহারের ঘটনায় কেটি পেরিই প্রথম প্রতিবাদ জানাননি। এর এক মাস আগে মার্কিন অভিবাসন বিভাগের গ্রেপ্তার অভিযানসংক্রান্ত একটি ভিডিওতে নিজের ‘বাই’ গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্দে। ভিডিওটির মন্তব্যে তিনি একে ‘বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য বাজে কথা’ বলে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরব হন পাঁচবারের গ্র্যামিজয়ী শিল্পী সিজা এবং গায়িকা সাবরিনা কার্পেন্টার।
সিজা অভিযোগ করেন, শিল্পীদের উসকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনা খরচে প্রচারণা পাওয়ার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে, নিজের ‘জুনো’ গানটি অভিযানের ভিডিওতে ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে সাবরিনা কার্পেন্টার একে ‘অমানবিক এজেন্ডা’ বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র: মানবজমিন

আপনার মতামত লিখুন