আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঝিনাইদহের হাট-বাজারে ‘ধলতা’ নামে কৃষকদের কাছ থেকে যেসব ব্যাপারী, ফড়িয়া ও মহাজন অতিরিক্ত পণ্য আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের ঠিকানা হবে কারাগার। ধলতার এই প্রথা দ্রুত বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনব্যাপী এবং বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজে হয় খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, নয়তো সরকার থাকবে। মানুষের কাছে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সরকার যে অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ করা হবে।
আইন সংস্কার কমিশনের বিষয়ে তিনি জানান, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর মধ্যে প্রায় সব সংস্কারই গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি নিজে দেশে ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হলে সেটিই ভালো হবে। সরকার আইনের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত, তাহলে জোরপূর্বক মামলা ঠেকানো সম্ভব হতো। তবে তা করা হয়নি। যথাযথ তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাট-বাজারে ‘ধলতা’ নামে বিশেষ করে সবজি চাষিদের কাছ থেকে প্রতি মণে অতিরিক্ত ৪ কেজি পণ্য নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে ১০ মণ সবজি বিক্রি করলেও কৃষকরা ৯ মণের মূল্য পেতেন। শুধু সবজি নয়, মাছ, পাট ও ধানের ক্ষেত্রেও এই সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। জেলা প্রশাসন এতদিন এ বিষয়ে নীরব থাকলেও আইনমন্ত্রীর নির্দেশনার পর শৈলকুপাসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঝিনাইদহের হাট-বাজারে ‘ধলতা’ নামে কৃষকদের কাছ থেকে যেসব ব্যাপারী, ফড়িয়া ও মহাজন অতিরিক্ত পণ্য আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের ঠিকানা হবে কারাগার। ধলতার এই প্রথা দ্রুত বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনব্যাপী এবং বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজে হয় খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, নয়তো সরকার থাকবে। মানুষের কাছে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সরকার যে অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ করা হবে।
আইন সংস্কার কমিশনের বিষয়ে তিনি জানান, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর মধ্যে প্রায় সব সংস্কারই গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি নিজে দেশে ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হলে সেটিই ভালো হবে। সরকার আইনের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত, তাহলে জোরপূর্বক মামলা ঠেকানো সম্ভব হতো। তবে তা করা হয়নি। যথাযথ তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাট-বাজারে ‘ধলতা’ নামে বিশেষ করে সবজি চাষিদের কাছ থেকে প্রতি মণে অতিরিক্ত ৪ কেজি পণ্য নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে ১০ মণ সবজি বিক্রি করলেও কৃষকরা ৯ মণের মূল্য পেতেন। শুধু সবজি নয়, মাছ, পাট ও ধানের ক্ষেত্রেও এই সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। জেলা প্রশাসন এতদিন এ বিষয়ে নীরব থাকলেও আইনমন্ত্রীর নির্দেশনার পর শৈলকুপাসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন