ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত, চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত, চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত, চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ভারত। নয়াদিল্লি এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির লোকসভা ও রাজ্যসভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত পরিমিত ও হিসাব-নিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি অনুসরণ করে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে দিল্লি।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে টেলিফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের জন্য এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে কমিটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়েও ভারতের অবস্থান প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তার ভারতে অবস্থান মানবিক বিবেচনা এবং ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের সংসদীয় কমিটি। প্রতিবেদনে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, ২০২৫ সালের মার্চে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের চুক্তি। দ্বিতীয়ত, ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি চীনের সহায়তায় উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, পেকুয়ায় চীনের সহায়তায় নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটি নিয়েও উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কমিটি ভারত সরকারকে বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হচ্ছে এবং এর নবায়নকে দুই দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আলোচনা করে সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য, ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ভারত সরকার।

সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও আগস্টে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে কমিটি। ২০২৪ সালের আগস্টে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে ভারতীয় কর্মীদের প্রত্যাহার করায় ভিসা কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসাসংক্রান্ত। দীর্ঘদিন সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম চলায় দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কেও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ ও ৬ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২৩তম এলওসি পর্যালোচনা বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রাক-বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকা ১২টি প্রকল্প বাতিল করা হয়। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে আটটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কমিটির মতে, এসব প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর মোট ২ হাজার ৪৪৬টি হামলার তথ্য তাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ভারত কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কমিটির মতে, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

বাণিজ্য প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) অনুযায়ী ভারতে অধিকাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা ভোগ করছে। তবে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এই সুবিধা শেষ হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আলোচনা দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

প্রতিবেদনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত, চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ভারত। নয়াদিল্লি এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির লোকসভা ও রাজ্যসভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত পরিমিত ও হিসাব-নিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি অনুসরণ করে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে দিল্লি।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে টেলিফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের জন্য এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে কমিটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়েও ভারতের অবস্থান প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তার ভারতে অবস্থান মানবিক বিবেচনা এবং ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের সংসদীয় কমিটি। প্রতিবেদনে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, ২০২৫ সালের মার্চে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের চুক্তি। দ্বিতীয়ত, ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি চীনের সহায়তায় উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, পেকুয়ায় চীনের সহায়তায় নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটি নিয়েও উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কমিটি ভারত সরকারকে বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হচ্ছে এবং এর নবায়নকে দুই দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আলোচনা করে সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য, ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ভারত সরকার।

সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও আগস্টে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে কমিটি। ২০২৪ সালের আগস্টে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে ভারতীয় কর্মীদের প্রত্যাহার করায় ভিসা কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসাসংক্রান্ত। দীর্ঘদিন সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম চলায় দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কেও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ ও ৬ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২৩তম এলওসি পর্যালোচনা বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রাক-বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকা ১২টি প্রকল্প বাতিল করা হয়। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে আটটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কমিটির মতে, এসব প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর মোট ২ হাজার ৪৪৬টি হামলার তথ্য তাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ভারত কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কমিটির মতে, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

বাণিজ্য প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) অনুযায়ী ভারতে অধিকাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা ভোগ করছে। তবে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এই সুবিধা শেষ হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আলোচনা দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

প্রতিবেদনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত, চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
0:00 0:00
1.0x