ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার আবেদন করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকার সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইটসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যায় এবং আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন—নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের অভিযোগ, ওই হামলায় এনসিপির এক কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এনসিপির বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার আবেদন করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকার সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইটসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যায় এবং আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন—নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের অভিযোগ, ওই হামলায় এনসিপির এক কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এনসিপির বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা
0:00 0:00
1.0x