নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে এরই মধ্যে ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। এ ঘটনায় সিবিআই তদন্তও করছে। সম্প্রতি তদন্তে ৯৪ পাতার একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের চাপের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ডেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই এক আইএএস কর্মকর্তার জামিন আবেদন খারিজ করে হাই কোর্টের দেওয়া এই পর্যবেক্ষণকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকে।
২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছত্তীসগঢ় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (সিজিপিএসসি) পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে সিবিআই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আইএএস জীবনকিশোর ধ্রুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত হলেও অভিযোগের সময় সিজিপিএসসির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই সময় তার ছেলে পিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসেবে নিয়োগ পান। তদন্তকারীদের দাবি, জীবনকিশোর ধ্রুব নিজেই ছেলের হাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলে দিয়েছিলেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জীবনকিশোর। তার দাবি, ওই সময়ে পিএসসির সচিবের দায়িত্বে থাকার কারণেই তাকে মামলায় টার্গেট করা হয়েছে। এই যুক্তিতে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি।
বিচারপতি বিভু দত্ত গুরু মামলাটির শুনানি শেষে গত ৩১ জুলাই রায় ঘোষণা স্থগিত রাখেন। বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করে তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন যারা ফাঁস করেন কিংবা ফাঁসের চেষ্টা করেন, তারা লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবন নিয়ে ছেলেখেলা করেন। এ ধরনের অপরাধকে খুনের চেয়েও ভয়াবহ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন মানুষকে হত্যা করলে তার প্রভাব মূলত একটি পরিবারের ওপর পড়ে। কিন্তু একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর পরোক্ষ প্রভাব সমাজের ওপরও পড়ে।
এ কারণে আইএএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে কোনোভাবেই ‘সাধারণ’ অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত।

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে এরই মধ্যে ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। এ ঘটনায় সিবিআই তদন্তও করছে। সম্প্রতি তদন্তে ৯৪ পাতার একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের চাপের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ডেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই এক আইএএস কর্মকর্তার জামিন আবেদন খারিজ করে হাই কোর্টের দেওয়া এই পর্যবেক্ষণকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকে।
২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছত্তীসগঢ় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (সিজিপিএসসি) পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে সিবিআই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আইএএস জীবনকিশোর ধ্রুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত হলেও অভিযোগের সময় সিজিপিএসসির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই সময় তার ছেলে পিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসেবে নিয়োগ পান। তদন্তকারীদের দাবি, জীবনকিশোর ধ্রুব নিজেই ছেলের হাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলে দিয়েছিলেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জীবনকিশোর। তার দাবি, ওই সময়ে পিএসসির সচিবের দায়িত্বে থাকার কারণেই তাকে মামলায় টার্গেট করা হয়েছে। এই যুক্তিতে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি।
বিচারপতি বিভু দত্ত গুরু মামলাটির শুনানি শেষে গত ৩১ জুলাই রায় ঘোষণা স্থগিত রাখেন। বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করে তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন যারা ফাঁস করেন কিংবা ফাঁসের চেষ্টা করেন, তারা লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবন নিয়ে ছেলেখেলা করেন। এ ধরনের অপরাধকে খুনের চেয়েও ভয়াবহ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন মানুষকে হত্যা করলে তার প্রভাব মূলত একটি পরিবারের ওপর পড়ে। কিন্তু একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর পরোক্ষ প্রভাব সমাজের ওপরও পড়ে।
এ কারণে আইএএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে কোনোভাবেই ‘সাধারণ’ অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত।

আপনার মতামত লিখুন