ইসরাইল থেকে দীর্ঘমেয়াদে দেশত্যাগের প্রবণতা টানা তৃতীয় বছরের মতো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইসরাইলি নাগরিক এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করতে পারেন। গবেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তাই এ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। খবর টাইমস অব ইসরাইল।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস)-এর ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ ধারণা দেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলার স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ইতাই আতের, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান নিত্তাই বার্গম্যান এবং গবেষক ডরন জামির।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে অন্তত তিন মাসের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করেছেন ৯০ হাজার ৯২২ জন ইসরাইলি নাগরিক। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৪৯৯ এবং ২০২৩ সালে ছিল ৮৬ হাজার ৫০৯। এ হিসেবে গত তিন বছরে মোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন অন্তত তিন মাসের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন।
গবেষকদের ভাষ্য, অন্তত তিন মাস বিদেশে অবস্থান এবং এক বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকার মধ্যে শক্তিশালী পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছেন, ২০২৫ সালে এক বছরের বেশি সময়ের জন্য ইসরাইল ছাড়তে পারেন ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার নাগরিক।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য বিদেশে যেতেন। তবে সাম্প্রতিক তিন বছরে এ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের একই সময়ে এমন ভ্রমণকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক কম।
গবেষক ইতাই আতের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় কোনো হুমকি নয়। তবে যুদ্ধ, রাজনৈতিক সংকট বা অর্থনৈতিক ধাক্কা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশত্যাগের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। একসময় এ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখান থেকে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল বিরল এক নিট অভিবাসন ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। অর্থাৎ, দেশটিতে নতুন করে বসবাস করতে আসা মানুষের তুলনায় দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শ্রমবাজার, অর্থনীতি এবং জাতীয় সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণা প্রকাশের পর বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডেমোক্র্যাটস পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভ দাবি করেন, রেকর্ডসংখ্যক নাগরিকের দেশত্যাগ ইসরাইলের ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
ইসরাইল থেকে দীর্ঘমেয়াদে দেশত্যাগের প্রবণতা টানা তৃতীয় বছরের মতো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইসরাইলি নাগরিক এক বছরের বেশি সময়ের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করতে পারেন। গবেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তাই এ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। খবর টাইমস অব ইসরাইল।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস)-এর ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ ধারণা দেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলার স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ইতাই আতের, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান নিত্তাই বার্গম্যান এবং গবেষক ডরন জামির।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে অন্তত তিন মাসের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করেছেন ৯০ হাজার ৯২২ জন ইসরাইলি নাগরিক। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৪৯৯ এবং ২০২৩ সালে ছিল ৮৬ হাজার ৫০৯। এ হিসেবে গত তিন বছরে মোট ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন অন্তত তিন মাসের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন।
গবেষকদের ভাষ্য, অন্তত তিন মাস বিদেশে অবস্থান এবং এক বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকার মধ্যে শক্তিশালী পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছেন, ২০২৫ সালে এক বছরের বেশি সময়ের জন্য ইসরাইল ছাড়তে পারেন ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার নাগরিক।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য বিদেশে যেতেন। তবে সাম্প্রতিক তিন বছরে এ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের একই সময়ে এমন ভ্রমণকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক কম।
গবেষক ইতাই আতের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় কোনো হুমকি নয়। তবে যুদ্ধ, রাজনৈতিক সংকট বা অর্থনৈতিক ধাক্কা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশত্যাগের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। একসময় এ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখান থেকে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল বিরল এক নিট অভিবাসন ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। অর্থাৎ, দেশটিতে নতুন করে বসবাস করতে আসা মানুষের তুলনায় দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শ্রমবাজার, অর্থনীতি এবং জাতীয় সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণা প্রকাশের পর বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডেমোক্র্যাটস পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভ দাবি করেন, রেকর্ডসংখ্যক নাগরিকের দেশত্যাগ ইসরাইলের ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

আপনার মতামত লিখুন